Don't Miss
Home / হোম স্লাইডার / ৫৬ জেলাতেই ছড়িয়েছে হাম, নজরদারি-টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করার সুপারিশ বিশেষজ্ঞদের

৫৬ জেলাতেই ছড়িয়েছে হাম, নজরদারি-টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করার সুপারিশ বিশেষজ্ঞদের

বিশেষ প্রতিনিধি

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ঢাকা কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দেশের ৬৪ জেলার মধ্যে ৫৬ জেলাতেই ইতোমধ্যে হাম ছড়িয়ে পড়েছে। ৩০ মার্চ পর্যন্ত মোট ২,১৯০ জন সন্দেহভাজন রোগী শনাক্ত হয়েছে, যার মধ্যে ৬৭৬ জনের শরীরে ভাইরাসের উপস্থিতি নিশ্চিত করা গেছে। ইতিমধ্যে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, মৃত্যুর সংখ্যাও ৫০ ছাড়িয়েছে।

বাংলাদেশে হামের বর্তমান প্রাদুর্ভাবের পেছনে শিশুদের নিয়মিত টিকাদানে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হওয়াকেই প্রধান কারণ হিসেবে দেখছে সংস্থাটি। সংস্থাটি জানিয়েছে, গত দুই বছরে টিকাদান কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটায় তৈরি হয়েছে একটি ‘ইমিউনিটি গ্যাপ’, যার ফলেই এখন দেশজুড়ে হামের সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে।

তবে এখনো আটটি জেলা—রাঙামাটি, বাগেরহাট, মেহেরপুর, জয়পুরহাট, গাইবান্ধা, লালমনিরহাট, পঞ্চগড় ও বান্দারবান—সংক্রমণমুক্ত রয়েছে।

বর্তমানে প্রতি ১০ লাখ জনসংখ্যায় সংক্রমণের হার দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৬ দশমিক ৮, যা দেশব্যাপী বিস্তারের স্পষ্ট ইঙ্গিত। অথচ সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই হার ছিল অনেক কম—২০২২ সালে ১.৪১, ২০২৩ সালে ১.৬০, ২০২৪ সালে ১.৪৩ এবং ২০২৫ সালে ০.৭২।

সংক্রমণের সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে ছোট শিশুরা। আক্রান্তদের মধ্যে—৬৯ শতাংশের বয়স ২ বছরের নিচে এবং ৩৪ শতাংশের বয়স ৯ মাসের কম। এতে বোঝা যায়, সবচেয়ে কম বয়সী শিশুদের মধ্যেই সংক্রমণের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি।

যদিও সংক্রমণ সারা দেশে ছড়িয়ে পড়েছে, কিছু অঞ্চল এখন ‘হটস্পট’ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। এরমধ্যে ঢাকা বিভাগে রোগীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি হলেও রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও বরিশাল বিভাগে সংক্রমণের হার তুলনামূলক বেশি। কিছু জেলা ও সিটি করপোরেশন এলাকায় সংক্রমণ কেন্দ্রীয়ভাবে বিস্তার লাভ করছে।

বাংলাদেশে সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি দীর্ঘদিন ধরেই সফল হিসেবে বিবেচিত। ২০১৯ ও ২০২৩ সালের জরিপ অনুযায়ী, ১২ মাস বয়সের মধ্যে পূর্ণ টিকাদানের হার ছিল যথাক্রমে ৮৩.৯% ও ৮১.৬%।

তবুও বর্তমান প্রাদুর্ভাবের পেছনে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ চিহ্নিত করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা—কোভিড-১৯ মহামারির সময় টিকাদানে বিঘ্ন; অনেক শিশুর এক বা একাধিক ডোজ মিস করা; ‘জিরো ডোজ’ ও আংশিক টিকাপ্রাপ্ত শিশুর সংখ্যা বৃদ্ধি; অঞ্চলভেদে টিকাদানের অসম হার এবং স্বাস্থ্যসেবায় প্রবেশাধিকার সীমিত হওয়া।

এসব কারণে একটি বড় জনগোষ্ঠীতে রোগ প্রতিরোধক্ষমতার ঘাটতি তৈরি হয়েছে, যা এখন প্রাদুর্ভাবের রূপ নিয়েছে।

বাংলাদেশের লক্ষ্য ছিল ২০২৬ সালের মধ্যে হাম ও রুবেলা নির্মূল করা—অর্থাৎ টানা ১২ মাস সংক্রমণ শূন্যে নামিয়ে আনা। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের লক্ষ্য অনুযায়ী দেশটি এই পথে ভালো অগ্রগতি করছিল। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই লক্ষ্য এখন হুমকির মুখে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ নির্ভর করবে দ্রুত ও কার্যকর প্রতিক্রিয়ার ওপর। এগুলোর মধ্যে রয়েছে, দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ; সংক্রমণ ট্র্যাকিং; ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় ব্যাপক টিকাদান। এসব ব্যবস্থা ঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণ সম্ভব। অন্যথায় সংক্রমণ আরও বাড়তে পারে এবং নতুন এলাকাতেও ছড়িয়ে পড়তে পারে।

সংস্থাটি সরকারকে কয়েকটি জরুরি পদক্ষেপ নিতে বলেছে—  ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী শিশুদের জন্য দেশব্যাপী বিশেষ টিকাদান ক্যাম্পেইন; নজরদারি ও পরীক্ষার ব্যবস্থা জোরদার; আক্রান্তদের চিকিৎসা ও ভিটামিন ‘এ’ সরবরাহ; জনসচেতনতা ও কমিউনিটি সম্পৃক্ততা বৃদ্ধি; এবং নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির সক্ষমতা বাড়ানো।

এ বিষয়ে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ মুশতাক হোসেন বলেছেন, এই সুপারিশগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে। তিনি আরও বলেন, শুধু মাঠপর্যায়ে নয়, কেন্দ্র ও জেলা পর্যায়েও জনবলের ঘাটতি রয়েছে—এটি পূরণ করা এবং সঠিক জায়গায় সঠিক জনবল নিয়োগ দেওয়া জরুরি। পাশাপাশি জনগণকে সম্পৃক্ত না করতে পারলে এই প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণ কঠিন হবে।

সার্বিকভাবে, বর্তমান পরিস্থিতি স্পষ্ট করে যে, টিকাদানে সামান্য ব্যত্যয়ও বড় ধরনের জনস্বাস্থ্য সংকটে রূপ নিতে পারে—বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে।

x

Check Also

শনিবার বিকেলে ঢাকায় বিক্ষোভ সমাবেশ-মিছিল করবে জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলীয় নির্বাচনি জোট

এমএনএ প্রতিবেদক রাজধানীতে শনিবার বিকেলে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল করবে জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলীয় নির্বাচনি ...