Don't Miss
Home / প্রশাসন / আবারও জাহাঙ্গীরনগরে প্রশাসনিক ভবন অবরোধ

আবারও জাহাঙ্গীরনগরে প্রশাসনিক ভবন অবরোধ

এমএনএ ক্যাম্পাস রিপোর্ট : প্রশাসনের দায়ের করা মামলা প্রত্যাহারসহ চার দফা দাবিতে দ্বিতীয় দিনের মতো জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন অবরোধ করে রেখেছেন শিক্ষার্থীরা।

আজ মঙ্গলবার সকাল সাড়ে আটটা থেকে তাঁরা এ অবরোধ শুরু করেন। ‘প্রতিবাদের নাম জাহাঙ্গীরনগর’—এই ব্যানারে এই কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। তাদের অব‌রোধের কার‌ণে প্রশাস‌নিক ভবনে প্রবেশ করতে পারেননি শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। অবরোধের কারণে তারা ভব‌নের বাইরেই অবস্থান কর‌ছেন। ফলে স্থবির হয়ে পড়েছে প্রশাসনিক কার্যক্রম।

তবে শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ভবন অবরুদ্ধ করে ভবনের প্রধান গেইটে অবস্থান করছেন। এসময় শিক্ষার্থীরা জানান, মামলা প্রত্যাহার কিংবা প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনায় বসার আশ্বাস না পাওয়া পর্যন্ত প্রশাসনিক ভবন অবরুদ্ধ করে রাখা হবে।

এ দিকে প্রশাসন গতকাল সোমবার অবরোধের প্রথম দিনে শিক্ষার্থীদের মামলা প্রত্যাহারের বিষয় নিয়ে আলোচনার আশ্বাস দিলেও এ বিষয়ে কোনো কথা হয়নি।

গত ২৬ মে ভোরের দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মীর মশাররফ হোসেন হলসংলগ্ন সিঅ্যান্ডবি এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় নাজমুল হাসান ও মেহেদি হাসান নামের দুই শিক্ষার্থী নিহত হন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে উপাচার্যের বাসভবনে ভাঙচুর ও শিক্ষক লাঞ্ছনার অভিযোগে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে প্রশাসন মামলা করে। সেই মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে বিভিন্ন বামপন্থী ছাত্র সংগঠনের নেতা-কর্মী এবং সাধারণ শিক্ষার্থীরা এ অবরোধ কর্মসূচি পালন করছেন। এর আগে গত মাসের মাঝামাঝি সময়ে একই দাবিতে তাঁরা অনশন কর্মসূচি পালন করেছেন।

আজ সকাল সাড়ে আটটায় শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ভবনের মূল ফটক অবরোধ করেন। কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এ সময় ভবনের বাইরে অপেক্ষা করছিলেন। সাড়ে নয়টার দিকে রেজিস্ট্রার আবু বকর সিদ্দিক শিক্ষার্থীদের অবরোধ তুলে নিতে অনুরোধ জানান। কিন্তু মামলা প্রত্যাহার না হলে অবরোধ তুলে নেওয়া সম্ভব নয় বলে পাল্টা জবাব দেন শিক্ষার্থীরা।

সকাল সাড়ে ১০টায় দিকে উপাচার্য অধ্যাপক ড.ফারজানা ইসলাম প্রশাসনিক ভবনে আসেন। ভেতরে ঢুকতে না পেরে তিনিও ভবনের সামনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করেন। তবে তিনি আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেননি। এ সময় সেখানে ছিলেন দুই সহ-উপাচার্য অধ্যাপক মো. আমির হোসেন, অধ্যাপক আবুল হোসেন, কোষাধ্যক্ষ শেখ মনজুরুল হক, প্রক্টর তপন কুমার সাহাসহ প্রশাসনের বিভিন্ন দায়িত্বে থাকা ১০-১২ জন শিক্ষক এবং উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও কর্মকর্তা-কর্মচারী সমিতির নেতৃবৃন্দ।

সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রেজিস্ট্রার দ্বিতীয় দফায় শিক্ষার্থীদের অবরোধ তুলে নেওয়ার অনুরোধ জানান। শিক্ষার্থীরা আবারও তাঁদের দাবির কথা তুলে ধরেন। এ সময় রেজিস্ট্রার বলেন, ‘এখন এ বিষয়ে কোনো কথা হবে না। তোমরা কর্মচারীদের ভেতরে ঢুকতে দাও।’

শোক দিবস পালনের প্রস্তুতির জন্যও তিনি শিক্ষার্থীদের অবরোধ তুলে নিতে আহ্বান জানান। তখন শিক্ষার্থীরা পাল্টা জবাব দেন, ‘আমরা এই আন্দোলনের ভেতর দিয়েই শোক উদ্‌যাপন করছি।’

প্রায় ২০ মিনিট কথোপকথনের পর রেজিস্ট্রার তাঁর কার্যালয়ে চলে যান। উপাচার্য সেখানে অপেক্ষা করছিলেন।

গত ২৬ মে ভোরে ক্যাম্পাসসংলগ্ন সিঅ্যান্ডবি এলাকায় ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে সড়ক দুর্ঘটনায় নাজমুল হাসান ও মেহেদি হাসান নামে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থী নিহত হন। এই দুই শিক্ষার্থীর পরিবারকে ক্ষতিপূরণ, ঘাতক চালকের শাস্তি ও নিরাপদ সড়কের দাবিতে পরদিন ২৭ মে বেলা পৌনে ১১টা থেকে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা। বিকেলে পুলিশ শিক্ষার্থীদের ওপর রাবার বুলেট ও কাঁদানে গ্যাসের শেল ছোড়ে। এতে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের বাসভবন ভাঙচুর করে। এ ঘটনায় ওই দিন রাতেই ৩১ জনসহ অজ্ঞাতনামা ৪০-৫০ জনের বিরুদ্ধে আশুলিয়া থানায় মামলা করে প্রশাসন। শিক্ষকদের একটি অংশ এবং সাধারণ শিক্ষার্থীরা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে আসছেন।

x

Check Also

বাজেটে ব্যবসায়ীদের ওপর বাড়তি চাপ আসছে না: বাণিজ্যমন্ত্রী

এমএনএ প্রতিবেদক আসন্ন ২০২৬–২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে দেশের ব্যবসায়ীদের ওপর কোনো অতিরিক্ত চাপ বা নেতিবাচক ...