আরও নিরাপত্তা চান ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ
Posted by: News Desk
December 4, 2018
এমএনএ রিপোর্ট : নিজের আরও নিরাপত্তার জন্য পিস্তলসহ একজন নিরাপত্তারক্ষী থাকলেও শটগানসহ আরেকজন নিরাপত্তারক্ষী চেয়েছেন নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ। এ জন্য ডিএমপি কমিশনার বরাবর চিঠি দেয়া হয়েছে।
ইসি সূত্র জানায়, ৩ ডিসেম্বর এ চিঠি দেয়া হয়। ইসি সচিবের একান্ত সচিব মো. আল মামুন চিঠিটি দেন।
চিঠিতে লেখা রয়েছে, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। ৩০ ডিসেম্বর এ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সচিব হেলালুদ্দীন আহমেদ নির্বাচনের কাজে সার্বক্ষণিক ব্যস্ত রয়েছেন। সচিবের নিরাপত্তার জন্য ডিএমপির প্রটেকশন বিভাগ নিযুক্ত পিস্তলসহ একজন দেহরক্ষী কর্মরত রয়েছেন। জাতীয় নির্বাচন চলাকালে তার নিরাপত্তা জোরদার করা প্রয়োজন। এ জন্য পিস্তলসহ দেহরক্ষী/গানম্যানের পাশাপাশি শটগানসহ আরও একজন দেহরক্ষী/গানম্যন নিযুক্ত করা প্রয়োজন। নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সচিব হেলালুদ্দীন আহমেদের নিরাপত্তা জোরদারের লক্ষ্যে জরুরি ভিত্তিতে গানম্যান নিযুক্ত করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।
প্রসঙ্গত, তফসিল ঘোষণার পর জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও বিএনপির তরফ থেকে একাধিকবার নির্বাচন কমিশন সচিবের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে। তার বদলি ও প্রত্যাহার চেয়েও একাধিকবার কমিশন বরাবর আবেদন করা হয়েছে।
নির্বাচন কমিশন সচিবের পদত্যাগ বা প্রত্যাহারের কারণ হিসেবে চিঠিতে দাবি করা হয়, ‘তিনি বিতর্কিত ও অতিমাত্রায় প্রচারমুখী। শতাধিক কর্মকর্তাকে ডিঙিয়ে তাকে সচিব পদে পদায়ন করা হয়। তার বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তাদের ডেকে নিয়ে গোয়েন্দা প্রতিবেদন দেখিয়ে ভয়ভীতি দেখানো অভিযোগ রয়েছে। তিনি চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র মহীউদ্দীনের একান্ত সচিব ছিলেন। মহীউদ্দীনের ছেলে ব্যারিস্টার নওফেল এখন আওয়ামী লীগের নেতা। যিনি এখন আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি হিসেবে কমিশনে নিয়মিত যাতায়াত করেন। সব মিলিয়ে সচিবের নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ।’
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ গত ৩০ জুলাই ২০১৭ তারিখে ভারপ্রাপ্ত সচিব হিসেবে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে যোগদান করেন। গত ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ তারিখে সচিব পদে পদোন্নতি প্রাপ্ত হয়ে বর্তমানে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে কর্মরত রয়েছেন।
চাকুরিতে যোগদানের পর তিনি বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন। এগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- বিসিএস মিলিটারি ওরিয়েন্টেশন ট্রেনিং (বিএমএ) কোর্স, ফাউন্ডেশন কোর্স, আইন ও প্রশাসন কোর্স, ভুমি ব্যবস্থাপনা প্রশিক্ষণ, সার্ভে ও সেটেলমেন্ট প্রশিক্ষণ, দুর্যোগ মোকাবেলায় পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনা, ম্যানেজিং অ্যাট দ্য টপ-২, প্রফেশনাল ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম, আঞ্চলিক খাদ্য নিরাপত্তা প্রোগ্রাম, ইউনিভার্সালাইজেশন অব প্রাইমারি এডুকেশন ইত্যাদি।
প্রশিক্ষণ গ্রহণ, আন্তর্জাতিক সেমিনার, ওয়ার্কশপ ও সরকারি দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, চীন, সিংগাপুর, থাইল্যান্ড, ভারত, কাতার, বাহরাইন, কুয়েত, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও নেপালসহ তিনি বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ভ্রমণ করেছেন।
চাকুরি ছাড়াও তিনি সামাজিক সংগঠনের সাথে জড়িত। তিনি বর্তমানে বিসিএস ’৮৫ ফোরামের সহ-সভাপতি, এবং বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি। তিনি ঢাকাস্থ রামু সমিতির উপদেষ্টা এবং চট্টগ্রাম সমিতির কার্যনির্বাহী পরিষদের সহ-সভাপতি।
রাজশাহীর বিভাগীয় কমিশনার থাকাকালে “পণ্যে পাটজাত মোড়কের বাধ্যতামূলক ব্যবহার আইন, ২০১০” বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সর্বাত্নক অভিযান পরিচালনায় পরিকল্পনা, নেতৃত্বদান ও সমন্বয়কারী হিসেবে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। এর স্বীকৃতিস্বরুপ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী গত ৬ মার্চ ২০১৬ তারিখে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে তাকে শ্রেষ্ঠ বিভাগীয় কমিশনারের পুরস্কার প্রদান করেন। এছাড়াও ভুমি ব্যবস্থাপনায় বিশেষ অবদান রাখায় ২০১৬ এর জুলাই মাসে তিনি শ্রেষ্ঠ বিভাগীয় কমিশনার হিসেবে “Public Service Innovation” পুরস্কার লাভ করেন।
তিনি জনকল্যাণমুখী সরকারি কর্মকর্তা, জনসাধারণকে সেবা করাই তার মূল লক্ষ্য। দীর্ঘ চাকুরি জীবনে তিনি সততা, নিষ্ঠা, দক্ষতা ও প্রগতিশীলতার সাথে সরকারি দায়িত্ব পালন করে চলেছেন।
ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ নিরাপত্তা চান আরও 2018-12-04