Don't Miss
Home / আজকের সংবাদ / আদালতে ডুকরে কাঁদলেন খালেদা জিয়া

আদালতে ডুকরে কাঁদলেন খালেদা জিয়া

এমএনএ রিপোর্ট : জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় আজ আদালতে হাজিরা দিয়ে অসমাপ্ত বক্তব্য প্রদানকালে আবেগাপ্লুত হয়ে আদালতে ডুকরে কাঁদলেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। বক্তব্যে মৃত ছেলে কোকোর প্রসঙ্গ তুলে ধরে ডুকরে কেঁদেছেন তিনি। তার কান্নায় উপস্থিত আইনজীবীদেরও চোখ ভিজে যায়।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে পুরান ঢাকার বকশীবাজার আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে স্থাপিত অস্থায়ী ৫ নম্বর বিশেষ জজ আদালতে তিনি এ অসমাপ্ত বক্তব্য দেন। প্রায় ঘণ্টাব্যাপী তিনি লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন।
আমি রাজপথের রাজনীতিক। জিয়ার আদর্শে রাজনীতিতে এসেছিলাম বলে আত্মপক্ষ সমর্থনের বক্তব্যে জানান বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। দীর্ঘ বছর থেকে চলে আসা জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় আদালতে আত্মপক্ষ সমর্থন করে বক্তব্য উপস্থাপনের সময় এসব কথা বলেন তিনি।
বক্তব্যের এক পর্যায়ে তিনি বলেন, ‘মাননীয় আদালত আপনি নিশ্চয়ই দেখতে পাচ্ছেন, সম্প্রতি বছরগুলোতে আমরা বিরুদ্ধে একের পর এক মিথ্যা মামলা দায়ের করা হচ্ছে। জারি করা হচ্ছে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা। চারদশকের স্মৃতি বিজড়িত বসত বাড়ি থেকে আমাকে উচ্ছেদ করা হয়েছে। আমাকে বাসা ও রাজনৈতিক কার্যালয়ে বালুর ট্রাক দিয়ে কয়েক দফায় অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘আমি অফিসে অবরুদ্ধ থাকা অবস্থায় বিদ্যুৎ, পানি, টেলিফোন, ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়। আমি অবরুদ্ধ অবস্থাতে বিদেশে চিকিৎসাধীন ছোট ছেলের মৃত্যুর সংবাদ পাই।
এরপরই খালেদা জিয়া আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। কান্নায় কন্ঠ জড়িয়ে যায়। ছেলের জন্য কান্নায় চোখ ভিজে যায়। কিন্তু পরক্ষণেই আবার নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করে বলেন, ‘আমি সেইদিন (কোকোর মৃত্যুর দিন) এবং আমার সঙ্গে যারা অফিসে অবরুদ্ধ ছিলেন তাদের বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ বানোয়াট একটি মামলা দায়ের করা হয়। অভিযোগ করা হয় রাস্তায় গাড়ি পুরানো এবং বিস্ফোরক দিয়ে মানুষ হত্যার। অফিসে অবরুদ্ধ থাকাকালীন অবস্থায় নাকি আমরা এসব করেছি। এটা কি কোনো সভ্য মানুষিকতার আচরণ হতে পারে?’
খালেদা জিয়ার আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া বলেন, দুপুর ১২টার দিকে রাজধানীর বকশীবাজারে আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে স্থাপিত ঢাকার ৫ নম্বর বিশেষ জজ ড. আখতারুজ্জামানের আদালতে পৌঁছান খালেদা জিয়া। এরপর খালেদা জিয়া তার আত্মপক্ষ সমর্থনে বক্তব্য শুরু করেন।
এ ছাড়া জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় সাক্ষীদের পুনরায় জেরার দিন ধার্য রয়েছে আজ।
দুর্নীতির এ দুই মামলায় চলতি মাসের ১২ অক্টোবর খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিলেন আদালত। ১৯ অক্টোবর এ দুই মামলায় তার জামিন মঞ্জুর করেন আদালত। ওই দিন তিনি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় আত্মপক্ষ সমর্থনে নিজের বক্তব্য উপস্থাপন শুরু করেন।
জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের নামে অবৈধভাবে ৩ কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা লেনদেনের অভিযোগে ২০১০ সালের ৮ আগস্ট রাজধানীর তেজগাঁও থানায় একটি মামলা করেছে দুদক।
আর জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের নামে এতিমদের জন্য বিদেশ থেকে আসা ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৭১ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ২০০৮ সালের ৩ জুলাই রাজধানীর রমনা থানায় অপর মামলা করা হয়।
x

Check Also

ব্যাংক রেজুলেশন আইন ২০২৬ দুর্নীতি সহায়ক, লুটেরাদের পুনর্বাসন আত্মঘাতী: টিআইবি

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক সদ্য পাস হওয়া ব্যাংক রেজুলেশন আইন, ২০২৬ নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনার ...