বিশেষ প্রতিবেদন
রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অবস্থিত স্বাধীনতা জাদুঘর, যা বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সংরক্ষণে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান, ২০২৬ সালের স্বাধীনতা দিবসেও তালাবদ্ধ রয়েছে। ২০১৫ সালের ২৫ মার্চ সর্বসাধারণের জন্য যেটি চালু করা হয়েছিল, দুই বছর ধরে তা বন্ধ ও অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখে পড়েছে।
জাদুঘরটি ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট তৎকালীন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর একদল প্রতিক্রিয়াশীল ব্যক্তি দ্বারা ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাটের শিকার হয়। সেই ঘটনার পর থেকে এটি জনসাধারণের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে।
সরেজমিন পরিস্থিতি দেখা যায়, জাদুঘরের প্রধান ফটকে তালা ঝুলছে। কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীর উপস্থিতি নেই, চারপাশে বিরামহীন নীরবতা বিরাজ করছে এবং দর্শনার্থীর কোনো আনাগোনা নেই। ‘স্বাধীনতা জাদুঘর’ শিলালিপিটি মুছে ফেলা হয়েছে এবং প্রবেশদ্বারের র্যাম্পটিও ইটের ব্যারিকেড দিয়ে বন্ধ করে রাখা হয়েছে। দেয়ালে বিভিন্ন ভাঙা লেখাও চোখে পড়ে, যার মধ্যে রয়েছে ধর্মীয় উস্কানিমূলক কিছু বক্তব্য।
ভাঙচুরের সময় জাদুঘরের বাইরে থাকা টেরাকোটা ভাঙচুরের তালিকায় পড়ে, যেখানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মুখাবয়বগুলোর অংশসহ বিভিন্ন ইতিহাসচিত্র নষ্ট হয়েছে। ওই ভাঙা টুকরোগুলো প্রায় দেড় বছর অতিবাহিত হলেও সেভাবেই পড়ে রয়েছে। জাদুঘরের সামনে ওয়াটার বডির পানিতেও আবর্জনার স্তর জমে আছে, যা অনেকে অযত্ন হিসেবে মন্তব্য করেন।
নিয়মিত উদ্যানে ঘুরতে আসা এক যুবক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, “রাজধানীতে পর্যাপ্ত বিনোদন ও শিক্ষামূলক স্থান কম আছে। এই জাদুঘর ছিল এমন একটি জায়গা যেখানে আমরা ইতিহাস জানতে পারতাম এবং টেরাকোটার নকশায় আনন্দিত হতাম। কিন্তু ৫ আগস্টের পর থেকে এটি বন্ধ। ভাঙচুরের অংশগুলো এখনও সরানো হয়নি, যা দুঃখজনক।”
জাদুঘরের সামনে দায়িত্ব পালনরত আনসার সদস্য জানান, “জাদুঘরটি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে। ভেতরে আর কিছু নেই, সবকিছু ভাঙা হয়ে গেছে। এখানে আমি দায়িত্বে থাকি, আর কেউ এখানে আসে না।”
মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি মফিদুল হক জানান, জাদুঘরের বর্তমান অবস্থার বিষয়ে নতুন সরকারের কাছ থেকে একটি স্পষ্ট নীতিগত অবস্থান প্রত্যাশিত। তিনি বলেন, “তৎকালীন সরকারের ভূমিকা ইতোমধ্যেই প্রমাণিত। এখন নতুন সরকার মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ; তাই এই বিষয়টি গুরুত্ব পাওয়া উচিত।”
তিনি আরও বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত জাদুঘরটি পুনরুদ্ধারের আগে ক্ষত উপশম ও ক্ষতিপূরণের বিষয়টি জরুরী, এবং সরকারের উচিত বিষয়টি গুরুত্ব দেওয়া।
জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক তানজিম ইবনে ওয়াহাব বলেন, “নতুন কনটেন্ট সাজানোর কাজ চলমান আছে। আশা করি এই বছরের মে–জুনের মধ্যে জাদুঘরটি পুনরায় খুলতে পারবো। ভাঙচুরে যেসব অংশ নষ্ট হয়েছে, সেগুলো নতুনভাবে তৈরি করা হবে। আগের অবস্থায় সবকিছু ফিরিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়, তাই সম্পূর্ণ নতুনভাবে কিউরেশন করা হচ্ছে, যা কিছু সময় লাগবে।”
ভাঙচুরের ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, তবে ক্ষতির পরিমাণ বিবেচনা করে অ্যাসেসমেন্ট কাজ সম্পন্ন হয়েছে বলে তিনি জানান।
মোহাম্মদী নিউজ এজেন্সী নিউজ – ফিচার – ফটো নেটওয়ার্ক

