Don't Miss
Home / হোম স্লাইডার / ভারি বর্ষণে কঠিন বিপর্যয়ে চার পার্বত্য জেলা
পার্বত্য

ভারি বর্ষণে কঠিন বিপর্যয়ে চার পার্বত্য জেলা

এমএনএ আঞ্চলিক ডেস্কঃ টানা ভারি বর্ষণে বান্দরবানের মাতামুহুরী ও সাঙ্গু নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে দুই হাজারেরও বেশি ঘরবাড়ি প্লাবিত হয়েছে। এ ছাড়াও রাঙ্গামাটিতে টানা ভারি বর্ষণে পাহাড় ধসে ৩৮১টি বসতঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ সময় ভারি বর্ষণে বাঘাইছড়ি, জুরাছড়ি, বিলাইছড়ি ও বরকল উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় প্রায় ৩০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

এদিকে কক্সবাজারের চকরিয়া ও পেকুয়ায়ও বন্যা দেখা দিয়েছে। এতে তিন উপজেলার প্রায় সাড়ে ৫ লাখ মানুষ এখন পানিবন্দি অবস্থায় জীবনযাপন করছেন। মঙ্গলবার স্থানীয় প্রশাসন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। কক্সবাজার সদর উপজেলার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। অভ্যন্তরীণ সড়কগুলো কয়েক ফুট পানির নিচে তলিয়ে গেছে। সরকারি-বেসরকারি অফিস, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় রান্নাবান্না করতে না পারায় খাবার ও বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকটে পড়েছেন এলাকার মানুষ।

রাঙ্গামাটি: টানা ভারি বর্ষণে পাহাড়ধসে ৩৮১টি বসতঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ সময় আহত হয়েছেন প্রায় ১০ জন। গতকাল সকালে ভারি বর্ষণে বাঘাইছড়ি, জুরাছড়ি, বিলাইছড়ি ও বরকল উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় প্রায় ৩০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। রাঙ্গামাটির অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘জেলায় এ পর্যন্ত ২৩৫ স্থানে পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে। ৩৮১টি বসতঘর ধসে গেছে। ২৪২টি আশ্রয়কেন্দ্রে সাড়ে তিন হাজার মানুষ অবস্থান করছে। পাহাড়ধসে প্রাণহানি না হলেও আহত হয়েছেন ১০ জন।’

বান্দরবান: ভারি বর্ষণ অব্যাহত থাকায় পাহাড়ধসের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে বান্দরবানে। সাঙ্গু নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় জেলা শহরে নদীর তীরবর্তী, অফিসার্স ক্লাব, ইসলামপুর, আর্মিপাড়া এলাকাসহ নিচু এলাকাসমূহে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে পাহাড়ধসের কারণে পর্যটকবাহী গাড়ি বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। আলীকদম উপজেলা চেয়ারম্যান আবুল কালাম জানান, মাতামুহুরী নদীর পানিতে চৈক্ষ্যং ইউপি পরিষদ এলাকার সড়ক প্লাবিত হয়ে আলীকদমে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে।

বান্দরবান জেলা প্রশাসক শাহ্ মোজাহিদ উদ্দিন জানান, কয়েক দিন ধরে ভারি বৃষ্টিপাত শুরু হওয়ায় জেলার বিভিন্ন স্থানে পাহাড়ধসের আশঙ্কা রয়েছে। তাই প্রশাসনের পক্ষ থেকে জনগণকে নিরাপদে সরে গিয়ে আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থানের অনুরোধ জানানো হচ্ছে। ইতোমধ্যে বান্দরবান জেলায় সর্বমোট ১৯৩টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে।

