Don't Miss
Home / আজকের সংবাদ / মধুমিতা হলে সপ্তাহব্যাপী চলবে নায়করাজের ছবি

মধুমিতা হলে সপ্তাহব্যাপী চলবে নায়করাজের ছবি

এমএনএ বিনোদন ডেস্ক : নায়করাজ রাজ্জাকের মৃত্যুতে রাজধানীর মধুমিতা হলে সপ্তাহব্যাপী নায়করাজের ছবি চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সিনেমাহলের মালিক ইফতেখার আহমেদ নওশাদ। আগামী শুক্রবার (২৬ আগস্ট) থেকে সপ্তাহব্যাপী নায়করাজের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তার অভিনীত ‌‘আগুন’ ছবিটি প্রদর্শিত হবে।

গতকাল ছবি প্রদর্শনী বন্ধ রাখার পাশাপাশি মধুমিতা হল কর্তৃপক্ষ আরেকটি বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইফতেখার উদ্দিন নওশাদ জানান, আগামী শুক্রবার থেকে মধুমিতা মুভিজের ব্যানারে নির্মিত রাজ্জাক-শাবানা অভিনীত আগুন ছবিটি প্রদর্শিত হবে। সুপারহিট ছবিটি মুক্তি পেয়েছিল ১৯৭৬ সালে। এর আগে ছবিটি কোনো চ্যানেলে দেখা যায়নি, সিডি আকারেও বাজারে নেই।

মধুমিতায় আগামী সপ্তাহজুড়ে ছবিটি চলবে দুপুর ১২টা, বেলা ৩টা, সন্ধ্যা ৬টা ও রাত ৯টার শোতে। নওশাদ বলেন, ‘রাজ্জাক আমার বাবার খুব ভালো বন্ধু ছিলেন। সর্বশেষ জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে দেখা হয়। সেন্সর বোর্ডে তাঁর সঙ্গে নিয়মিত আলাপ হতো।’

সিনেমাহল মালিক সমিতির এই সভাপতি আরও বলেন, ‘আগুন ছবিটি সাদাকালো প্রিন্টে চলবে। নায়করাজকে স্মরণ করতেই আমাদের এই উদ্যোগ। কারণ তার সঙ্গে আমার ব্যক্তিগত সম্পর্ক বহু বছরের। আর তিনি ছিলেন ইন্ডাস্ট্রির সেরা কিংবদন্তি অভিনেতা। তার প্রতি সম্মান দেখাতে আমাদের ক্ষুদ্র এ প্রয়াস।’

নওশাদ বলেন, ‘রাজ্জাক সাহেব আমাদের চলচ্চিত্র শিল্পের একজন অভিভাবক ছিলেন। তিনি নিজেকে কাজের মাধ্যমে চলচ্চিত্রে রাজার আসনে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। তার মৃত্যুতে আমরা শোকাহত। সারা দেশের হল মালিকদের পক্ষ থেকে শোকও প্রকাশ করা হয়েছে।’

যোগ করে তিনি বলেন, মধুমিতা মুভিজের ৩৪টা ছবির মধ্যে ৪-৫টা ছবিতে তিনি অভিনয় করেছেন। এর মধ্যে ‘আগুন’ সবচেয়ে বেশি ব্যবসা সফল হয়। তাকে শ্রদ্ধা জানাতে এ ছবিটি ফের প্রদর্শন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এ ছবিটি কখনো টেলিভিশনে প্রদর্শিত হয়নি।’

আগুন ছবিটি পরিচালনা করেছিলেন মহসীন, যিনি বাদী থেকে গোলাম ছবিটি পরিচালনা করেছেন। এই ছবিতে রাজ্জাকের নায়িকা ছিলেন শাবানা।

এদিকে নায়করাজ রাজ্জাকের মৃত্যুতে তার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে মধুমিতা, জিনজিরা, নিউ গুলশানসহ সারাদেশের কয়েকটি হল গতকাল মঙ্গলবার বন্ধ ছিল বলে জানান নওশাদ।

তিনি আরও জানালেন, মধুমিতার পাশাপাশি দেশের বেশ কয়েকটি হলে রাজ্জাকের ছবি প্রদর্শিত হবে।

গতকাল রাজধানীবাসীর আগ্রহ-আলোচনার বিষয় ছিল নায়করাজের প্রয়াণ। পাড়া-মহল্লায়, অলিগলিতে, দোকানে, সেলুনে, ফার্মেসিতে রাজ্জাক ছিলেন সাধারণ মানুষের মুখে মুখে। খবরের কাগজে আগ্রহ নিয়ে রাজ্জাকের চলে যাওয়ার সংবাদ পড়েছেন লোকজন। সেগুনবাগিচার শিল্পকলা একাডেমির বেশ কয়েকটি স্থানে বিশাল ব্যানারে দেখা গেছে সেই চিরচেনা হাসির রাজ্জাকের সাদা-কালো প্রতিকৃতি। ছবির সামনে নানান রকমের ফুল। শাহবাগের জাতীয় জাদুঘরের লবিতে সুবিশাল শোকবার্তা, পাশাপাশি দুটি ছবিতে তরুণ এবং সাম্প্রতিক রাজ্জাক। আরেকটি পর্দায় নানা সময়ে ধারণকৃত রাজ্জাকের বিভিন্ন সাক্ষাৎকার। জাদুঘর দেখতে আসা দর্শনার্থীরা সেখানে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে রাজ্জাক–নস্টালজিয়ায় ভোগেন।

১৯৬৪ সালে কলকাতা থেকে রাজ্জাক ঢাকায় এসেছিলেন একজন শরণার্থী হিসেবে। প্রথম জীবনে চলচ্চিত্রে এক্সট্রা হিসেবে অভিনয় করেছেন। সেই রাজ্জাক একসময় পরিণত হন বাংলা চলচ্চিত্রের রাজা, বলা হতো তিনিই ঢাকাই ছবির মহানায়ক।

x

Check Also

টানা ৫ ঘণ্টার বেশি গাড়ি চালানো যাবে না, সতর্ক করল বিআরটিএ

এমএনএ প্রতিবেদক একটানা দীর্ঘ সময় গণপরিবহণ চালানোর ফলে চালকদের ক্লান্তি, ঝিমুনি ও ঘুমের প্রবণতা বাড়ছে, ...