Don't Miss
Home / জাতীয় / আফগানিস্তানের জনগণের ইচ্ছার সমর্থন জানিয়ে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে বাংলাদেশ
আফগানিস্তান

আফগানিস্তানের জনগণের ইচ্ছার সমর্থন জানিয়ে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে বাংলাদেশ

এমএনএ জাতীয় ডেস্ক : আফগানিস্তানে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দেশটির ‘জনগণের ইচ্ছার’ প্রতি ঢাকার সমর্থন থাকবে বলে ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ। ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (পূর্ব) মাশফি বিনতে শামস রোববার রাতে যুগান্তরকে বলেন, ‘আমরা আফগানিস্তানের জনগণের সঙ্গে আছি। আমরা অতীতেও আফগানিস্তানের জনগণের সঙ্গে কাজ করেছি। ভবিষ্যতে আফগান জনগণের রায়ের প্রতি আমাদের পূর্ণ সমর্থন থাকবে।’ গোটা পরিস্থিতি ঢাকা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘আমরা সব সময় আফগানিস্তানে শান্তি ও স্থিতিশীলতা চাই। আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার পক্ষে আমাদের অবস্থান।’

ঢাকার তরফে এটাও বলা হয় যে, আফগানিস্তানে শান্তি ও স্থিতিশীলতা খুবই প্রয়োজন। দক্ষিণ এশিয়ার উন্নয়নের জন্য একত্রিত নীতি গ্রহণ করা প্রয়োজন। আফগানিস্তানের পুনর্গঠন ও উন্নয়নে অংশ নিতে দেশটির সঙ্গে বাংলাদেশ সম্পৃক্ত থাকবে। ২০০৭ সালে আফগানিস্তান সার্কের সদস্য হওয়ার সময়ও বাংলাদেশ সমর্থন দিয়েছিল। আফগানিস্তানে বাংলাদেশের কূটনৈতিক মিশন ছিল। সোভিয়েত অধিগ্রহণের পর নিরাপত্তাজনিত কারণে মিশন প্রত্যাহার করা হয়। দেশটিতে নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি হলে দূতাবাস চালু করবে বাংলাদেশ।

ঢাকার ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘আফগানিস্তান তার নিজের গন্তব্য নিজেই নির্ধারণ করবে বলে দেশটির প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানি যে মন্তব্য করেছেন; বাংলাদেশ একে স্বাগত জানায়। বাংলাদেশ এ-ও মনে করে, তালেবানরাও আফগান সমাজের অংশ। ফলে দুপক্ষের মধ্যে দোহায় আলোচনার পাশাপাশি নিরপেক্ষ সংস্থা হিসাবে জাতিসংঘের অধিকতর ভূমিকা বাংলাদেশ প্রত্যাশা করে। সিল্করোডের গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থলে আফগানিস্তানের অর্থনীতির নতুন অবয়বও বাংলাদেশ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। আফগানিস্তানের ভৌগোলিক অখণ্ডতাও বাংলাদেশ বিশ্বাস করে।’

তিনি বলেন, ‘আফগানিস্তানে স্বাস্থ্য, শিক্ষাসহ মৌলিক আর্থ-সামাজিক অনেক বিষয়ে বাংলাদেশ কাজ করতে আগ্রহী। তবে এসব কাজের পূর্বশর্ত হলো দেশটিতে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা। গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করার প্রতিও বাংলাদেশের সমর্থন রয়েছে।’

উল্লেখ্য, ঢাকায় আফগানিস্তানের দূতাবাস রয়েছে। বিগত তালেবান আমলে ঢাকায় আগের সরকারের প্রতিনিধি ‘চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স’ (সিডিএ) হিসাবে কাজ করেছেন। তালেবানের কোনো প্রতিনিধি বাংলাদেশে আসেননি। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময়ে পাকিস্তান থেকে অনেক বাংলাদেশি আফগানিস্তানে পালিয়ে আশ্রয় নিলে আফগান জনগণ তাদের সাদরে গ্রহণ করেন। স্বাধীনতার পর সত্তরের দশকে রেডক্রস ও ইউএনএইচসিআর আফগান বিমান ভাড়া করে পাকিস্তানে আটকে পড়া বাংলাদেশিদের ফিরিয়ে আনে।