এদিকে, ভারি বৃষ্টিতে রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার বাঘাইহাট সাজেক সড়কের নিচু অঞ্চল ও মাচালং সেতু প্লাবিত হয়েছে। ফলে যানচলাচল বন্ধ থাকায় সাজেকে আটকা পড়েছে দেড় শতাধিক পর্যটক। এ ছাড়াও মারিশ্যা দিঘীনালা সড়কের বলপেইয়া আদাম এলাকায় পাহাড়ধসে উপজেলা সদরের সঙ্গেও যানচলাচল বন্ধ রয়েছে। মঙ্গলবার বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার রুমানা আক্তার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। ইতোমধ্যে সড়কের মাটি সরাতে কাজ করছে বাঘাইছড়ি থানার উদ্ধারকারী টিম ও যুব রেডক্রিসেন্টের সদস্যরা।

স্থানীয়রা জানান, বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় বাঘাইছড়ির অনেক এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে ফসল ও মাছের খামারিদের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে সহস্রাধিক পাহাড়ি বাঙালি পরিবার। এ ছাড়াও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে খোলা হয়েছে ৪৬টি আশ্রয়কেন্দ্র। ইতোমধ্যে অনেক পরিবার আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান নিয়েছে। বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার রুমানা আক্তার জানান, সড়ক যোগাযোগ স্বাভাবিক হতে কয়েক দিন সময় লাগবে। বাঘাইছড়ি পৌর মেয়র জমির হোসেন জানান, আমরা আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে খাবারের ব্যবস্থা করেছি।

কক্সবাজার: টানা ভারি বর্ষণ ও মাতামুহুরী নদীতে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানিতে বান্দরবানের লামা, কক্সবাজারের চকরিয়া ও পেকুয়ায় বন্যা দেখা দিয়েছে। এতে তিন উপজেলার প্রায় সাড়ে ৫ লাখ মানুষ এখন পানিবন্দি অবস্থায় জীবনযাপন করছেন। এ ছাড়াও কক্সবাজার সদর উপজেলার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। অভ্যন্তরীণ সড়কগুলো কয়েক ফুট পানির নিচে তলিয়ে গেছে। সরকারি-বেসরকারি অফিস, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় রান্নাবান্না করতে না পারায় খাবার ও বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকটে পড়েছেন এলাকার মানুষ।

চকরিয়া উপজেলার কাকারা, সুরাজপুর-মানিকপুর, লক্ষ্যারচর, কৈয়ারবিল, বরইতলী, হারবাং, পূর্ব বড় ভেওলা, বিএমচর, কোনাখালী, ঢেমুশিয়া, পশ্চিম বড় ভেওলা, সাহারবিল, চিরিঙ্গা, ফাঁসিয়াখালী, ডুলাহাজারা, খুটাখালী এবং পেকুয়া সদর, রাজাখালী, উজানটিয়া এবং চকরিয়া পৌরসভার সিংহভাগ এলাকা বর্তমানে ৮ থেকে ১০ ফুট বানের পানির নিচে রয়েছে। এসব এলাকার প্রায় তিন শতাধিক গ্রামের অন্তত সাড়ে পাঁচ লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। ঘরে ঘরে খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে। এসব পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের কারণে গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা বিঘ্নিত হচ্ছে।

এদিকে চকরিয়ার বরইতলী ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের সরকারি সংরক্ষিত বনাঞ্চলের পূর্ব ভিলিজার পাড়ায় মাটির ঘরের দেয়াল ধসে আনোয়ার হোসেনের দুই শিশুর মৃত্যু হয়। তারা হলেন- মোহাম্মদ সাবিত (৫) ও তাবাচ্ছুম (১)। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ওই এলাকার ইউপি চেয়ারম্যান ছালেকুজ্জামান। কক্সবাজার আবহাওয়া অধিদপ্তরের সহকারী আব্দুর রহমান জানান, গত সোমবার রাত ৯টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় ১৪৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। বৃষ্টিপাত আগামী ৭২ ঘণ্টা পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানান তিনি।

x

Check Also

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

মুক্তিযুদ্ধের চেতনাই আমাদের একমাত্র লক্ষ্যঃ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

এমএনএ জাতীয় ডেস্কঃ নিজেদের ‘রাজাকার’ বলে স্লোগান দেওয়া কোটা আন্দোলনকারীরা একাত্তরের গণহত্যা, মা-বোনের ওপর পাশবিক ...