Don't Miss
Home / জাতীয় / ফারাক্কার ৫০ বছর: পানি, প্রকৃতি ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে নতুন করে আলোচনায় লংমার্চের চেতনা

ফারাক্কার ৫০ বছর: পানি, প্রকৃতি ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে নতুন করে আলোচনায় লংমার্চের চেতনা

এমএনএ প্রতিবেদক

ফারাক্কা লংমার্চের সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে আয়োজিত এক ওয়েবিনারে বক্তারা বলেছেন, অর্ধশতক পেরিয়েও ফারাক্কা ইস্যু বাংলাদেশের পানি নিরাপত্তা, পরিবেশ, কৃষি ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। তারা মনে করেন, মওলানা ভাসানীর নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত ঐতিহাসিক ফারাক্কা লংমার্চ কেবল একটি রাজনৈতিক কর্মসূচি ছিল না; এটি ছিল নদী, প্রকৃতি ও জনগণের অধিকার রক্ষার সংগ্রাম।

“ফারাক্কা লংমার্চ-প্রাণ প্রকৃতি পালনবাদ” শীর্ষক এই অনলাইন আলোচনা সভার আয়োজন করে ভাসানী পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটি। বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত ওয়েবিনারে বক্তারা বলেন, ভারত নির্মিত ফারাক্কা বাঁধের প্রভাব এখনো বাংলাদেশের নদী, কৃষি ও জীববৈচিত্র্যের ওপর গভীর প্রভাব ফেলছে। ফলে ফারাক্কা লংমার্চের চেতনাকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়া সময়ের দাবি।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ভাসানী পরিষদের অন্যতম উপদেষ্টা ও গেরিলা লিডার ড. শফিকুল ইসলাম কানু। কি-নোট উপস্থাপন করেন প্রফেসর ড. মুহাম্মদ আজাদ খান এবং প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন ড. মো. শাহেদুল ইসলাম। এছাড়া বক্তব্য রাখেন সংগঠনের আহ্বায়ক কাজী ইফতিখার হোসেন, সদস্য সচিব আজাদ খান ভাসানী, যুগ্ম সদস্য সচিব ইমরান হোসেন এবং মুখপাত্র আজম অলিউল্লাহ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ভাসানী পরিষদের যুগ্ম মুখ্য সংগঠক রাকিবুল হাসান রানা

বক্তারা বলেন, ফারাক্কা বাঁধ ঘিরে দীর্ঘদিনের পানি বণ্টন সংকট বাংলাদেশের উত্তর ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নদীপ্রবাহ, কৃষি উৎপাদন, মৎস্যসম্পদ এবং পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। তাদের ভাষায়, ফারাক্কা লংমার্চ ছিল এই অন্যায্য পানি প্রত্যাহারের বিরুদ্ধে জনগণের প্রতিবাদের প্রতীক।

কি-নোট উপস্থাপক ড. মুহাম্মদ আজাদ খান পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পের বাস্তবতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, প্রকৃতির স্বাভাবিক প্রবাহে অতিরিক্ত হস্তক্ষেপ মওলানা ভাসানীর “প্রাণ-প্রকৃতি পালনবাদ” দর্শনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তিনি বলেন, নদীর স্বাভাবিক গতিপথ ও পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা না করে উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করলে তা দীর্ঘমেয়াদে মানুষের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

প্রধান আলোচক ড. মো. শাহেদুল ইসলাম বলেন, “নদীরও প্রাণ আছে”—এই ধারণা আজ বিশ্বব্যাপী আলোচিত হলেও মওলানা ভাসানী বহু আগেই ফারাক্কা লংমার্চের মাধ্যমে সেই বাস্তবতা তুলে ধরেছিলেন। তার মতে, জলবায়ু পরিবর্তন ও আন্তঃসীমান্ত নদী সংকটের এই সময়ে ফারাক্কা প্রশ্ন আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

আহ্বায়ক কাজী ইফতিখার হোসেন বলেন, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকটের প্রেক্ষাপটে মওলানা ভাসানীর সাম্রাজ্যবাদ ও আধিপত্যবাদবিরোধী রাজনৈতিক দর্শন নতুনভাবে প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে। সদস্য সচিব আজাদ খান ভাসানী বলেন, ফারাক্কা লংমার্চের চেতনা ধারণ করেই বাংলাদেশকে একটি ন্যায়ভিত্তিক ও স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে এগিয়ে নিতে হবে।

সভাপতির বক্তব্যে ড. শফিকুল ইসলাম কানু বলেন, মওলানা ভাসানী কেবল বাংলাদেশের নয়, বিশ্বের নির্যাতিত মানুষের কণ্ঠস্বর ছিলেন। ফারাক্কা লংমার্চের মাধ্যমে তিনি যে প্রতিরোধের পথ দেখিয়েছিলেন, তা ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের রাজনীতিতেও প্রেরণা হয়ে থাকবে।

ওয়েবিনারের বক্তারা ফারাক্কা লংমার্চের ইতিহাস ও চেতনাকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার আহ্বান জানান। তারা বলেন, নদী ও প্রকৃতির অধিকার রক্ষা, ন্যায্য পানি বণ্টন নিশ্চিত করা এবং জাতীয় স্বার্থ অক্ষুণ্ণ রাখার সংগ্রামে ফারাক্কা লংমার্চ আজও এক গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক অনুপ্রেরণা।

x

Check Also

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের নতুন মহাপরিচালক মুফতি মুহিববুল্লা হিল বাকী

এমএনএ প্রতিবেদক সরকার জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ–এর পেশ ইমাম মুফতি মুহাম্মদ মুহিববুল্লা হিল ...