এমএনএ রাজনীতি ডেস্কঃ বিএনপিসহ বিরোধী দলগুলোর ভারতবিরোধী বক্তব্য পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। গত কয়েকদিন যাবত ঢাকার রাজনীতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে নয়াদিল্লী। একই সঙ্গে বাংলাদেশের ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও রাজপথের প্রধান বিরোধীদল বিএনপিসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোর কর্মকাণ্ডের প্রতি বিশেষ নজর রাখছে ভারত সরকার। বিএনপিকেও ভারত সরকার বা সেখানকার ক্ষমতাসীন দল বিজেপি আমন্ত্রণ জানাতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র দাবি করেছে। এদিকে ভারতীয় গণমাধ্যম আনন্দবাজার ও দ্য হিন্দু পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনকে কেন্দ্র করে উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে ঢাকায়।
গত শুক্রবার ও শনিবার পত্রিকা দুটির বিশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন শেখ হাসিনা সরকার দুর্বল হলে তা ভারত এবং যুক্তরাষ্ট্র কারও জন্যই সুখকর হবে না বলে মনে করে নয়াদিল্লি। একাধিক স্তরের বৈঠকে নয়াদিল্লি এ কথা বাইডেন প্রশাসনকে জানিয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয় খবরে। যার রেশ পড়ে গত শুক্রবার সরকার পতনের এক দফা দাবিতে অনুষ্ঠিত গণমিছিল কর্মসূচিতে বিএনপি ও যুগপতে যুক্ত একাধিক দলের প্রভাবশালী নেতারা ‘ভারত ইস্যুতে’ বক্তব্য রাখেন। বক্তব্যে তারা প্রতিবেশী দেশের প্রতি অনাস্থার কথা জানিয়েছেন।
বিএনপি ও যুগপতে যুক্ত দলগুলোর কোনো কোনো নেতা মনে করছেন, একটি পত্রিকার প্রতিবেদনকে কেন্দ্র করে ভারত সরকারের প্রতি বিএনপি ও যুগপতে যুক্ত নেতাদের দৃশ্যমান অবস্থানের পেছনে ‘জনতুষ্টিমূলক কৌশল’ থাকতে পারে। আদতে এই প্রকাশিত প্রতিবেদনের মধ্য দিয়ে ভারত সরকারের প্রকৃত অবস্থা উঠে আসেনি। বরং বাস্তবতা বলছে ভিন্নকথা। গত শুক্রবার ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি আয়োজিত
গণমিছিলের আগে সমাবেশে দলটির স্থায়ী কমিটির অন্যতম সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ভারত সরকারকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকারের পক্ষে অবস্থান না নিয়ে নিজেদের ঘর সামাল দিন। নিজের ঘর সামলান, পরের ঘরে মাতবরি করা থামিয়ে দিন। ১৮ কোটি মানুষ যেখানে আছে, সেখানে শেখ হাসিনার টিকিয়ে রাখার জন্য কারও মাতবরি টিকে না।
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের উপস্থিতিতে একই কর্মসূচিতে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, পার্শ্ববর্তী দেশের একটি পত্রিকার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে দিল্লির কূটনীতিকরা আমেরিকাকে বলছে, শেখ হাসিনাকে সরালে ভারত ও আমেরিকার লাভ হবে না। ভারতের কূটনীতিকদের বলি শেখ হাসিনা গোটা দেশটাকে কলোনিতে পরিণত করেছে। এখানে আমাদের কথা বলা, স্বাধীনতা ও কোনো অধিকারই নেই।’
যুগপতে যুক্ত গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর বলেন, ‘ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক চাই। ভারত কি আমাদের প্রতি ন্যায্যবিচার করেছে? আমরা বারবার বলেছি সম্পর্ক কখনও একপাক্ষিক হয় না। যুদ্ধাপরাধের বিচার ভারতের প্রেসক্রিপশনে হয়েছে। এটা কী আর বোঝার বাকি আছে?
বিএনপির একাধিক প্রভাবশালী নেতারা বলছেন, কেবল একটি বা দুটি পত্রিকার প্রতিবেদন দিয়ে একটি দেশের গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানকে স্পষ্ট করার কোনো সুযোগ নেই। দলের যেসব নেতা ভারত ইস্যুতে বিরোধিতা করেন, তাদের বক্তব্যের মধ্য দিয়েও বিএনপিকে যাচাই করা সঠিক হবে না। দলের স্থায়ী কমিটির এক সদস্য উল্লেখ করেন, ভারত বিগত নির্বাচনের মতো আগামী নির্বাচনে প্রকাশ্যে কোনো অবস্থান নেবে না। এমনকি তাদের অবস্থান আসলে কী হবে, সেটাও এখনও চ‚ড়ান্ত করেনি দেশটির সরকার। এক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে তারা নানাভাবে যোগাযোগ করছে। এরই অংশ হিসেবে ভারত সফরে আছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের। সেখানে নির্বাচনকালীন সরকার নিয়েও আলোচনা হয় বলেও জানান দ্যা হিন্দি পত্রিকা। ‘জি এম কাদেরের কাছ থেকে বাংলাদেশ ইস্যুতে কথা শুনতে চেয়েছে প্রতিবেশী দেশের কনসার্নরা। বিগত সময়ে ভারতের দায়িত্বশীলদের কেউ কেউ নির্বাচনি তৎপরতায় প্রকাশ্যে অবস্থান নিলেও এবার সে রকম কোনো পরিস্থিতি দেখা যায়নি।’
মোহাম্মদী নিউজ এজেন্সী নিউজ – ফিচার – ফটো নেটওয়ার্ক

