বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস আজ
Posted by: News Desk
October 10, 2017
এমএনএ ডেস্ক রিপোর্ট : বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস আজ। ১০ অক্টোবর মঙ্গলবার বিশ্বের অন্যান্য দেশের ন্যায় বাংলাদেশে এ দিবস পালিত হবে। এবারের বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবসের প্রতিপাদ্য বিষয় ‘কর্মস্থলে মানসিক স্বাস্থ্য’। দিবসটি উপলক্ষে দিনব্যাপী কর্মসূচি গ্রহণ করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র-নির্দেশনা ও পরামর্শদান দফতর এবং এডুকেশনাল ও কাউন্সেলিং সাইকোলজি বিভাগের যৌথ উদ্যোগে মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টায় ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের সম্মুখ চত্বরে দিনব্যাপী একটি স্টলের উদ্বোধন করবেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান।
বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগ, নাসিরুল্লাহ সাইকোথেরাপি ইউনিট, বাংলাদেশ ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি সোসাইটি এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যৌথ উদ্যোগে মঙ্গলবার সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজনেস স্টাডিজ অনুষদের কনফারেন্স হলে ‘মানসিকভাবে সুখী ও সমৃদ্ধ থাকার উপায়’, ‘কর্মস্থলে মানসিক চাপ ও নিয়ন্ত্রণ’ এবং ‘ক্লিনিক্যাল নিউরোসাইকোলজি ইন মেন্টাল হেলথ’ শীর্ষক ৩টি ওয়ার্কশপ অনুষ্ঠিত হবে ।
বিকেল ৩টা থেকে সাড়ে ৫টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে ‘বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে কর্মস্থলে মানসিক স্বাস্থ্য’ শীর্ষক বিশেষ সেমিনার। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. নাসরীন আহমাদের সভাপতিত্বে সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব নাছিমা বেগম।
বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস উপলক্ষে পৃথক বাণী দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ তার দেওয়া বাণীতে বলেছেন, স্বাস্থ্য একটি সমন্বিত বিষয় এবং সুস্বাস্থ্যের জন্য মানসিক স্বাস্থ্য অপরিহার্য। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও মানসিক রোগের প্রকোপ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এটি প্রতিরোধে শরীরের মতো মনেরও যত্ন নেয়া প্রয়োজন। কর্মক্ষেত্রে শারীরিক স্বাস্থ্যের পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
তিনি বলেন, আর্থসামাজিক নানা কারণে বিশ্বব্যাপী বিষণ্নতা ও উদ্বেগ বৃদ্ধি পাচ্ছে যা মানসিক স্বাস্থ্য অবনতির অন্যতম কারণ হিসেবে বিবেচিত। গ্রামাঞ্চলে মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে জনগণের মধ্যে ভুল ধারণা রয়েছে। অনেকে মানসিক রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিকে বিজ্ঞানসম্মত চিকিৎসা না দিয়ে ঝাঁড়ফুঁক বা তাবিজ-কবজের আশ্রয় নেন।
তিনি আরও বলেন, কর্মক্ষেত্রে মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নয়নে সকলের সমন্বিত উদ্যোগের বিকল্প নেই। কর্মক্ষেত্রে মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নয়নে স্বাস্থ্যসম্মত ও কর্মবান্ধব পরিবেশ, প্রয়োজনীয় ছুটি ও বিনোদনের সুযোগ, ধারাবাহিক ঝুঁকিপূর্ণ ও চাপযুক্ত কাজ পরিহারসহ সুষম খাদ্য গ্রহণ জরুরি। সকল ধরনের মানসিক রোগের সময়মত বিজ্ঞানসম্মত চিকিৎসা গ্রহণের জন্য রাষ্ট্রপতি সকলের প্রতি আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার দেওয়া বাণীতে বলেন, মানসিক রোগ একটি গুরুত্বপূর্ণ অসংক্রামক ব্যাধি। দেশে মানসিক রোগের কারণে ব্যক্তিগত, পারিবারিক, পেশাগত ও সামাজিক জীবন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বর্তমান সরকার মানসিক স্বাস্থ্যসেবাসহ সকল ধরণের স্বাস্থ্যসেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে এবং মানসিক রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির অধিকার ও সুযোগের সমতা বিধানে বদ্ধপরিকর।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকার ২০০১ সালে ঢাকার শেরে বাংলা নগরে জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করে। যা ছিল মানসিক স্বাস্থ্য সেবার অগ্রগতিতে একটি মাইলফলক। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে এ প্রতিষ্ঠানটি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মানসিক স্বাস্থ্যসেবা, মানসিক রোগ চিকিৎসা ও গবেষণার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।
তিনি আরও বলেন, সরকার মানসিক স্বাস্থ্যসেবাকে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার সঙ্গে সম্পৃক্ত করেছে। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সরকারি ও বেসরকারি প্রতিটি কর্মস্থল মানসিক স্বাস্থ্যবান্ধব হয়ে উঠবে এবং দেশের প্রতিটি জনগণ সুস্থ শরীর ও সুস্থ মন নিয়ে দেশের অগ্রগতিতে ভূমিকা রাখবেন বলে প্রধানমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
স্বাস্থ্য আজ দিবস বিশ্ব মানসিক 2017-10-10