Don't Miss
Home / আজকের সংবাদ / অস্ট্রেলিয়াকে ২৬৫ রানের লক্ষ্য দিল বাংলাদেশ

অস্ট্রেলিয়াকে ২৬৫ রানের লক্ষ্য দিল বাংলাদেশ

এমএনএ স্পোর্টস ডেস্ক : মিরপুর টেস্টে অস্ট্রেলিয়াকে ২৬৫ রানের চ্যালেঞ্জিং সংগ্রহই ছুড়ে দিয়েছে বাংলাদেশ। যদিও বড় লক্ষ্য ছুড়ে দেয়ার সুযোগ ছিল বাংলাদেশের সামনে। সেই সুযোগ হাতছাড়া করেছে মুশফিকুর রহিমের দল। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত সফরকারীরা নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে দিনশেষে ২ উইকেটে ১০৯ রান তুলে জয় থেকে আর মাত্র ১৫৬ রান দূরে।

প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের করা ২৬০ রানের জবাবে ২১৭ রানে গুটিয়ে যায় অস্ট্রেলিয়া। ৪৩ রানের লিড নিয়ে ব্যাটিংয়ে নামা বাংলাদেশ মঙ্গলবার টেস্টের তৃতীয় দিনের শেষ সেশনের শুরুতেই ২২১ রানে গুটিয়ে যায়। ফলে অস্ট্রেলিয়ার সামনে ২৬৫ রানের লক্ষ্যমাত্রা দাঁড়ায়।

দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ ৭৮ রানের ইনিংস খেলেন তামিম ইকবাল। এছাড়া মুশফিক ৪১, মেহেদী হাসান মিরাজ ২৬ এবং সাব্বির রহমান করেন ২২ রান।

অস্ট্রেলিয়ার সফলতম বোলার নাথান লায়ন। ৮২ রানে ৬ উইকেট নেন তিনি। এছাড়া অ্যাস্টন অ্যাগার দুটি ও প্যাট কামিন্স নেন একটি উইকেট।

চোটের কারণে জশ হেইজেলউড বোলিং করতে না পারায় একটু ভুগেছে অস্ট্রেলিয়া। তবে লায়ন ছিলেন দুর্দান্ত। বাংলাদেশের কন্ডিশনে লায়নের ওপর ভরসা করেছিল দল। দুই ইনিংস মিলিয়ে ৯ উইকেট নিয়ে দিলেন আস্থার প্রতিদান।

আজ মঙ্গলবার ১ উইকেটে ৪৫ রান নিয়ে ব্যাটিংয়ে নামা বাংলাদেশ দিনের এক ঘণ্টা না পেরুতেই তাইজুল-ইমরুলকে হারিয়ে সেই চাপে পড়ে। সকালে সাবধানী শুরুর পর দলীয় ৬১ রানের মাথায় নাথান লায়নের বলে তাইজুল লেগ বিফোরের ফাঁদে পড়লে হোঁচট খায় বাংলাদেশ। কিছুক্ষণ পর দলীয় ৬৭ রানের মাথায় ডেভিড ওয়ার্নারকে ক্যাচ দিয়ে তাইজুলকে অনুসরণ করেন ইমরুল।

দ্রুত দুই উইকেট হারানোর ধাক্কা সামলে ওঠে বাংলাদেশ; যাতে নেতৃত্ব দেন তামিম ও মুশফিক। ক্যারিয়ারের ৫০তম টেস্ট খেলতে নেমে প্রথম ইনিংসে হাফসেঞ্চুরি (৭১) করা পর দ্বিতীয় ইনিংসে সেঞ্চুরির স্বপ্ন জাগিয়েও ফিরে যান ৭৮ রান করে।

চতুর্থ ব্যাটসম্যান হিসেবে তামিম ইকবাল আউট হওয়ার পর ক্রিজে মুশফিকুর রহিমের সঙ্গে যোগ দেন সাকিব। লায়নের করা ৫৬তম ওভারের তৃতীয় বলে মিড অফ দিয়ে দারুণ এক চার হাঁকান সাকিব। একই ওভারের পঞ্চম বলে ডাউন দ্য ট্র্যাকে এসে খেলতে গিয়ে মিড অফে প্যাট কামিন্সকে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন তিনি। সাকিবের বিদায়ের পর মুশফিক ও সাব্বিরের জুটিতে এগিয়ে যেতে থাকে বাংলাদেশ।

কামিন্সের বলে তামিমের বিরুদ্ধে একটি এলবিডব্লুর জোরালো আবেদন হয়েছিল। মাঠের আম্পায়ার আলিম দার তাতে ‘না’ বলে দেওয়ায় অস্ট্রেলীয় অধিনায়ক স্টিভ স্মিথ রিভিউও নিয়েছিলেন, কিন্তু টিভি আম্পায়ার ইয়ান গোল্ড নিশ্চিত করেছেন, আলিম দারের সিদ্ধান্ত ঠিকই ছিল।

তবে হঠাৎ তালগোল পাকিয়ে ফেলেন বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা। দলীয় ১৮৬ রানের মাথায় পরপর মুশফিক, নাসির ও সাব্বিরের বিদায়ে ব্যাকফুটে চলে যায় টাইগাররা। নাথান লায়নের করা ৬৮তম ওভারের পঞ্চম বল সাব্বির রহমান বোলার বরাবর শট খেলেন। লায়ন বলে আলতো ছোঁয়া লাগান। মুশফিক কাছেই ছিলেন; ক্রিজ থেকে সামান্য বাইরে। কিন্তু কী ঘটতে যাচ্ছে সেটি বুঝতে বিলম্ব করে ফেলেন তিনি। যখন বুঝলেন তখন আমার ক্রিজে ফেরা সম্ভব হয়নি।

