সরকারি ব্যবস্থাপনায় দেশের সড়কপথে বাস চলে বিআরটিসির মাধ্যমে। নীতিনির্ধারকদের নীতিবহির্ভূত কিছু সিদ্ধান্ত ও অব্যবস্থাপনায় আজ সংস্থাটি দৈনদশায় ডুবতে বসেছে। দেশের স্বার্থে প্রতিষ্ঠানটিকে ঢেলে সাজানো জরুরি হয়ে পড়েছে।
ঢাকার রাস্তায় শুধু নয়, সারা দেশেই বেসরকারি বা ব্যক্তিমালিকানাধীন বাস কম্পানি লাভবান হচ্ছে। নতুন নতুন বাস কম্পানি গড়ে উঠছে। পুরনো কম্পানিগুলো বিভিন্ন রুটে তাদের বাসের সংখ্যা বাড়াচ্ছে। অন্যদিকে বিআরটিসির বাস কমছে। রাজধানীর বিভিন্ন ডিপোতে নষ্ট বাসের সংখ্যা বাড়ছে। নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর মতো অবস্থায় নেই প্রতিষ্ঠানটি। বাসের সংখ্যা বৃদ্ধি দূরে থাক, বিভিন্ন রুট থেকে বাস তুলে নিচ্ছে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন এই পরিবহন সংস্থাটি। বিভিন্ন সময়ে বিদেশি ঋণের টাকায় নতুন বাস এনে রাস্তায় নামানো হলেও উপযুক্ত রক্ষণাবেক্ষণ না থাকায় অধিকাংশ বাস বিকল হয়ে পড়ে আছে। অনেক বাস আনা হয়েছে নিছকই শখের বসে।
বিআরটিসিকে নিয়ে ষড়যন্ত্র নতুন নয়। ২০০৩ সালের আগে দেশের ২৫০টি রুটে বিআরটিসির বাস চলাচল করত। এখন রুট অনেক বাড়লেও আন্তজেলা বাস যোগাযোগে বিআরটিসি কোনো ভূমিকা রাখতে পারছে না। রাজধানীর নগর পরিবহন ব্যবস্থায় আগে বিআরটিসির বাস সার্ভিস চালু ছিল। এখন অনেক রুটেই বিআরটিসির বাস চলতে দেখা যায় না। যেসব রুটে বিআরটিসির বাস সার্ভিস চালু আছে, সেখানেও গাড়ির সংখ্যা অপ্রতুল। বাধ্য হয়েই যাত্রীদের নির্ভর করতে হচ্ছে বেসরকারি মালিকানাধীন বাসের ওপর। বাড়তি ভাড়ার চাপ সইতে হচ্ছে। অথচ বিআরটিসির বাস সার্ভিস চালু থাকলে প্রতিযোগিতা থাকত। বিআরটিসির বাস না থাকায় বেসরকারি বাস মালিকদের নির্ধারণ করা ভাড়া গুনতে হচ্ছে যাত্রীদের। অন্যদিকে মেরামতের নামে কারখানা বা ডিপোতে ঢুকিয়ে বিআরটিসির বাস নষ্ট করা হচ্ছে। অনেক ঢাকঢোল পিটিয়ে যে আরামদায়ক দ্বিতল ভলভো বাস আনা হয়েছিল, সেগুলো এখন আর রাস্তায় দেখা যায় না। ৫০টি ভলভো বাসের ৪৮টিই নষ্ট। এসব বাস মেরামত করার কোনো উদ্যোগ নেই। আগে রাজধানীর বিভিন্ন রুটে চলত বিআরটিসির দ্বিতল বাস। এসব বাস সাধারণ বাসের তুলনায় দ্বিগুণ যাত্রী বহন করতে পারে। কিন্তু অধিকাংশ রুটের বাসই বন্ধ হয়ে আছে। অন্যগুলো অনেকটাই খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে। আগে থেকে কোনো পরিকল্পনা না করেই আনা হয়েছিল জোড়াবাস, যার গালভরা নাম ‘আর্টিকুলেটেড বাস’। এই জোড়াবাস চলার মতো রাস্তা ঢাকায় আছে কি না, ঢাকার রাস্তার মোড়গুলো এসব বাস চলাচলের উপযোগী কি না, তা আগে থেকে বিবেচনা করে দেখা হয়নি। ফলে দেখা গেছে, এসব বাসের অধিকাংশই এখন রাস্তা থেকে উঠে গেছে। ঠাঁই হয়েছে মেরামত কারখানায়। কিন্তু মেরামতের নামে সেখানে চলছে টাকার হরিলুট। আবার মেরামতের নামে ফেলে রেখেও অনেক বাস মেরামতের অযোগ্য করে ফেলা হচ্ছে।
রাজধানীতে যাত্রী পরিবহন স্বাভাবিক করতে নতুন বাস প্রয়োজন। সে ক্ষেত্রে বিআরটিসিকে পরিকল্পনামাফিক নতুন করে সাজিয়ে বাস রাস্তায় নামানো যেতে পারে। কিন্তু তার আগে বিআরটিসি থেকে দুর্নীতি দূর করতে হবে। আমরা আশা করব, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিআরটিসির দৈন্য ঘুচিয়ে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন এই পরিবহন সংস্থাটিকে ঢেলে সাজাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।
-সম্পাদক
মোহাম্মদী নিউজ এজেন্সী নিউজ – ফিচার – ফটো নেটওয়ার্ক


