Don't Miss
Home / জাতীয় / আইন-শৃংখলা / যেকোন সময় গ্রেপ্তার যুবলীগ নেতা সম্রাট

যেকোন সময় গ্রেপ্তার যুবলীগ নেতা সম্রাট

এমএনএ রিপোর্ট : ঢাকায় অবৈধভাবে ক্যাসিনো ও জুয়ার বোর্ড পরিচালনার অভিযোগে যুবলীগ নেতা খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া গ্রেপ্তার হওয়ায় পর এবার যেকোন সময় গ্রেপ্তার হতে যাচ্ছেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট।

গতকাল বুধবার সকাল থেকেই সম্রাটকে নজরদারিতে রেখেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্বশীল সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ (ক্রীড়া চক্র) ক্লাবে র‌্যাবের অভিযানের পর তাকে গ্রেপ্তারের গুঞ্জন আরও জোরদার হয়। তবে গ্রেপ্তার এড়াতে হাজার সংখ্যক নেতাকর্মী নিয়ে কাকরাইলের যুবলীগের কার্যালয়ে শো-ডাউনের মাধ্যমে রাতযাপন করেন তিনি।

গতকাল বুধবার রাতে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ (ক্রীড়া চক্র) ক্লাবে র‌্যাবের অভিযানকালে দেখা যায়, যে রুমটিতে ক্যাসিনো পরিচালনা করা হতো সেখানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি টাঙ্গানো। পাশেই সম্রাটের ছবি ঝুলানো। এছাড়া সম্রাটের সাথে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ (ক্রীড়া চক্র) ক্লাবে নের্তৃস্থানীয়দের ছবিও ঝুলতে দেখা যায়।

গুলিস্তানের মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ক্লাবের ক্যাসিনো থেকে ৪ লাখ ৯৮ হাজার ৬০০ টাকাসহ ক্যাসিনো পরিচালনা ও খেলার অভিযোগে মোট ৪০ জনকে আটক করে র‍্যাব।

আটকদের কয়েকজন র‌্যাবকে জানায়, সম্রাট প্রায় এখানেই আসেন ও বসে আড্ডা দিতেন। এ ক্যাসিনো মূলত তিনিই নিয়ন্ত্রণ করেন।

একই অভিযোগে গতকাল বুধবার রাতে অবৈধ অস্ত্র, গুলি, মাদকসহ ক্যাসিনো খালেদকে গ্রেপ্তার করা হয়। এছাড়া লাইসেন্সের শর্তভঙ্গের অভিযোগে বাসা থেকে দুটি অস্ত্র জব্দ করা হয়েছে। অস্ত্র, মাদক ও ক্যাসিনো নিয়ে গ্রেপ্তার যুবলীগ নেতার বিরুদ্ধে তিনটি মামলা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার রাতেই তাকে গুলশান থানা থেকে আদালতে নেয়া হয় বলে জানিয়েছেন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী।

খালেদের মতো একই অভিযোগে সম্রাটকে গ্রেপ্তার বা আইনানুগ কোনো পদক্ষেপ র‌্যাব নেবে কিনা জানতে চাইলে, র‍্যাবের লিগ্যাল ও মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক সারোয়ার-বিন-কাশেম গণমাধ্যমকে বলেন, ক্যাসিনো বিরোধী আমাদের অভিযান ও গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। অবৈধ ক্যাসিনোর সঙ্গে যারাই জড়িত থাকবে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। কখন কোথায় অভিযান পরিচালনা করা হবে বা কাকে গ্রেপ্তার করা হবে তা কৌশলগত কারণে ডিসক্লোজ (প্রকাশ) করা হচ্ছে না।

তিনি আরো বলেন, আমরা খালেদকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছি। জিজ্ঞাসাবাদে তার কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়েছি। তবে তদন্তের স্বার্থে সেগুলো এখনই প্রকাশ করা যাবে না। বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তির নাম পাওয়া গেছে। ঢাকায় অবৈধভাবে কোনো ক্যাসিনো থাকতে দেবে না র‍্যাব। তাই যাদের নাম তদন্তে ও জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া যাবে তাদেরকেই আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।

