এমএনএ প্রতিবেদক
বিগত ১৮ মাসে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ পর্যালোচনার কাজ শুরু করেছে সংসদীয় বিশেষ কমিটি। জরুরি প্রয়োজনে প্রণীত এসব অধ্যাদেশ নিরপেক্ষভাবে যাচাই করে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে সংসদের কাছে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন কমিটির সভাপতি জয়নুল আবেদীন।
মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত কমিটির প্রথম বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ তথ্য জানান।
জয়নুল আবেদীন বলেন, বিশেষ পরিস্থিতিতে জারি করা এসব অধ্যাদেশ জনস্বার্থে কতটা কার্যকর এবং ভবিষ্যৎ প্রেক্ষাপটে এর প্রাসঙ্গিকতা কতটুকু—তা নিরূপণের লক্ষ্যে সংসদ এই বিশেষ কমিটি গঠন করেছে।
তিনি আরও জানান, প্রথম বৈঠকে অর্ধেকেরও কম অধ্যাদেশ পর্যালোচনা করা হয়েছে। কিছু বিষয়ে সদস্যদের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে, যা নিয়ে পরবর্তী বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে।
কমিটির কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করতে বুধবার দুপুর ২টায় দ্বিতীয় বৈঠক আহ্বান করা হয়েছে। প্রয়োজনে অতিরিক্ত বৈঠকও অনুষ্ঠিত হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তবে আগামী ২ তারিখের আগেই যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সংসদের কাছে প্রতিবেদন উপস্থাপনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
এক প্রশ্নের জবাবে সভাপতি জানান, যাচাই-বাছাই শেষে প্রতিবেদনটি সম্ভাব্যভাবে এক সপ্তাহের মধ্যেই সংসদে ভেটিং ও অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে। তিনি আরও বলেন, প্রতিটি অধ্যাদেশ পুঙ্খানুপুঙ্খ ও নিরপেক্ষভাবে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।
বৈঠক থেকে বের হওয়ার পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সাংবাদিকদের বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া ছাত্র-জনতাকে দায়মুক্তি দেওয়ার যে অধ্যাদেশ রয়েছে, তার সঙ্গে সংসদীয় বিশেষ কমিটি পূর্ণ একমত পোষণ করেছে। এই বীর যোদ্ধাদের আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করা সরকারের নৈতিক ও রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব।
বৈঠকের আলোচনা প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান জানান, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ পর্যালোচনার কাজ শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমরা প্রতিটি অধ্যাদেশ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করছি। আগামী ২ এপ্রিলের মধ্যে এ বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট তৈরি করা হবে। আমাদের মূল লক্ষ্য হলো সংবিধান এবং জন-আকাঙ্ক্ষার মধ্যে সমন্বয় করে এগিয়ে যাওয়া। তবে সব ক্ষেত্রেই অবশ্যই সংবিধানের প্রাধান্য বজায় থাকবে।’
আইনমন্ত্রী আরও স্পষ্ট করেন যে, বিশেষ কমিটির সুপারিশগুলো সরাসরি আইনে পরিণত হবে না। কমিটি তাদের মতামত ও সুপারিশ সংসদে পেশ করবে এবং সংসদই চূড়ান্তভাবে নির্ধারণ করবে সেগুলো আইনে পরিণত হবে কি না।
সংসদীয় নিয়ম অনুযায়ী, নতুন সংসদ গঠিত হওয়ার ৩০ কর্মদিবসের মধ্যে পূর্ববর্তী অধ্যাদেশগুলোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হয়। এরই মধ্যে ১৫ দিন অতিবাহিত হওয়ায় বাকি সময়ের মধ্যেই এই বিশাল কর্মযজ্ঞ শেষ করার চ্যালেঞ্জ নিয়েছে বিশেষ কমিটি।
বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আইনমন্ত্রী ছাড়াও সংসদীয় কমিটির অন্যান্য সদস্য এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
মোহাম্মদী নিউজ এজেন্সী নিউজ – ফিচার – ফটো নেটওয়ার্ক

