এমএনএ প্রতিবেদক
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, জোট ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের অংশগ্রহণে মোট ৫৩টি মনোনয়নপত্র জমা পড়েছে। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) নির্বাচন ভবনে এ তথ্য জানান নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও নির্বাচন কমিশনের (ইসি) যুগ্মসচিব মঈন উদ্দীন খান।
তিনি জানান, নির্ধারিত সময় বিকেল ৪টার মধ্যে মনোনয়নপত্র জমা গ্রহণ শেষ হয়েছে। জমা পড়া মনোনয়নপত্রের মধ্যে বিএনপি জোট থেকে ৩৬টি এবং জামায়াত জোট থেকে ১৩টি রয়েছে। এছাড়া স্বতন্ত্র মোর্চা থেকে একটি মনোনয়নপত্র জমা পড়েছে, যার প্রার্থী সুলতানা জেসমিন। এর বাইরে আরও তিনজন স্বতন্ত্র প্রার্থী—শামমা আক্তার, মোছাম্মদ মেহরুন নেসা ও মাহবুবা রহমান—কোনো দল বা জোটের বাইরে থেকে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন।
রিটার্নিং কর্মকর্তা জানান, মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই অনুষ্ঠিত হবে ২২ ও ২৩ এপ্রিল। এর মধ্যে ২২ এপ্রিল দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত এবং ২৩ এপ্রিল সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বাছাই কার্যক্রম চলবে। বাছাইয়ের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করা যাবে ২৬ এপ্রিল সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। আপিল নিষ্পত্তি হবে ২৭ ও ২৮ এপ্রিল।
তিনি আরও জানান, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ২৯ এপ্রিল, প্রতীক বরাদ্দ ৩০ এপ্রিল এবং ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১২ মে।
আইনগত যোগ্যতা ও অযোগ্যতার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মঈন উদ্দীন খান বলেন, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুযায়ী মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। একই সঙ্গে তিনি জানান, জামায়াত জোট ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র বাছাই ২২ এপ্রিল এবং বিএনপি জোটের প্রার্থীদের বাছাই ২৩ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হবে।
সংরক্ষিত নারী আসনের মোট সংখ্যা ৫০টি। জাতীয় সংসদের সাধারণ আসনের অনুপাতে প্রতি ছয়জন সদস্যের বিপরীতে একটি করে সংরক্ষিত আসন বরাদ্দ করা হয়। সে অনুযায়ী বিএনপি জোট ৩৬টি, জামায়াত জোট ১৩টি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা একটি আসন পাওয়ার কথা রয়েছে। প্রার্থীর সংখ্যা বেশি না হলে সাধারণত এসব আসনে প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন।
অন্যদিকে, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্যরা সরাসরি নির্বাচিত এমপিদের মতোই বেতন-ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা পেয়ে থাকেন। ‘সংসদ সদস্য (পারিশ্রমিক ও ভাতা) আদেশ, ১৯৭৩’ অনুযায়ী তারা মাসিক ৫৫ হাজার টাকা মূল বেতন পান। পাশাপাশি নির্বাচনি এলাকা ভাতা ১২ হাজার ৫০০ টাকা, আপ্যায়ন ভাতা ৫ হাজার টাকা এবং পরিবহন ভাতা হিসেবে মাসিক ৭০ হাজার টাকা প্রদান করা হয়।
এছাড়া অফিস পরিচালনার জন্য ১৫ হাজার টাকা ভাতা, লন্ড্রি ভাতা ১ হাজার ৫০০ টাকা এবং বিবিধ খাতে ৬ হাজার টাকা ভাতা দেওয়া হয়। সংসদ সদস্যরা শুল্ক ও করমুক্ত গাড়ি আমদানির সুবিধাও পেয়ে থাকেন, যদিও ত্রয়োদশ সংসদের ক্ষেত্রে এ সুবিধা গ্রহণ না করার কথা জানিয়েছেন সরকার ও বিরোধীদলীয় সদস্যরা।
ভ্রমণ সুবিধার আওতায় সংসদ সদস্যরা বিভিন্ন কাজে যাতায়াতের জন্য বিশেষ ভাতা পান। সংসদ অধিবেশন বা কমিটির সভায় অংশগ্রহণ করলে দৈনিক ভাতা ও যাতায়াত ভাতাও দেওয়া হয়।
চিকিৎসা সুবিধার ক্ষেত্রে তারা প্রথম শ্রেণির সরকারি কর্মকর্তাদের সমমানের সুবিধা ভোগ করেন এবং মাসিক চিকিৎসা ভাতাও পান। এছাড়া ১০ লাখ টাকার বিমা সুবিধা, বার্ষিক ঐচ্ছিক অনুদান তহবিল এবং টেলিযোগাযোগ সুবিধাও তাদের জন্য নির্ধারিত রয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের সাবেক অতিরিক্ত সচিব জেসমিন টুলি বলেন, সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য ও সরাসরি নির্বাচিত এমপিদের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। সুযোগ-সুবিধা ও মর্যাদার দিক থেকে তারা সমান অধিকার ভোগ করেন।
মোহাম্মদী নিউজ এজেন্সী নিউজ – ফিচার – ফটো নেটওয়ার্ক

