Don't Miss
Home / হোম স্লাইডার / মাশরাফির স্মরণীয় ম্যাচে দারুন জয় পেল বাংলাদেশ

মাশরাফির স্মরণীয় ম্যাচে দারুন জয় পেল বাংলাদেশ

এমএনএ স্পোর্টস ডেস্ক : টেস্টে হোয়াইটওয়াশের পর ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে দারুন এক বড় জয় দিয়ে শুরু করল বাংলাদেশ। ম্যাচটি ছিল আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে মাশরাফি বিন মুর্তজার স্মরণীয় ২০০তম মাইলফলকের ম্যাচ। এই জয়ে বল হাতে ১০ ওভারে ৩০ রানে ৩ উইকেট নিয়ে অবদান রাখেন মাশরাফি। ব্যাট হাতে ৫৫ রানের ম্যাচ জয়ী ইনিংস খেলেন মুশফিকুর রহিম।

আজ রবিবার ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে ৫ উইকেটে জিতেছে টাইগাররা। মিরপুর স্টেডিয়ামে টস জিতে শুরুতে ব্যাট করে ৯ উইকেটে ১৯৫ রান করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। জবাবে ৩৫.১ ওভারে ৫ উইকেট হাতে রেখে লক্ষ্যে পৌঁছে যায় তারা।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ক্যারিয়ারে ২০০ ওয়ানডে ক্যাপ পরা অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজাকে জয় উপহার দিয়েছেন মুশফিক-মুস্তাফিজরা। প্রথমে মাশরাফি-মুস্তাফিজের বোলিং তোপে দুইশ’ রানের আগে থেমে যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এরপর ফিফটি করে ৫ উইকেটের বড় জয় নিয়ে মাঠ ছাড়েন মুশফিক।

এদিন ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ৩১তম ফিফটি তুলে নেন মুশফিক। ক্যারিয়ারের ১৯৬তম ম্যাচে মিরপুরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ম্যাচ জয়ী ইনিংস খেলেন মুশফিক। তার ব্যাটে ভর করে মামুলি স্কোর তাড়া করতে নেমে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় বাংলাদেশ।

এদিন খেলতে নামার আগে ওয়ানডে ক্রিকেটে ১৯৫ ম্যাচে ৬টি সেঞ্চুরি এবং ৩০টি ফিফটির সাহায্যে ৫ হাজার ২১৩ রান করেন জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম।

আজ রবিবার শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে টস জিতে ব্যাট নেয় বাংলাদেশ। কিন্তু মাশরাফির সঙ্গে মুস্তাফিজ-সাকিবদের দারুণ বোলিংয়ে ১৯৫ রানে আটকে যায় তারা। অলআউট হলেও রান বাড়াতে পারেনি তারা। জবাবে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশ দলের দুই ওপেনার তামিম-লিটন সতর্ক শুরু করেন। দু’জনে তুলে ফেলেন ৩৭ রান। ব্যক্তিগত ৬ রানে কেমার রোচের বল ক্যাচ দিয়েছিলেন লিটন। কিন্তু বলটি নো বল হওয়ায় বেঁচে যান তিনি। এরপরেই তামিম ইকবালের গুরুত্বপূর্ণ উইকেটটি হারায় বাংলাদেশ। ইনজুরি কাটিয়ে ফেরা দেশসেরা ওপেনার ব্যক্তিগত ১২ রানে রোস্টন চেইসের বলে ধরা পড়লেন দেবেন্দ্র বিশুর হাতে। ইমরুল কায়েস (৪) উইকেটে এসেই বাউন্ডারি হাঁকালেন। তারপর বোল্ড হয়ে গেলেন থমাসের বলে।

মুশফিকের সঙ্গে তৃতীয় উইকেটে ৪৭ রানের জুটি জমিয়ে ফেলেছিলেন অপর ওপেনার লিটন দাস। হাফ সেঞ্চুরির কাছে গিয়ে কিমো পলের বলে বাজে শট খেলতে গিয়ে ৪১ রানে বোল্ড হয়ে যান এই তরুণ ওপেনার। ২১তম ওভারে ১০০ পার করে বাংলাদেশের স্কোর। চতুর্থ উইকেটে ৫৭ রানের জুটি গড়েন মুশফিক আর সাকিব। হাত খুলে ব্যাটিং করে ২৬ বলে ৩০ রান করা বিশ্বসেরা অল-রাউন্ডার পাওয়েলের বলে ক্যাচ দিলে ভাঙে এই জুটি।

৫ নম্বরে ব্যাটিংয়ে নামেন সৌম্য সরকার। এই পজিশনে এটাই তার প্রথম ব্যাট করা। শুরু থেকেই চোখ ধাঁধানো সব শট খেলতে শুরু করেন তিনি। জয়ের কাছাকাছি গিয়ে রোস্টন চেইসের বলে থামে তার ১৩ বলে ২ চার ১ ছক্কায় ১৯ রানের ইনিংস। এরপরই ক্যারিয়ারর ৩১তম হাফ সেঞ্চুরি তুলে নেন ‘মি. ডিপেন্ডেবল’ মুশফিকুর রহিম। ভায়রা ভাই মাহমুদউল্লাহ রিয়াদকে (১৪*) নিয়ে দলকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়েন ৫৫* রানে অপরাজিত মুশি। ৮৯ বল হাতে রেখে ৫ উইকেটের এই জয়ে ৩ ম্যাচ সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল বাংলাদেশ।

