Don't Miss
Home / হোম স্লাইডার / আরএডিপিতে ঋণের অংশ কমলেও কমছে না দেশি অর্থায়ন
বছরের অর্ধেকের

আরএডিপিতে ঋণের অংশ কমলেও কমছে না দেশি অর্থায়ন

এমএনএ অর্থনীতি ডেস্ক : করোনার নতুন ধরনের ধাক্কাসহ নানা কারণে ফের গতি হারিয়েছে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়ন। বছরের অর্ধেকের বেশি সময় পার হলেও অগ্রগতি সন্তোষজনক নয়। ফলে ব্যয় করতে না পারায় সংশোধিত এডিপিতে কেটে নেওয়া হচ্ছে বরাদ্দ। তবে অর্থ কাটছাট হচ্ছে শুধু বৈদেশিক ঋণে বাস্তবায়িত প্রকল্পগুলোর অর্থ। অপরিবর্তিত থাকছে দেশি অর্থায়ন।
পরিকল্পনা কমিশন সূত্র জানিয়েছে, অর্থবছরের শুরুতে সরকারি ও সহায়তা মিলে ২ লাখ ২৫ হাজার ৩২৪ কোটি টাকার এডিপি নেওয়া হয়েছিল। তাতে বৈদেশিক অংশ ছিল ৮৮ হাজার ২৪ কোটি টাকা। সংশোধিত এডিপিতে (আরএডিপি) তা কমে দাঁড়াতে পারে ৭০ হাজার ২৫০ কোটি টাকা। প্রায় ১৭ হাজার ৭৭৪ কোটি টাকা কমতে পারে। তবে অভ্যন্তরীণ উৎস বা সরকারি খাত থেকে ১ লাখ ৩৭ হাজার ২৯৯ কোটি ৯১ লাখ টাকার কোনো হেরফের হচ্ছে না। অর্থাৎ আরএডিপিতে বরাদ্দ থাকছে ২ লাখ ৭ হাজার ৫৫০ কোটি টাকা।
বৈদেশিক বরাদ্দ কমানোর হার গত অর্থবছরের চেয়ে দ্বিগুণের বেশি হয়েছে। গত বছর সাড়ে ৭ হাজার কোটি ঋণসহায়তা কমেছিল আরএডিপিতে। তবে এডিপি সংশোধন নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে আরও মাসখানেক অপেক্ষা করতে হবে। মার্চের প্রথম সপ্তাহে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) চূড়ান্ত অনুমোদন পেতে পারে আরএডিপি।
পরিকল্পনা কমিশনের অতিরিক্ত সচিব মো. ছায়েদুজ্জামান সময়ের আলোকে বলেন, বিদেশি সহায়তার অংশ খরচ করতে হলে প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থাগুলোকে নানা শর্তের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। তাদের পরামর্শক মেনেই চলতে হয়। এজন্য উন্নয়ন প্রকল্পে বিদেশি অংশের চেয়ে সরকারি অংশের বেশি খরচ হয়। তাই এবারের অরএডিপিতে বৈদেশিক ঋণ কমলেও সরকারি অংশের অর্থায়ন কমার সম্ভাবনা নেই।
পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) তথ্য বলছে, ডিসেম্বর পর্যন্ত এডিপির চার ভাগের এক ভাগও বাস্তবায়ন হয়নি। ছয় মাসে বাস্তবায়ন হয়েছে মাত্র ২৪ শতাংশ। সংস্থার অর্থায়নসহ এবারের এডিপির মোট আকার ২ লাখ ৩৬ হাজার ৭৩৯ কোটি টাকার এডিপির মধ্যে সরকারের মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলো খরচ করতে পেরেছে ৫৬ হাজার ৯৬২ কোটি ৪৭ লাখ টাকা। ধীরগতির এই এডিপি বাস্তবায়নের কারণেই বড় কাটছাঁটের তোড়জোড় শুরু হয়েছে।
