মগবাজার-মৌচাক ফ্লাইওভার সময় বাঁচাবে : প্রধানমন্ত্রী
Posted by: News Desk
October 26, 2017
এমএনএ রিপোর্ট : রাজধানীর মগবাজার-মৌচাক ফ্লাইওভার মানুষের সময় বাঁচাবে এবং যানজট নিরসনে গুরত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এই ফ্লাইওভার উদ্বোধন ঘোষণা করার সময় তিনি একথা জানান।
শেখ হাসিনা বলেন, এই ফ্লাইওভার যানজট নিরসনে ভূমিকা রাখবে। সময় বাঁচাবে। কর্মচাঞ্চল্য বাড়বে।
এসময় ফ্লাইওভার নির্মাণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান তিনি। একই সঙ্গে ফ্লাইওভার সড়কসহ সব সড়ক ব্যবহারে যত্নবান হতে ও ট্রাফিক নিয়ম মেনে চলার জন্য আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সাত বছরে দেশের উন্নয়ন সম্পূর্ণরুপে থেমে গিয়েছিল। ২০০৮ এর নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করার পর থেকে দেশের সার্বিক উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে। উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণের ফলে রাজধানীবাসীর অর্থনৈতিক উন্নতি হচ্ছে। আর্থিক স্বচ্ছলতা বেড়েছে।
তিনি আরো বলেন, এক সময় একটি পরিবারে যেখানে একটি গাড়ি ব্যবহার হতো এখন সেখানে একই পরিবার দুই তিনটা করে গাড়ি ব্যবহার করছে।
শেখ হাসিনা বলেন, আর্থিক স্বচ্ছলতা বৃদ্ধির প্রভাবে গাড়ির সংখ্যাও বৃদ্ধি পাচ্ছে এটি অর্থনৈতিক উন্নয়নের একটি সূচক। গাড়ির সংখ্যা বৃদ্ধির ফলে যানজটও বাড়ছে। এ যানজট নিরসনে একাধিক ফ্লাইওভার নির্মাণ করা হয়েছে। হাতিরঝিল প্রকল্প বাস্তবায়নসহ বিভিন্ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ চলছে।
মগবাজার-মৌচাক একটি দীর্ঘ ফ্লাইওভার, এটি নগরীর যানজট নিরসনে গুরত্বপুর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাস্তাঘাট ও ফ্লাইওভার ব্যবহারে নগরবাসীকে যত্নবান হতে হবে। ট্রাফিক আইন মেনে চলতে হবে। তিনি বলেন, এটি দেশের সম্পদ, জাতীয় সম্পদ।
শেখ হাসিনা বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কাছে বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের রোল মডেল। এ দেশ আজ বিশ্ব দরবারে সম্মানজনক অবস্থানে আছে। এই সম্মানটুকু ধরে রাখতে হবে। সরকারের ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকলে যে উন্নয়ন গতিশীল হয় তা সকলেই দেখতে পাচ্ছে। ২০০৮ সালের নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়নের কাজ এগিয়ে নিয়েছি। ২০১৪ সালের নির্বাচনে পুনরায় জয়ী হওয়ায় উন্নয়ন কার্যক্রমের ধারবাহিকতা বজায় রাখা সম্ভব হচ্ছে। ২০১৮ সালের শেষের দিকে অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ বিজয়ী হলে বর্তমান সময়ে নেয়া বিভিন্ন পরিকল্পনা ও কর্মসূচি বাস্তবায়ন সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।
প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার আবার ক্ষমতায় এলে ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ হবে মধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে উন্নত দেশ হিসেবে গড়ে তোলা হবে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্ন পূরণে ক্ষুধা ও দারিদ্রমুক্ত সোনার বাংলাদেশ গড়ে তুলতে বর্তমান সরকার সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, মগবাজার-মৌচাক ফ্লাইওভারে গাড়ি দ্রুত চলবে। চলাচলের সুবিধার জন্য এই ফ্লাইওভারের কিছু জায়গায় নকশা পরিবর্তন করা হয়েছে।
গত বছর এ ফ্লাইওভারটির সাত রাস্তা, বাংলামোটর ও হলি ফ্যামিলি অংশের ওঠানামার পথ খুলে দেওয়া হয়েছিল। আজ বৃহস্পতিবার উদ্বোধনের আনুষ্ঠানিকতা শেষে মৌচাক, রাজারবাগ, শান্তিনগর ও মালিবাগ অংশের বাকি সব পথও খুলে দেওয়া হলো।
চার লেনের এ ফ্লাইওভারে ওঠানামার জন্য ১৫টি র্যাম্প রয়েছে। তেজগাঁওয়ের সাতরাস্তা, এফডিসি, মগবাজার, হলি ফ্যামিলি হাসপাতাল, বাংলামটর, মালিবাগ, রাজারবাগ পুলিশ লাইন এবং শান্তিনগর মোড়ে ওঠানামা করার ব্যবস্থা রয়েছে। এটি রিখটার স্কেলে ১০ মাত্রার ভূমিকম্প সহনীয় বলে প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে। প্রতিটি পিলার পাইলের গভীরতা প্রায় ৪০ মিটার গভীর। এর বিভিন্ন জায়গায় ৮টি বড় মোড় ও তিনটি রেলক্রসিং রয়েছে।
২০১৩ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রায় ৯ কিলোমিটার লম্বা ফ্লাইওভারটির নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেন। ফ্লাইওভারটির কাজ তিন ভাগে করা হয়েছে। গত বছরের ৩০ মার্চ সাতরাস্তা-মগবাজার-হলি ফ্যামিলি হাসপাতাল অংশে যান চলাচল উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
ওই বছরের ১৫ সেপ্টেম্বর ফ্লাইওভারের ইস্কাটন-মৌচাক অংশের উদ্বোধন করেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন। তৃতীয় ধাপে এফডিসি মোড় থেকে সোনারগাঁও হোটেলের দিকের অংশটি যান চলাচলের জন্য খুলে দেয়া হয় এ বছর ১৭ মে। এখন খুলে দেওয়া হলো ফ্লাইওভারের মগবাজার-মৌচাক-মালিবাগ-শান্তিনগর-রাজারবাগ অংশ।
শুরুতে এই প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছিল ৭৭২ কোটি ৭০ লাখ টাকা। পরে নকশায় পরিবর্তন আনা হয়। শেষ পর্যন্ত ব্যয় বাড়তে বাড়তে ১ হাজার ২১৮ কোটি ৮৯ লাখ টাকায় গিয়ে ঠেকে। এর মধ্যে সরকার অর্থায়ন করেছে ৪৪২ কোটি ৭৩ লাখ টাকা।
সৌদি ফান্ড ফর ডেভলপমেন্ট (এসএফডি) এবং ওপেক ফান্ড ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভলপমেন্ট (ওএফআইডি) দিয়েছে ৭৭৬ কোটি ১৬ লাখ টাকা। মগবাজার-মৌচাক ফ্লাইওভার নির্মাণ প্রকল্প ২০১১ সালে একনেকে চূড়ান্ত হয়। ২০১৩ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ফ্লাইওভারটির নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেন।
সময় মগবাজার মৌচাক বাঁচাবে ফ্লাইওভার প্রধানমন্ত্রী 2017-10-26