এর আগে আজ রবিবার সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে টসে জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৯ উইকেটে ১৯৫ রান তোলে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। শুরু থেকেই টাইগার বোলারদের তোপের মুখে পড়ে সফরকারীরা। দুই পাশ থেকেই স্পিন আক্রমণ দিয়ে বোলিং শুরু করেন অধিনায়ক মাশরাফি। রান বাড়ানোর তাগিদে সাকিব আল হাসানকে তুলে মারতে গিয়ে রুবেল হোসেনের হাতে ধরা পড়েন কাইরন পাওয়েল (১০)।

এর মাঝেই দুইবার জীবন পান ড্যারেন ব্র্যাভো। মুস্তাফিজের বলে সহজ ক্যাচ ছাড়েন আরিফুল হক। এরপর রুবেলের বলে ব্র্যাভোর আরেকটি সহজ ক্যাচ ফস্কে যায় মুশফিকের গ্লাভস থেকে। ক্যারিবীয় টপ অর্ডার ব্যাটসম্যানকে অবশেষে ১৯ রানে ফেরান অধিনায়ক মাশরাফি। তার বলে চোধ ধাঁধানো ক্যাচ নেন ইনজুরি কাটিয়ে ফেরা তামিম ইকবাল। এই মাশরাফির বলেই বলে ওপেনার শাই হোপ (৪৩) ধরা পড়েন মেহেদী মিরাজের হাতে।

৭৮ রানে তৃতীয় উইকেটর পতনের পর স্যামুয়েলসকে জীবন দেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। বিপজ্জনক হেটমায়ার (৬) বিধ্বংসী হয়ে ওঠার আগেই তাকে বোল্ড করে দেন মেহেদী হাসান মিরাজ। রোভম্যান পাওয়েল (১৪) মাশরাফির বলে লিটন দাসের হাতে ক্যাচ দিলে উইন্ডিজের ইনিংস অর্ধেক শেষ হয়। মারলন স্যামুয়েলসের (২৫) উইকেটটিও লিটন দাসের কৃতিত্ব। রুবেল হোসেনের বল উড়িয়ে মেরেছিলেন স্যামুয়েলেস। লং অনের সীমানার ওপর অসাধারণ দক্ষতায় বলটি তালুবন্দি করেন লিটন।

বিপদ সামলে ৭ম উইকেটে ৫১ রানের জুটি গড়েন রোস্টন চেইস এবং কিমো পল। ৩২ রান করা চেইস মুস্তাফিজুর রহমানের প্রথম শিকার হলে ভাঙে এই জুটি। শেষ ওভারে কিমো পলও (৩৭) মিরাজের দারুণ ক্যাচে মুস্তাফিজের দ্বিতীয় শিকারে পরিণত হন। এক বল পরে দেবেন্দ্র বিশুকে কট অ্যান্ড বোল্ড করে ‘কাটার মাস্টার’ তৃতীয় শিকার ধরেন। বোলিং তোপে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৯ উইকেটে ১৯৫ রানের বেশি করতে পারেনি উইন্ডিজ।

বাংলাদেশের হয়ে মাশরাফি ও মুস্তাফিজ নেন তিনটি করে উইকেট। এছাড়া একটি করে উইকেট ভাগাভাগি করেন মেহেদী হাসান মিরাজ, সাকিব আল হাসান ও রুবেল হোসেন।

সংক্ষিপ্ত স্কোর :

ওয়েস্ট ইন্ডিজ : ৫০ ওভারে ১৯৫/৯ (পাওয়েল ১০, হোপ ৪৩, ব্রাভো ১৯, স্যামুয়েলস ২৫, হেটমায়ার ৬, পাওয়েল ১৪, হেইস ৩২, পল ৩৬, রোচ ৫*, বিশু ০, টমাস ০*; মিরাজ ১০-০-৩০-১, সাকিব ১০-০-৩৬-১, মুস্তাফিজ ১০-০-৩৫-৩, মাশরাফি ১০-০-৩০-৩, রুবেল ১০-০-৬১-১)।

বাংলাদেশ : ৩৫.১ ওভারে ১৯৬/৫ (তামিম ১২, লিটন ৪১, ইমরুল ৪, মুশফিক ৫৫*, সাকিব ৩০, সৌম্য ১৯, মাহমুদউল্লাহ ১৪*; রোচ ৬-০-৩৫-০, চেইস ৯-১-৪৭-২, টমাস ৫-০-৩৪-০, পল ৮-০-৩৭-১, বিশু ৬.১-০-৩০-০, পাওয়েল ১-০-৭-১)।

x

Check Also

স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের ফাইল অনুমোদন নিয়ে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য, অনিয়ম প্রমাণে চ্যালেঞ্জ আসিফ মাহমুদের

এমএনএ প্রতিবেদক স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের কোনো ফাইলে অনিয়ম হয়ে থাকলে তা সুনির্দিষ্টভাবে প্রকাশ ও প্রমাণ ...