কর্মীদের ফিরিয়ে আনছে ব্র্যাক : আফগানিস্তান থেকে বাংলাদেশিদের ফিরিয়ে আনা শুরু করেছে ব্র্যাক। তালেবানের সঙ্গে সরকারি বাহিনীর তুমুল যুদ্ধের কারণে ভয়াবহ অবস্থা সৃষ্টির পরিপ্রেক্ষিতে সংস্থাটি এ পদক্ষেপ নিয়েছে। এদিকে বাংলাদেশ বলেছে, আফগানিস্তানের পরিস্থিতি নিবিড় পর্যবেক্ষণ করছে ঢাকা। কর্মকর্তারা বলছেন, নিরাপত্তাজনিত বিষয়ে বাংলাদেশ কোনো পক্ষে যাবে না। তবে দেশটিতে শান্তি ফেরাতে জাতিসংঘের আরও ভূমিকা আশা করে বাংলাদেশ। ভবিষ্যতে শান্তি ফিরলে আফগানিস্তান পুনর্গঠন এবং সামাজিক উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণে বাংলাদেশের আগ্রহ রয়েছে।

ব্র্যাক ইন্টারন্যাশনালের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আফগানিস্তান থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে আন্তর্জাতিক সেনা প্রত্যাহার শুরুর পরই দেশটিতে সহিংসতা বাড়তে থাকে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ব্র্যাক তার কর্মীদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিতের ব্যবস্থা নিয়েছে। সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক শামেরান আবেদ বলেছেন, ‘আফগানিস্তানে কর্মীদের সুরক্ষা ও নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে ব্র্যাক ইন্টারন্যাশনাল।’

এতে উল্লেখ করা হয়, ১৯ বছরের বেশি সময় দেশটিতে কাজ করছে ব্র্যাক। সেখানে তারা শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কমিউনিটির উন্নয়ন, মানবিক ও করোনাভাইরাস প্রতিরোধ সংক্রান্ত সহায়তা এবং খাদ্য নিরাপত্তা সেবা দিয়ে আসছে। দেশটির ১০টি প্রভিন্সে প্রায় তিন হাজার ব্র্যাক কর্মী কাজ করছেন। তাদের মধ্যে ১২ জন বাংলাদেশিসহ প্রবাসী ১৪ জনকে নিজ নিজ দেশে ফিরিয়ে আনা হচ্ছে। প্রবাসী কর্মীদের মধ্যে তিনজন বাংলাদেশিসহ পাঁচ জন ছুটিতে দেশটির বাইরে ছিলেন, যাদের আফগানিস্তানে ফিরে যেতে নিষেধ করা হয়েছে। বাকি নয় জন বাংলাদেশির মধ্যে তিন জন দেশটি থেকে শুক্রবার বিমানযোগে ফিরেছেন। বাকি ছয় জনের ২২ আগস্টের মধ্যে রওয়ানা দেওয়ার কথা।

এদিকে, বাংলাদেশ সরকার ব্র্যাকের কর্মীদের দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সংস্থাটিকে আগেই সতর্ক করেছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেন শনিবার যুগান্তরকে বলেছেন, ‘আফগানিস্তানে বাংলাদেশের কোনো দূতাবাস নেই। সেখানে তালেবান কিংবা বর্তমান সরকার কারও সঙ্গে আমাদের কোনো ঝগড়াও নেই। আফগানিস্তানে আমেরিকানদের অর্থে ব্র্যাকের কার্যক্রম আছে। তারা কাজটা ভালো করে। শিক্ষার ট্রেনিং দেয়, নারীর ক্ষমতায়নে ট্রেনিং দেয়। কিন্তু তারা কাজটা করে আমেরিকার অর্থে। ফলে আমরা তাদের অপ্রয়োজনীয় স্টাফদের ফিরিয়ে আনার জন্য অনেক আগেই বলেছি। আমরা এ-ও সতর্ক করেছি যে, আফগানিস্তানে আমাদের কোনো দূতাবাস না থাকায় কোনো সমস্যা হলে আমরা কিছু করতে পারব না।’ মন্ত্রী আরও বলেন, ‘বাঙালিরা একসময় আফগানিস্তানে ট্রেনিং দিতে যেত, যার লিঙ্ক আমরা ইতোমধ্যে বন্ধ করেছি। আমরা শুনেছি, নতুন তালেবানরা আগের চেয়ে প্রগতিশীল।

x

Check Also

দীর্ঘ ২৫ বছরেও শেষ হয়নি রমনা বটমূলের বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে হামলা মামলার বিচার

বিশেষ প্রতিবেদন বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপনে যখন সারাদেশে আনন্দ-উচ্ছ্বাস বিরাজ করছে, তখনও অনেকের মনে ফিরে ...