এমএনএ আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ সিরিয়ার রাজধানীতে ইরানি কনস্যুলেটে হামলার জবাবে রোববার (১৪ এপ্রিল) গভীর রাতে সরাসরি ইসরায়েলের ওপর হামলা শুরু করে ইরান। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ইসরায়েল ভূখণ্ড লক্ষ্য করে ২ শতাধিক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে ইরান। হামলার শুরু থেকেই বাজছে সাইরেন এবং বিস্ফোরণের তাণ্ডব চলছে জেরুজালেম ও তেল আবিবসহ পুরো ইসরায়েলজুড়ে।
ইসরায়েলের ডিফেন্স ফোর্সেসের মুখপাত্র রিয়ার অ্যাডমিরাল ড্যানিয়েল হাগারি এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এই পরিস্থিতিতে ইসরায়েলি কর্মকর্তারা সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত না হতে এবং সতর্কতা অবলম্বন করার পরামর্শ দিয়েছেন। একইসঙ্গে ইসরায়েলে স্কুল, বিশ্ববিদ্যালয় এবং ক্যাম্প বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এক হাজার জনের বেশি জমায়েতের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী বলেছে, শিক্ষা কার্যক্রম স্থগিত থাকবে এবং ইরানের হামলার কারণে মানুষের জমায়েত সীমিত রাখা হবে।
এদিকে নজিরবিহীন এ হামলার ঘটনায় জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে জরুরি বৈঠকের অনুরোধ করেছেন ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত। ইসরায়েলের জাতিসংঘ রাষ্ট্রদূত গিলাদ এরদান ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ইরানের ড্রোন হামলার বিষয়ে একটি জরুরি বৈঠকের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে নিরাপত্তা পরিষদের প্রেসিডেন্টকে চিঠি লিখেছেন।
অন্যদিকে ইসরায়েলে ইরানের হামলার কারণে নিজ নিজ আকাশসীমা বন্ধ ঘোষণা করেছে ইরাক, জর্ডান ও লেবানন। ইরাকি বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ ঘোষণা দিয়েছে, দেশের আকাশসীমা অস্থায়ীভাবে বন্ধ থাকবে। কোনো ফ্লাইট উড্ডয়ন বা অবতরণ করতে পারবে না। ট্রানজিটও বন্ধ থাকবে।
জর্ডানের সিভিল অ্যাভিয়েশন রেগুলেটরি অথরিটি দেশের আকাশসীমা সাময়িক বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে। রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা পেট্রার প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রতিবেশী ইসরায়েলে ইরানের হামলার কারণে তারা উচ্চ সতর্কতায় রয়েছেন। স্থানীয় সময় রাত ১১টা থেকে পরবর্তী কয়েক ঘণ্টা আকাশসীমা বন্ধ থাকবে। পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে দেশটি।
গত ১ এপ্রিল সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কে অবস্থিত ইরানি কনস্যুলেটে ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইসরায়েল। এতে বিপ্লবী গার্ডের দুই কমান্ডারসহ ৭ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা নিহত হন। সে হামলার জবাবে শনিবার রাতে ইসরায়েলের ভূখণ্ড লক্ষ্য করে কয়েক ডজন ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে ইরান।
মোহাম্মদী নিউজ এজেন্সী নিউজ – ফিচার – ফটো নেটওয়ার্ক