কমিশন বলছে, এডিপির সরকারি অংশের অর্থ ব্যবহার তুলনামূলক সহজ হওয়ায় সরকারি তহবিল থেকে বেশি বরাদ্দা চাচ্ছে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়। অনেকেই তাদের সরকারি অংশের বরাদ্দের সিংহভাগ খরচে করে ফেলেছে। বিদেশি অংশে তেমন একটা হাত পড়েনি। আবার গত কয়েক মাসে পাস হওয়া নতুন প্রকল্পেও বরাদ্দের চাপ রয়েছে। ফলে সরকারি অংশের টাকা খুব একটা কমানের সুযোগও নেই। ধীরগতির অর্থ ব্যয়ে মধ্যে সরকারি অংশের চেয়ে ব্যয়ে ঢের পেছিয়ে উন্নয়ন সহায়তার অংশের ব্যয়। ডিসেম্বর পর্যন্ত মন্ত্রণালয়গুলো যেখানে সরকারি সহায়তার অংশে ৩৪ হাজার ৬৭৯ কোটি টাকা খরচ করেছে, সেখানে বৈদেশিক সহায়তার অংশে খরচ হয়েছে ১৯ হাজার ৫৫৩ কোটি টাকা।
কমিশন বলছে, আরএডিপিতে বড় কাটছাঁটের অন্যতম কারণ করোনার নতুন ধরন ওমিক্রনের সংক্রমণ। বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় বরাদ্দ থাকলেও বাস্তবতার পরিপ্রেক্ষিতে খরচ করতে না পারার আশঙ্কায় অর্থ ফেরত দিতে চায় মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলো।
চলতি অর্থবছরের এডিপিতে ১ হাজার ৫৯১টি প্রকল্প রয়েছে। এর মধ্যে বিনিয়োগ প্রকল্প ১ হাজার ৩৭২টি, কারিগরি সহায়তা প্রকল্প ১২০টি, উন্নয়ন সহায়তায় থোক বরাদ্দ থেকে ৯টি এবং নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন প্রকল্প রয়েছে ৯০টি। তবে গত কয়েক মাসে প্রায় অর্ধশতাধিক নতুন প্রকল্প অনুমোদন হয়েছে যা যোগ হবে আরএডিপিতে।
চলতি অর্থবছরের এডিপিতে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয় পরিবহন ও যোগাযোগ খাতে ৬১ হাজার ৬৩১ কোটি টাকা, যা মোট এডিপির ২৭ দশমিক ৪৭ শতাংশ। এরপরই বিদ্যুৎ খাতে গুরুত্ব দিয়ে ৪৫ হাজার ৮৬৭ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ২৩ হাজার ৪২১ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে গৃহায়ন খাতে। নতুন এডিপিতে বরাদ্দ দেওয়ার ক্ষেত্রে চতুর্থ স্থানে শিক্ষা খাতে ২৩ হাজার ৩২৩ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যা মোট এডিপির ১০ দশমিক ৪০ শতাংশ। এ ছাড়া স্থানীয় সরকার বিভাগে ১৪ হাজার ২৭৪, পরিবেশ ও পানি উন্নয়নে ৮ হাজার ৪৭০, কৃষিতে ৭ হাজার ৬৪৬, শিল্প খাতে ৪ হাজার ৬৪৩, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি খাতে ৩ হাজার ২০৪ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়।
পাবলিক অর্ডার অ্যান্ড সেফটি খাতে ৩ হাজার ২০৪, সাধারণ সেবা খাতে ২ হাজার ৯২৩, সাংস্কৃতিক খাতে ২ হাজার ১৯০, সামাজিক নিরাপত্তা খাতে ১ হাজার ৬৪৮ কোটি এবং ডিফেন্স খাতে ৮৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। সংশোধিত এডিপিতেও এসব খাত গুরুত্ব পাবে বলে দাবি পরিকল্পনা কমিশনের।
x

Check Also

আমদানির কারণে আমনের দরপতনে বোরো নিয়েও শঙ্কা, ন্যায্যমূল্য না পাওয়ার আশঙ্কায় কৃষক

বিশেষ প্রতিনিধি বিদেশ থেকে চাল আমদানির কারণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মৌসুম শেষে আমন ধানের দামে ...