এমএনএ রিপোর্ট : সাত বছর সাত মাস পর অবশেষে খুলতে যাচ্ছে নতুন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্তির বন্ধ দুয়ার। গতকাল মঙ্গলবার অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সঙ্গে দেখা করে নতুন বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্তির জন্য অর্থ বরাদ্দ চান শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। দুই মন্ত্রীর আলোচনা শেষে এ বিষয়ে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত হয় বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করে নিজ মন্ত্রণালয়ে ফিরেই শিক্ষামন্ত্রী নতুন প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির সঠিক ব্যয় নির্ধারণ করে মন্ত্রণালয়ে পাঠাতে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরকে (মাউশি) নির্দেশ দেন। গতকাল বিকেলেই মাউশি সম্ভাব্য ব্যয় নির্ধারণ করে মন্ত্রণালয়ে তা পাঠিয়েছে। এ নিয়ে বিচার-বিশ্নেষণ করে আজ বুধবার অর্থ মন্ত্রণালয়ে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দের প্রস্তাব দিতে পারে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
মান্থলি পেমেন্ট অর্ডার তথা এমপিও প্রক্রিয়াটি হচ্ছে বেসরকারি স্কুল-কলেজের শিক্ষকদের বেতনের একটি অংশ সরকার থেকে দেওয়া। এ জন্য প্রথমে যোগ্যতার ভিত্তিতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তালিকাভুক্ত হয় ও শর্ত পূরণের ভিত্তিতে সেই প্রতিষ্ঠানের যোগ্য শিক্ষকরা তালিকাভুক্ত হন। সাত বছর তালিকা করা বন্ধ রাখায় অনেক শিক্ষক বঞ্চিত ও অর্থকষ্টে জীবন যাপন করছেন। এ সময়কালে অনেক প্রতিষ্ঠানের স্তরের উন্নতি তথা নিম্ন-মাধ্যমিকের সঙ্গে উচ্চ মাধ্যমিক বা উচ্চ মাধ্যমিকের পরে স্নাতক চালু হলেও উচ্চতর অংশের শিক্ষকদের এমপিও হয়নি। এমপিওভুক্তির দাবিতে হাজার হাজার শিক্ষক এখন সপ্তাহকাল রাজধানীতে অবস্থান ধর্মঘট ও গত রবিবার থেকে আমরণ অনশনে আছেন।
মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, গতকাল শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে আলাপকালে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত এমপিওভুক্তির অর্থ যেন অপচয় না হয় সে জন্য সঠিক একটি নীতিমালা প্রণয়নের ওপর জোর দেন। শিক্ষামন্ত্রী একটি প্রস্তাবিত নীতিমালা তৈরি করেই নিয়ে গিয়েছিলেন। তিনি তা অর্থমন্ত্রীর হাতে তুলে দিয়ে বলেন, ‘আপনারা এটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখুন। প্রয়োজনে সংযোজন-বিয়োজনও করতে পারেন। চূড়ান্ত করা নীতিমালা অনুসারেই এমপিওভুক্ত করা হবে।’ আবুল মাল আবদুল মুহিত গতকালই দেশের বাইরে গেছেন। তিনি ফিরলে এ বিষয়ে অর্থ ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মধ্যে যৌথ সভা হতে পারে।
সংশ্নিষ্ট সূত্র জানায়, গতকাল দুই মন্ত্রীর আলোচনায় তারা একমত হন- কয়েক বছর এমপিওভুক্তি না করায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে বড় ধরনের অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে। এ থেকে উত্তরণ প্রয়োজন। নির্বাচনের বছর বলে সংসদ সদস্যরাও শিক্ষকদের পক্ষে দাবি তুলেছেন। দুই মন্ত্রী একমত হন- এই মুহূর্তে এমপিওভুক্তির জন্য যে পরিমাণ অর্থ দরকার, তা শুধু প্রধানমন্ত্রীর থোক বরাদ্দের মাধ্যমেই পূরণ হতে পারে। এমপিওভুক্তি নীতিমালা চূড়ান্ত করার পর প্রধানমন্ত্রীর কাছে থোক বরাদ্দ চাওয়া হবে।
জানতে চাইলে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ গতকাল গণমাধ্যমকে বলেন, ‘অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে কথা হয়েছে। তিনি আশ্বাস দিয়েছেন। তার আশ্বাসের ওপর ভর করে আমরা প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া এগিয়ে রাখছি।’
এসব প্রক্রিয়া শেষ করার পর গতকাল শিক্ষামন্ত্রী জাতীয় প্রেস ক্লাবে গিয়ে আমরণ অনশনরত শিক্ষকদের এমপিওভুক্তির আশ্বাস দিয়ে তাদের কর্মসূচি প্রত্যাহারের জানালেও শিক্ষকরা এমপিওভুক্তির সুনির্দিষ্ট তারিখ দাবি আদায়ের আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
২০০৯ সালের ১৬ জুন সর্বশেষ নতুন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির পর আর কোনো উদ্যোগ ছিল না। বর্তমানে সারাদেশের প্রায় সাড়ে সাত হাজার নতুন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে।

জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আমরণ অনশনরত নন-এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীবৃন্দ।
মোহাম্মদী নিউজ এজেন্সী নিউজ – ফিচার – ফটো নেটওয়ার্ক