মুশফিকের পরপরই বিদায় নেন নাসির। অ্যাস্টন অ্যাগারের বলে উইকেটের পেছনে নাসির হোসেনকে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন তিনি। লায়নের করা পরের ওভারে পিটার হ্যান্ডসকম্বকে ক্যাচ দিয়ে নাসিরকে অনুসরণ করেন সাব্বির। বাংলাদেশের রান তখন ৮ উইকেটে ১৮৬।

শূন্য রানে ৩ উইকেট হারিয়ে হঠাৎ বিপাকে পড়ে বাংলাদেশ। ১৮৬/৫ থেকে মুহূর্তেই ১৮৬/৮ হয়ে গেল বাংলাদেশ। তাতেই ম্যাচে ফিরে এল অস্ট্রেলিয়া। তবে নবম উইকেটে শফিউল ইসলামকে নিয়ে ২৮ রানের দারুণ জুটি গড়েন মিরাজ। অ্যাশটন অ্যাগারের ওভারে পরপর দুটি বাউন্ডারি হাঁকিয়েছেন মিরাজ। লক্ষ্যটা অনুমিতই। অলআউট হওয়ার আগে অস্ট্রেলিয়ার জন্য টার্গেটটা ধরাছোঁয়ার বাইরে নিয়ে যাওয়া। মেহেদী হাসান মিরাজ চা-বিরতির আগে দলকে আর কোনো ধাক্কা খেতে দেননি।

শফিউলকে নিয়ে বাকি সময়টা কাটিয়ে দিয়েছেন, দলকে এনে দিয়েছেন মহাগুরুত্বপূর্ণ আরও ২৮টি রান। চা বিরতির পরপরই লায়নের করা ওভারে ৭ রানের ব্যবধানে দুজনই আউট হওয়ায় ২২১ রানে থেমেছে বাংলাদেশ। ২৬৪ রানের লিড বাংলাদেশের।

এর আগে সাকিব আল হাসান ও মেহেদী হাসান মিরাজের বোলিং তোপে পড়ে গতকাল সোমবার চা বিরতির পর ২১৭ রানে গুটিয়ে যায় অস্ট্রেলিয়া। অ্যাস্টন অ্যাগার-প্যাট কামিন্সের আগে বাংলাদেশের বোলারদের বিপক্ষে যা একটু লড়েছেন ম্যাট রেনশ ও পিটার হ্যান্ডসকম্ব।

অস্ট্রেলিয়ার হয়ে রেনশ ৪৫ এবং হ্যান্ডসকম্ব করেন ৩৩ রান। গ্লেন কামিন্স ২৫ এবং ম্যাক্সওয়েল আউট হন ২৩ রান করে। ডেভিড ওয়ার্নার (৮) এবং উসমান খাজার (১) পর ব্যাট হাতে ব্যর্থ হয়েছেন অধিনায়ক স্টিভেন স্মিথও (৮)। ওয়েড ফিরেছেন ৫ রান করে। অ্যাগার ৪১ রানে অপরাজিত থাকেন।

বাংলাদেশের হয়ে পাঁচটি এবং মেহেদী হাসান মিরাজ নেন তিনটি উইকেট। তাইজুল ইসলাম নেন একটি উইকেট।

এর আগে বাংলাদেশের ২৬০ রানের মাঝারি মানের সংগ্রহের কৃতিত্ব সাকিব ও তামিম ইকবালের। ১০ রানে ৩ উইকেট হারানোর পর চতুর্থ উইকেটে এই দুজন ১৫৫ রানের দুর্দান্ত জুটি গড়েন। আর তাতে করে লড়াই করার পুঁজি পায় টাইগাররা।

বাংলাদেশের হয়ে ৫০তম টেস্ট খেলতে নামা সাকিব ৮৪ রানের দায়িত্বশীল ইনিংস উপহার দেন। সমান ৫০তম টেস্ট খেলতে নামা তামিম করেন ৭১ রান। নাসির ২৩ এবং মুশফিক ও মিরাজ সমান ১৮ রানের ইনিংস খেলেন।

চ্যালেঞ্জটা এবার অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটসম্যানদের। স্পিন-বান্ধব উইকেটে আশায় বাংলাদেশ।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

বাংলাদেশ ১ম ইনিংস : ২৬০

অস্ট্রেলিয়া ১ম ইনিংস : ২১৭

বাংলাদেশ ২য় ইনিংস : (আগের দিন ৪৫/১) ৭৯.৩ ওভারে ২২১ (তামিম ৭৮, সৌম্য ১৫, তাইজুল ৪, ইমরুল ২, মুশফিক ৪১, সাকিব ৫, সাব্বির ২২, নাসির ০, মিরাজ ২৬, শফিউল ৯, মুস্তাফিজ ০; হেইজেলউড ০/৩, কামিন্স ১/৩৮, লায়ন ৬/৮২, ম্যাক্সওয়েল ০/২৪, অ্যাগার ২/৫৫, খাওয়াজা ০/১)

x

Check Also

ব্যাংক রেজুলেশন আইন ২০২৬ দুর্নীতি সহায়ক, লুটেরাদের পুনর্বাসন আত্মঘাতী: টিআইবি

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক সদ্য পাস হওয়া ব্যাংক রেজুলেশন আইন, ২০২৬ নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনার ...