এমএনএ অর্থনীতি ডেস্ক : চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেটে ঘোষিত জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।আগামী অর্থবছরে দেশের মাথাপিছু আয় তিন হাজার ৮৯ মার্কিন ডলারে উন্নীত হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।রোববার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত ‘অর্থনৈতিক বিষয়ক সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি’ ও ‘সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি’ ভার্চুয়াল বৈঠক শেষে এক ব্রিফিং-এ সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
প্রসঙ্গত: অতি সম্প্রতি করোনা মহামারির কারণে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। এ প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধির বিষয়ে অর্থমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, গতবছর জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৫ দশমিক ৪৩ শতাংশ। এ বছর জিডিপি প্রবৃদ্ধি হবে ৭ দশমিক ২ শতাংশ।
অর্থমন্ত্রী বলেন, চলতি অর্থবছর শেষে আমাদের জিডিপি’র আকার অর্ধ ট্রিলিয়নের মাইলফলক স্পর্শ করবে। এ সময়ে জিডিপি’র আকার দাঁড়াবে ৪৫ হাজার ৫০০ কোটি ডলার এবং মাথাপিছু আয় ২ হাজার ৭৮৫ ডলারে উন্নীত হবে। জিডিপি’র আকারকে মোট জনগোষ্ঠীর সংখ্যা দিয়ে ভাগ দিলেই মাথাপিছু আয়ের এ হিসাব পাওয়া যাবে। অন্যদিকে আগামী অর্থবছর আমাদের জিডিপি প্রবৃদ্ধি হবে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ এবং মাথাপিছু আয় দাঁড়াবে ৩ হাজার ৮৯ মার্কিন ডলার।
প্রসঙ্গক্রমে তিনি বলেন, আইএমএফ সবসময় বিশ্বের অর্থনীতি একদিকে বিশ্লেষণ করে, অন্যদিকে তাদের পর্যবেক্ষণ বা প্রতিবেদন প্রকাশ করে। আমরা প্রত্যাশা করছি ৭.২ শতাংশ, এর বিপরীতে আইএমএফ বলছে আমাদের ৬.৬ শতাংশ আমরা অর্জন করতে সক্ষম হবো। আইএমএফ সবসময় কনজারবেটিভলি তাদের সংশ্লিষ্টরা সব দেশের জন্যই সেভাবেই প্রক্ষেপণ করে। আমরা অবশ্যই অতীতের মতো আমার বিশ্বাস আমরা যা বলেছি সেটা অর্জন করতে সক্ষম হবো।
অপর এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, বিদেশে বিনিয়োগ অন্যায় কিছু না। যদি অনুমতি না দেই তাহলে এটা চলে যাবে হুন্ডির মাধ্যমে বিভিন্ন জায়গায়। তার চেয়ে যদি আমরা অফিসিয়ালি অনুমোদন করি সেটা ভালো উদ্যোগ। এর ফলে দেশের মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। আমাদের দেশের লোকজনের প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব অনেক বেশি, আমাদের সক্ষমতাও অনেক বেশি।
চলতি বছর দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ ২৫ শতাংশ কমে গেছে, এ বিষয় জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী বলেন, বিনিয়োগ অন্য জিনিস। বাংলাদেশ এখন উন্নয়নশীল দেশের কাতারে। উন্নয়নশীল দেশের কাতারে আরও অন্যান্যরাও আছে। সব দেশই তাদের ফরেন এক্সচেঞ্জ রেটটা আস্তে আস্তে অনুমোদন করে। জনগণের বিদেশি বিনিয়োগের জন্য এটা করা হয়, আমরাও সেই পথে যাচ্ছি।
অর্থমন্ত্রী বলেন, ফরেন এক্সচেঞ্জ রিজার্ভ আমাদের ওঠানামা করবে, যখন আমরা আমদানি বেশি করি তখন রিজার্ভ থেকেই সেটা ব্যয় করতে হয়। রিজার্ভ কীভাবে হয়? যখন আমরা রপ্তানি করি তখন সেই রপ্তানির ফলে অর্জিত অর্থ চলে যায় বিভিন্ন ব্যাংকের কাছে। তাদের নির্দিষ্ট লিমিট থাকে, এর বেশি তারা বৈদেশিক মুদ্রা রাখতে পারে না। তখন তাদের বিক্রি করতে হয়, বিক্রি করলে বাংলাদেশ ব্যাংক সেটা কিনে নেয়। সেভাবেই বাংলাদেশ ব্যাংকের ফরেন এক্সচেঞ্জ বাড়ে।
তিনি আরও বলেন, তেমনিভাবে রেমিট্যান্স যখন বেশি আসে তখন সেটি চলে যায় সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর কাছে। ব্যাংকগুলো তা বিক্রির জন্য দারস্থ হয় বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে। বাংলাদেশ ব্যাংক এগুলো কিনে নিয়ে তাদের ফরেন এক্সচেঞ্জ রিজার্ভ বৃদ্ধি করে। আমরা এখন বিপুল অংকের আমদানি বিল পরিশোধ করতে হচ্ছে। এতে করে রিজার্ভ কিছুটা ওঠানামা করে, আমরা পেমেন্ট করলে কিছুটা কমে। এখন যে ৪৫ থেকে ৪৬ বিলিয়ন ডলারে ওঠানামা করছে এটা ঠিক আছে। আমরা যদি পেমেন্ট না করতাম, তাহলে বহু আগেই রিজার্ভ ৫০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যেতো।
মোহাম্মদী নিউজ এজেন্সী নিউজ – ফিচার – ফটো নেটওয়ার্ক

