এমএনএ ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক : আফগানিস্তানের উত্তরাঞ্চলে একটি সেনাঘাঁটিতে তালেবান বিদ্রোহীদের হামলায় অন্তত ১৫০ জন আফগান সেনা নিহত হয়েছেন। সরকারিভাবে এখনও হতাহতের সংখ্যা প্রকাশ করা হয়নি বলে আজ শনিবার ঘাঁটিতে থাকা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সেনা কর্মকর্তা এ তথ্য জানান।
ওই সেনা কর্মকর্তা এএফপিকে জানান, সরকারি তথ্য অনুসারে ১৫০ জন সেনা নিহত হয়েছেন এবং বহুসংখ্যক সেনা আহত হয়েছেন। তিনি বলেন, তাঁদের বেশির ভাগই নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত। তাঁরা প্রশিক্ষণের জন্য এসেছিলেন।
দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে জানানো হয়, গতকাল শুক্রবার হামলার সময় বেশির ভাগ সেনা নামাজ আদায় করছিলেন। দেশটির উত্তরাঞ্চলীয় বালখ প্রদেশের মাজার-ই-শরিফ এলাকার কাছে আহার গ্রহণরত ও জুমার নামাজ শেষে একটি মসজিদ থেকে বের হওয়া সৈন্যদের লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ করে হামলাকারীরা। কয়েক ঘণ্টা ধরে হামলা চলে। এ সময় দুজন হামলাকারী আত্মঘাতী বিস্ফোরণে নিহত হন। এ ছাড়া আরও সাতজন হামলাকারী নিহত হন।
আফগানিস্তানের কোনো সেনা স্থাপনায় চালানো সবচেয়ে বড় প্রাণঘাতী হামলা এটি।

নিহতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে জানিয়েছেন ওই কর্মকর্তা।
এর আগে ওয়াশিংটন থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র জন থমাস বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে গতকাল শুক্রবারের হামলাটিকে ‘উল্লেখযোগ্য’ হামলা উল্লেখ করে এতে সম্ভবত ৫০ জনের বেশি হতাহত হয়েছে বলে জানিয়েছিলেন। আফগান কর্মকর্তারা প্রাথমিকভাবে আট সেনা নিহত ও ১১ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছিলেন।
ঘাঁটিটির একটি মসজিদ ও একটি ডাইনিং এলাকাকে কেন্দ্র করে হামলাটি পরিচালিত হয় বলে জানিয়েছেন তিনি।
এক বিবৃতিতে তালেবান হামলার দায় স্বীকার করেছে।
আফগান কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রায় ১০ জনের মতো তালেবান যোদ্ধার একটি দল আফগান সেনাবাহিনীর ইউনিফর্ম পরে সামরিক যান চালিয়ে ঘাঁটিতে প্রবেশ করে, তারা দুপুরের আহার গ্রহণরত ও জুমার নামাজ শেষে একটি মসজিদ থেকে বের হওয়া সৈন্যদের লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ করে।
এ সময় হামলাকারীরা রকেট চালিত গ্রেনেড ও রাইফেল ব্যবহার করে বলে জানিয়েছেন তারা।
আজ শনিবার এক বিবৃতিতে তালেবান মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ দাবি করেন, সম্প্রতি উত্তর আফগানিস্তানে তালেবানের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতাকে হত্যার প্রতিশোধ হিসেবে এ হামলা চালানো হয়েছে।
নেটোর নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট মাজার ই শরীফের এই ঘাঁটিটিতে আফগান বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহযোগিতা করার জন্য বেশ কিছু সামরিক উপদেষ্টা মোতায়েন করেছে। তাদের কেউ এ হামলায় হতাহত হয়নি বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক ওই সামরিক জোটটির কর্মকর্তারা।
এ হামলায় আটজন নিহত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে প্রকাশিত খবরে জানানো হয়েছিল, পরে নিহতের সংখ্যা আরো অনেক বেশি বলে খবর হয়।
সেনাবাহিনীর এক কমান্ডার জানিয়েছেন, বেশ কয়েকজন হামলাকারীর মধ্যে অন্তত একজন আত্মঘাতী বিস্ফোরণ ঘটায়। গতকাল শুক্রবার রাতেও ঘাঁটিটিতে গুলির শব্দ শোনা যাচ্ছিল বলে জানিয়েছেন তিনি।
মাজার ই শরীফের এই ঘাঁটিটি আফগান ন্যাশনাল আর্মির ২০৯তম কর্পসের ঠিকানা। উত্তর আফগানিস্তানের অধিকাংশ অঞ্চলের নিরাপত্তার বিধানের দায়িত্ব এই ঘাঁটিটির ওপর ন্যস্ত। এসব অঞ্চলের মধ্যে কুন্দুজ প্রদেশও আছে যেখানে সম্প্রতি তীব্র লড়াইয়ের ঘটনা ঘটেছে।
ঘাঁটিটিতে বেশ কিছু জার্মান ও অন্যান্য বিদেশি সৈন্য ছিল বলে জানা গেছে।
গত মাসে দেশটির রাজধানী কাবুলের একটি সামরিক হাসপাতালে ইসলামিক স্টেট (আইএস) জঙ্গিদের হামলায় প্রায় ৫০ বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছিল। ওই একই মাসে তালেবান দাবি করেছিল, তারা বছরব্যাপী দীর্ঘ এক লড়াইয়ের পর দক্ষিণাঞ্চলীয় গুরুত্বপূর্ণ আফগান জেলা সানগিন দখল করে নিয়েছে।
২০১৪ সালের ডিসেম্বর মাসে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন ন্যাটো সেনারা আফগানিস্তানে অভিযান শেষ করেন। যুক্তরাষ্ট্রের পর্যবেক্ষক সংস্থা সিগার বলছে, গত বছর আফগানিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনীতে হতাহত হওয়ার পরিমাণ ৩৫ শতাংশ বেড়েছে। গত বছর দেশটির ৬ হাজার ৮০০ সেনা ও পুলিশ সদস্য নিহত হন।
গত ফেব্রুয়ারি মাসে নিকোলসন ওয়াশিংটনে যুক্তরাষ্ট্রর সিনেট আর্মড সার্ভিসেস কমিটিকে বলেন, আফগান সেনাবাহিনীকে সহায়তা ও প্রশিক্ষণ দেওয়া জন্য তাঁর আরও কয়েক হাজার সেনা প্রয়োজন।
মোহাম্মদী নিউজ এজেন্সী নিউজ – ফিচার – ফটো নেটওয়ার্ক

