বিশেষ প্রতিবেদক
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে ৩৬ জনের মনোনয়ন তালিকা চূড়ান্ত করেছে বিএনপি। দুই দিনব্যাপী সাক্ষাৎকার শেষে সোমবার (২০ এপ্রিল) বিকেলে দলটি এই তালিকা প্রকাশ করে। তালিকায় অভিজ্ঞ রাজনীতিক, সাবেক সংসদ সদস্য, দলীয় নেতাদের পরিবারের সদস্য, ছাত্ররাজনীতি থেকে উঠে আসা নেত্রী, পেশাজীবী ও সংখ্যালঘু প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। একই দিনে জামায়াত-এনসিপি জোট ও স্বতন্ত্র এমপিদের পক্ষ থেকেও পৃথক তালিকা ঘোষণা করা হয়।
বিএনপির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন অন্তত ১০ জন সাবেক সংসদ সদস্য। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী সেলিমা রহমানসহ শিরীন সুলতানা, রাশেদা বেগম হীরা, রেহানা আক্তার, নিলোফার চৌধুরী মনি, সুলতানা আহমেদ, বিলকিস ইসলাম, নেওয়াজ হালিমা আরলী, হেলেন জেরিন খান ও শাম্মী আক্তার।
এঁদের অধিকাংশই বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে রয়েছেন।
দলীয় নেতাদের স্ত্রী, কন্যা ও পরিবারের সদস্যদেরও তালিকায় গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। উল্লেখযোগ্যদের মধ্যে রয়েছেন— শিরীন সুলতানা (খায়রুল কবির খোকনের স্ত্রী); নিপুণ রায় চৌধুরী (নিতাই রায় চৌধুরীর মেয়ে); আইনজীবী শাকিলা ফারজানা (সৈয়দ ওয়াহিদুল আলমের মেয়ে); ফেরদৌসী আহমেদ (নাসিরউদ্দিন আহম্মেদ পিন্টুর বোন); বীথিকা বিনতে হোসাইন; সানসিলা জেবরিন; ও জহরত আদিব চৌধুরী (সাবেক প্রতিমন্ত্রী এবাদুর রহমান চৌধুরীর মেয়ে)।
তালিকায় সংখ্যালঘু ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্বও রাখা হয়েছে। আন্না মিনজ (ওঁরাও আদিবাসী সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি); সুবর্ণা সিকদার ঠাকুর (গোপালগঞ্জ) ও মাধবী মারমা (বান্দরবান)।
আন্না মিনজ জানিয়েছেন, তিনি ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী ও খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব করবেন। সুবর্ণা সিকদার নিজেকে বিএনপির সমর্থক বলে উল্লেখ করে অন্য রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
সাম্প্রতিক জাতীয় নির্বাচনে পরাজিত তিনজন প্রার্থীও সংরক্ষিত আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন। এদের মধ্যে রয়েছেন সানজিদা ইসলাম তুলি, সাবিরা সুলতানা মুন্নী ও সানসিলা জেবরিন।
ছাত্রদল ও ছাত্ররাজনীতি থেকে উঠে আসা বেশ কয়েকজন নেত্রী তালিকায় জায়গা পেয়েছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন— আরিফা সুলতানা রুমা, মানসুরা আক্তার, সানজিদা ইয়াসমীন তুলি, নাদিয়া পাঠান পাপন, শওকত আরা আক্তার উর্মি ও সেলিনা সুলতানা নিশিতা।
দলীয় আন্দোলনে ভূমিকার স্বীকৃতি হিসেবে তাঁদের মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
তালিকায় আরও রয়েছেন— মাহমুদা হাবিবা, শামীম আরা বেগম স্বপ্না, সুরাইয়া জেরিন, জীবা আমিনা খান, ফাহিমা নাসরিন, মমতাজ আলো, রেজেকা সুলতানা এবং ফাহমিদা হক।
জামায়াত-এনসিপি জোটের তালিকা
অন্যদিকে, ১১ দলীয় জোটের অধীনে সংরক্ষিত নারী আসনের ১৩ প্রার্থীর তালিকাও ঘোষণা করা হয়েছে। এতে জামায়াতের প্রার্থী ৮ জন, এনসিপিসহ অন্যান্য শরিক দল ও বিশেষ ক্যাটাগরিতে ৫ জনকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।
জামায়াতের পক্ষ থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন নুরুন্নেসা সিদ্দিকা, মারজিয়া বেগম, সাবিকুন নাহার মুন্নী, মারদিয়া মমতাজ, নাজমুন নাহার নীলু, মাহফুজা সিদ্দিকা, সাজেদা সামাদ ও সামসুন নাহার।
এনসিপিসহ জোটের অন্যান্য মনোনীতদের মধ্যে রয়েছেন— মনিরা শারমিন, মাহমুদা আলম মিতু, তাসমিয়া প্রধান, মাহবুবা হাকিম এবং জুলাই শহীদ শিশু জাবির ইব্রাহিমের মা রোকেয়া বেগম।
স্বতন্ত্র জোটের মনোনয়ন
স্বতন্ত্র ছয় এমপির জোট থেকে সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন ছাত্রদলের সাবেক নেত্রী সুলতানা জেসমিন জুঁই। তাঁর মনোনয়নে সমর্থন দিয়েছেন কিশোরগঞ্জ-৫ ও ময়মনসিংহ-১ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যরা।
বিএনপির তালিকা প্রকাশের পর দলীয় ও রাজনৈতিক অঙ্গনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। সংগীতশিল্পী কনক চাঁপা, বেবী নাজনীন ও আসমা আজিজের মতো আলোচিত ব্যক্তিরা মনোনয়ন না পাওয়ায় আলোচনা তৈরি হয়েছে।
তবে বিশ্লেষকদের মতে, অভিজ্ঞতা, পারিবারিক রাজনৈতিক পটভূমি, তরুণ নেতৃত্ব এবং সামাজিক বৈচিত্র্যের সমন্বয়ে তালিকাটি তৈরি করা হয়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনকে ঘিরে রাজনৈতিক দলগুলো কৌশলগত ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করেছে—যেখানে অভিজ্ঞতা ও নতুন নেতৃত্বের মিশ্রণ স্পষ্ট।
মোহাম্মদী নিউজ এজেন্সী নিউজ – ফিচার – ফটো নেটওয়ার্ক

