Don't Miss
Home / আজকের সংবাদ / সরকারি জমিতে অনুমোদনবহির্ভূত ভবন নির্মাণ, অর্থ আত্মসাতের দায়ে নূর আলীর বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং মামলা

সরকারি জমিতে অনুমোদনবহির্ভূত ভবন নির্মাণ, অর্থ আত্মসাতের দায়ে নূর আলীর বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং মামলা

বিশেষ প্রতিবেদক

রাজধানীর বনানীতে সরকারি জমিতে অনুমোদনবহির্ভূতভাবে বহুতল ভবন নির্মাণ ও বিপুল অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে ইউনিক গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) নূর আলী এবং তাঁর মালিকানাধীন বোরাক রিয়েল এস্টেট প্রাইভেট লিমিটেডের বিরুদ্ধে ১১৫ কোটি টাকার মানি লন্ডারিং মামলা করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

গত বৃহস্পতিবার বনানী থানায় মামলাটি দায়ের করা হয় বলে নিশ্চিত করেছেন সিআইডির গণমাধ্যম শাখার বিশেষ পুলিশ সুপার জসীম উদ্দিন খান।

সিআইডির প্রাথমিক তদন্ত ও বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, বনানী এলাকায় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) নিয়ন্ত্রিত সরকারি জমিতে “বনানী সুপার মার্কেট কাম হাউজিং” প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। চুক্তি অনুযায়ী সেখানে ১৪ তলা ভবন নির্মাণের কথা থাকলেও, বোরাক রিয়েল এস্টেট অনুমোদন ছাড়াই ২৮ তলা ভবন নির্মাণ করে বলে অভিযোগে বলা হয়।

পরবর্তীতে ওই ভবনে পাঁচ তারকা হোটেল ‘শেরাটন’ পরিচালনা শুরু হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্প শেষ না করা এবং ডিএনসিসিকে প্রাপ্য অংশ না দিয়েও বিভিন্ন সময়ে প্রভাব খাটিয়ে চুক্তি সংশোধন করানো হয়।

তদন্তে আরও উঠে এসেছে, ভবন নির্মাণে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) এবং বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (সিএএবি) প্রয়োজনীয় অনাপত্তিপত্র নেওয়া হয়নি। ফলে ভবনের উচ্চতা নির্ধারিত সীমা অতিক্রম করায় উড়োজাহাজ চলাচলে ঝুঁকি তৈরি হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

সিআইডির ভাষ্য অনুযায়ী, অনুমোদনবিহীন এই প্রকল্প ও হোটেল ব্যবসার মাধ্যমে আসামিরা অবৈধভাবে ১১৫ কোটি ৫৮ লাখ ২৪ হাজার ৭০৭ টাকা আয় করেন। পরে ওই অর্থ হস্তান্তর, স্থানান্তর ও রূপান্তরের মাধ্যমে মানি লন্ডারিং করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে প্রমাণ পাওয়া গেছে।

তদন্তে বলা হয়েছে, প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সম্পদের প্রকৃত মূল্য নির্ধারণের পর লন্ডারিং করা অর্থের পরিমাণ আরও বাড়তে পারে।

বর্তমানে মামলাটির তদন্ত করছে সিআইডির ফিন্যান্সিয়াল ক্রাইম বিভাগ। সংস্থাটি জানিয়েছে, অভিযোগের পূর্ণাঙ্গ তথ্য উদঘাটন ও সংশ্লিষ্টদের গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে অভিযান ও তদন্ত চলমান রয়েছে।

এর আগে গত বছরের সেপ্টেম্বরেও নূর আলীসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে আরেকটি মানি লন্ডারিং মামলা করে সিআইডি। ওই মামলায় মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর নামে সংঘবদ্ধ প্রতারণার মাধ্যমে প্রায় ৪০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছিল।

দুটি পৃথক মামলায় বিপুল অর্থ আত্মসাৎ ও অনিয়মের অভিযোগ ওঠায় বিষয়টি নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে ব্যাপক নজরদারি চলছে। তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা ও দায়ীদের ভূমিকা স্পষ্ট হবে বলে জানিয়েছে সিআইডি।

x

Check Also

অন্তর্বর্তী সরকারের দেড় বছরে গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানে সংঘটিত হামলার ঘটনা বিশ্ব ইতিহাসে বিরল: ইফতেখারুজ্জামান

এমএনএ প্রতিবেদক অন্তর্বর্তী সরকারের দেড় বছরে বাংলাদেশের গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানে সংঘটিত হামলার ঘটনাকে বিশ্ব ইতিহাসে বিরল ...