অন্যদিকে রাজধানীতে আর ক্যাসিনো ও জুয়ার বোর্ড চলতে দেয়া হবে না উল্লেখ করে আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে নিজ কার্যালয়ে ডিএমপি কমিশনার মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেছেন, রাজধানীতে অবৈধ জুয়ার আড্ডা, ক্যাসিনো পরিচালনার ক্ষেত্রে যতো প্রভাবশালীরাই জড়িত থাকুক না কেন আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে পুলিশ কঠোর হবে। র‌্যাব অভিযান শুরু করেছে পুলিশও করবে। ইতিমধ্যে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার জুয়ার বোর্ড ও ক্যাসিনোর তালিকা করা শুরু হয়েছে।

এদিকে আজ বৃহস্পতিবার ক্যাসিনো নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, প্রথম কথা হল আমরা শুনছিলাম ঢাকাতে কতগুলো অবৈধ ক্যাসিনো আছে। আমরা কোনো ক্যাসিনোকে পারমিশন দেইনি। বিভিন্ন হোটেল ও ক্লাবে আমরা বারের পারমিশন দিয়েছি। আমরা শুনছিলাম অনেক জায়গায় নাকি ক্যাসিনো চালাচ্ছে। আমাদের কাছে সেই তথ্য ছিল, সেই অনুযায়ী কালকে রাত্রে ক্লাব ও ক্যাসিনোগুলো চেক করা হয়েছে। আমরা মনে করি ক্যাসিনো করতে হলে সরকারের একটা অনুমতি লাগে, সেগুলো তারা নেয়নি। যেহেতু অনুমতি ছাড়া তারা এগুলো করেছে, তারা অপরাধ করেছে।

প্রশাসনের অনেকে জড়িত বলে অভিযোগ নিয়ে মন্ত্রী বলেন, আমরা অভিযোগ পেয়েছি মাত্র, দেখবো এখন। কে কতখানি সহযোগিতা করেছে, কিংবা এটার জন্য ব্যবস্থা নিয়েছে, এগুলো তদন্তের পর আসবে। আমরা এখন দেখেছি, সিলগালা করছে, ম্যাজিস্ট্রেট তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিয়েছেন। তদন্তের পর বেরিয়ে আসবে, কে কোনটায়, কে কোনটার সঙ্গে জড়িত ছিল, কার কতখানি ভূমিকা ছিল, সেটা দেখা যাবে।

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ওনার সবসময় ডিরেকশনটা ক্লিয়ার যে, কোনো ধরনের আইনবর্হিভূত কাজ করে থাকলে তাকে বিচারের মুখোমুখি হতেই হবে। আমরা সেটিই করছি, উনি যেভাবে ডিরেকশন দিচ্ছেন।

ক্যাসিনো পরিচালনার বিষয় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যর্থতা কিনা- প্রশ্নে মন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে গোয়েন্দারাই আমাদের ইনফরমেশন দিয়েছে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতেই অপারেশনগুলো হয়েছে। আমি তো সবসময় বলি এখানে যদি কোনো প্রশাসনের লোক জড়িত থাকে কিংবা তারা এগুলোকে সহযোগিতা করেছেন, তাদের নিয়ন্ত্রণে এগুলো হয়েছে। আইন অনুযায়ী তিনিও বিচারের মুখোমুখি হবেন।

গ্রেপ্তার যুবলীগ নেতার টর্চার সেল পাওয়ার বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এটা আমরা শুনেছি, তবে এখনো সঠিক তথ্য পাইনি। এটা যদি হয়ে থাকে তাহলে সেটারও ব্যবস্থা হবে।

x

Check Also

ওবায়দুল কাদের

বিএনপি মার্কা গণতন্ত্র চর্চাতো জাতি দেখেছে: ওবায়দুল কাদের

এমএনএ রাজনীতি ডেস্কঃ বিদেশীদের কাছে নয়, যদি নালিশ করতেই হয় তাহলে দেশের জনগণের কাছে তা ...

Scroll Up
%d bloggers like this: