জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্রাশ প্রোগ্রামের নামে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাপঞ্জি থেকে তিন মাস সময় কেটে নেওয়া হচ্ছে।ফলে কোর্স শেষ না করেই শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় বসতে হবে। শিক্ষার্থীদের ওপর দায় চাপানো এ কেমন দায়িত্ববোধ?
দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর পাশাপাশি সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে দুই হাজারেরও বেশি কলেজে অনার্স ও মাস্টার্স পড়ানো হয়।জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় এসব কোর্স সমন্বয় করে থাকে।শিক্ষাপঞ্জি, পাঠক্রম থেকে শুরু করে পরীক্ষা ও ফল প্রকাশের দায়িত্ব জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের। ভর্তি, রেজিস্ট্রেশন, ফরম পূরণ—সবই হয় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে।সরকারি কলেজের ১৩ লাখ শিক্ষার্থীসহ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন কলেজগুলোতে অনার্স ও মাস্টার্স শ্রেণিতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ২১ লাখ।এই বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর চাপ নিতে না পারায় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে দেখা দিয়েছে সেশনজট।এই সেশনজট দূর করতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় যে পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে, তা অভিনব।ক্রাশ প্রোগ্রামের নামে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাপঞ্জি থেকে তিন মাস সময় কেটে নেওয়া হচ্ছে।ফলে কোর্স শেষ না করেই শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় বসতে হবে।অবস্থাদৃষ্টে ধারণা করা যেতে পারে, পরীক্ষা নিয়ে দেখিয়ে দিতে চায়, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো সেশনজট নেই।বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বলেছেন, ক্রাশ প্রোগ্রামে সময় ক্রাশ করা হবে। এটা করতে গিয়ে যে শিক্ষার্থীদের জীবন ‘ক্রাশ’ হওয়ার উপক্রম হচ্ছে, সেদিকে কি দৃষ্টি আছে সংশ্লিষ্টদের?
আসলে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর চাপ সইতে পারছে না জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়।দুই হাজারের বেশি কলেজের ২১ লাখ শিক্ষার্থী ব্যবস্থাপনার দক্ষতা অর্জন করতে পারেনি প্রতিষ্ঠানটি।তাই যেকোনো প্রকারে সংকট সমাধানের চেষ্টা করা হয়। এমনিতেই জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মান নিয়ে প্রশ্ন আছে।এখন যদি ১২ মাসের কোর্স ৯ মাসে শেষ করা হয়, তাহলে এই প্রশ্ন আরো বড় হবে। বিশ্ববিদ্যালয় মানের শিক্ষা নিশ্চিত করতে শিক্ষকদের যথাযথ প্রশিক্ষণের পাশাপাশি গবেষণার সুযোগ থাকতে হয়।জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কি শিক্ষকদের মান ও গবেষণা আজ পর্যন্ত নিশ্চিত করতে পেরেছে? উপরন্তু এমন অভিযোগ আছে যে উচ্চশিক্ষার এমন ক্ষতি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় করেছে, যা সহজে পূরণ হওয়ার নয়।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষার এই দুর্গতি উপলব্ধি করতে পেরে প্রধানমন্ত্রী অনেক আগেই সরকারি কলেজগুলোর অনার্স ও মাস্টার্স কোর্স পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে নিতে বলেছেন।ইউজিসির একটি পর্যালোচনা কমিটিও সরকারি কলেজগুলোকে পৃথক করে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে নেওয়ার মত দিয়েছে।এ ক্ষেত্রে একটি সমন্বিত সিদ্ধান্ত হওয়া উচিত।পাসের হার বেড়ে যাওয়ার পর পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়েও চাপ বেড়েছে।সরকারি কলেজগুলোর অনার্স ও মাস্টার্স কোর্সকে যদি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে একই কোর্স কারিকুলাম ও একাডেমিক ক্যালেন্ডারের আওতায় আনা যায়, তাহলে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির চাপ কমবে।এমন অনেক বিষয় আছে, যা সমন্বিত একাডেমিক ক্যালেন্ডার ও কারিকুলামে পড়ানো সম্ভব। সামান্য সমন্বয় করা গেলে কোর্স, টিউটরিয়ালসহ সব পরীক্ষাও একই সঙ্গে নেওয়া সম্ভব।সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি ভেবে দেখতে পারে।
আমরা চাই মানসম্মত শিক্ষা।উচ্চশিক্ষার মান নিশ্চিত করতে সঠিক পথটিই আমাদের বেছে নিতে হবে।
-সম্পাদক
মোহাম্মদী নিউজ এজেন্সী নিউজ – ফিচার – ফটো নেটওয়ার্ক


