এমএনএ অর্থনীতি রিপোর্ট : রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেল সরাসরি পুঁজিবাজারে আসবে। নতুন ২০ তলা ভবন সংস্কার ও সম্প্রসারণ কাজ শেষে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হবে। প্রাথমিক গণপ্রস্তাবে (আইপিও) সোনারগাঁও হোটেলের অন্তত ৩০ শতাংশ শেয়ার বিক্রি করবে।
পাঁচ তারকা হোটেল সম্প্রসারণে কার পার্কিংয়ের জায়গায় ২০ তলা নতুন ভবন নির্মাণ করা হবে। হোটেল নির্মাণে ব্যয় হবে ৪৫০ কোটি টাকা। সরাসরি তালিকাভুক্ত পদ্ধতি অনুসরণের পরিকল্পনা রয়েছে। বিভিন্ন সূত্র স্টক বংলাদেশকে এমন তথ্য নিশ্চিত করেছে।
সম্প্রতি অনুষ্ঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক সূত্র ও হোটেল কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বর্তমানে সোনারগাঁও হোটেলের সংস্কার কার্যক্রম চলছে। এতে ব্যয় হচ্ছে প্রায় ১৫০ কোটি টাকা। আগামী ছয় থেকে সাত মাসের মধ্যে কাজ শেষ হবে। আগামী বছরে ২০ তলা নতুন ভবন নির্মাণ কাজ শুরুর পরিকল্পনা রয়েছে। এতে প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৪৫০ কোটি টাকা।
নতুন ভবন নির্মাণের জন্য পরামর্শক নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে। চলতি সপ্তাহে শীর্ষ কর্মকর্তারা আগ্রহী পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ও তাদের কাজ পরিদর্শনে ব্যাংকক যাবেন।
জানতে চাইলে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন বলেন, সোনারগাঁও হোটেলের শেয়ার বিক্রির সিদ্ধান্ত সরকার অনেক আগেই নিয়েছে। চলমান সংস্কার ও সম্প্রসারণ করে কোম্পানিটি অবশ্যই শেয়ারবাজারে যাবে।
এদিকে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন অপর হোটেল রূপসী বাংলারও (সাবেক শেরাটন) ব্যাপক সংস্কার কার্যক্রম চলছে। আগামী বছর হোটেলটি ইন্টার কন্টিনেন্টাল নামে এর পুনরায় ব্যবসায়িক কার্যক্রম শুরুর কথা রয়েছে। সরকার চাচ্ছে, বাংলাদেশ সার্ভিসেস নামক কোম্পানির অধীনে পরিচালিত হোটেলটির আরও অন্তত ২০ শতাংশ শেয়ার বিক্রি করতে। এক্ষেত্রেও সরাসরি তালিকাভুক্ত পদ্ধতি অনুসরণের পরিকল্পনা রয়েছে।
২০০৮ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার রাষ্ট্রীয় মালিকানার যে ২৬ কোম্পানির শেয়ার শেয়ারবাজারের মাধ্যমে বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছিল সোনারগাঁও হোটেল তার একটি। আওয়ামী লীগ সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর ২০১০ সালের ডিসেম্বরে ওই সিদ্ধান্ত বহাল রাখে। কোম্পানিটি শেয়ারবাজারে আসার জন্য সম্পদ পুনর্মূল্যায়ন কাজও সম্পন্ন করে। এরই মধ্যে সংস্কার ও সম্প্রসারণ কাজ শুরু হওয়ায় ওই প্রক্রিয়া সাময়িক স্থগিত আছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
সরকারের সর্বশেষ পরিকল্পনা অনুযায়ী, সরাসরি তালিকাভুক্ত (ডিরেক্ট লিস্টিং) প্রক্রিয়ায় হোটেলস ইন্টারন্যাশনালের নামে কোম্পানির অধীনে পরিচালিত সোনারগাঁও হোটেলের অন্তত ৩০ শতাংশ শেয়ার বিক্রি করা হবে। বর্তমানে হোটেলস ইন্টারন্যাশনালের পরিশোধিত মূলধন প্রায় ৬০ কোটি টাকা। গত বছর এর বার্ষিক টার্নওভার ছিল প্রায় ১৬০ কোটি টাকা। মুনাফা হয় প্রায় ৫০ কোটি টাকা।
সরকারের মালিকানায় ১৯৭৭ সালে হোটেলস ইন্টারন্যাশনাল কোম্পানিটি গঠন করা হয়। রাজধানীর কারওয়ান বাজারে আট একর জায়গার ওপর পাঁচ তারকা হোটেলটি নির্মাণ শেষে ১৯৮১ সালের আগস্টে চালু হয়। শুরু থেকে আন্তর্জাতিক চেইন হোটেল প্যান প্যাসিফিক এর পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পালন করে আসছে।
১৯৭৭ সালে নির্মাণের ৩০ বছর পর ২০০৮ সালে হোটেলটির কিছু সংস্কার করা হয়েছিল। এরপর গত আট বছরে আর কোনো সংস্কার হয়নি।
হোটেলস ইন্টারন্যাশনালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবুল হাসনাত মো. জিয়াউল হক জানান, গত বছর থেকে শুরু হওয়া সংস্কার কাজ প্রায় শেষের পথে। এতে বাথরুমসহ অতিথিদের কক্ষের ইন্টেরিয়র ডিজাইন পরিবর্তনসহ আধুনিক ও উন্নতমানের ফিটিংস স্থাপন করা হচ্ছে। পাশাপাশি নতুন লিফটও স্থাপন করা হবে।
তিনি বলেন, হোটেলটি যখন নির্মাণ হয়, তখনকার সময়ের তুলনায় বর্তমানের অতিথিদের রুচি ও চাহিদায় ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। একটি পাঁচতারকা হোটেলের সব সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা ও অতিথিদের স্বাচ্ছন্দ্যের বিষয়গুলো বিবেচনায় রেখে ব্যাপক সংস্কার কার্যক্রম চলছে।
কোম্পানি সচিব আবদুন নূর মোহাম্মদ আল ফিরোজ বলেন, আয় বাড়াতে এর সম্প্রসারণও জরুরি। আবার সরকারও শেয়ার বিক্রি থেকে ভালো মূল্য পেতে চাইবে। এজন্য সরকারের কাছে সংস্কার ও সম্প্রসারণ শেষে শেয়ারবাজারে আসার প্রক্রিয়া শুরুর প্রস্তাব করা হয়েছে। সরকারের নীতিনির্ধারক মহলও হোটেল কর্তৃপক্ষের প্রস্তাব অনুমোদন করেছে।
মোহাম্মদী নিউজ এজেন্সী নিউজ – ফিচার – ফটো নেটওয়ার্ক


