আরেকবার ক্ষমতায় গেলে দেশে দারিদ্র্য থাকবে না : অর্থমন্ত্রী
Posted by: News Desk
January 24, 2018
এমএনএ অর্থনীতি রিপোর্ট : এখনো ৩ কোটি মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করছে উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, শেখ হাসিনার সরকার আরেকবার ক্ষমতায় গেলে দেশে দারিদ্র্য থাকবে না।
আজ বুধবার আন্তর্জাতিক কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় গার্মেন্টেক-২০১৮ মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।
অর্থমন্ত্রী বলেন, এসব মানুষকে দারিদ্র্যসীমা থেকে বের করে আনতে বর্তমান সরকার ব্যাপক কার্যক্রম গ্রহণ করে। ফলে গত ১০ বছরে প্রায় ১০ শতাংশ মানুষকে দারিদ্র্যসীমার ওপরে উঠেছে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিজিএমইএ সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান ও রপ্তানিকারক সমিতির (ইএবি) সভাপতি আব্দুস সালাম মুর্শেদী।
অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশ যথেষ্ট এগিয়েছে। এত বাহাদুরির কিছু নেই। তবে এখনো দেশে ৩ কোটি মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে আছে। ১৬ কোটি মানুষের মধ্যে এ সংখ্যা কম। বহুদেশ আছে যেগুলোকে একত্র করলেও ৩ কোটি মানুষ পাওয়া যাবে না। সুতরাং মানবিক দিক থেকে বিচার করতে গেলে এখনো সমস্যা জটিল। এ ৩ কোটি মানুষকে ভদ্র জীবনযাপনের সুযোগ করে দিতে সরকার কাজ করছে। বর্তমান সরকার যে গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে এবং যেসব কৌশল অবলম্বন করেছি তাতে শেখ হাসিনার সরকারের আরো ৫ বছর দরকার। সেটি পেলে ২০২৪ সালে এদেশে দারিদ্র্য থাকবে না। এটা নিশ্চয়তা দিতে পারি।
গত ১০ বছরে প্রায় ৯ শতাংশ মানুষকে দারিদ্র্যসীমার ওপরে উঠিয়েছে জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের বড় গুণ এ সরকার ১০০ শতাংশ জনগণের কল্যাণে নিবেদিত। মানুষের উন্নয়ন চায়। সব সময় চিন্তা করে এই ৩ কোটি মানুষকে কীভাবে আরেকটু সামনে নেয়া যায়। তবে দারিদ্র্য থাকবে। কিছু লোক সব সময় রাষ্ট্রের ওপর নির্ভরশীল। এটা ১০-১২ শতাংশ। যারা বয়স্ক, বিধবা ও প্রতিবন্ধী। এ সংখ্যা সব দেশেই আছে।
বিজিএমইএর সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বলেন, গার্মেন্ট সেক্টর সব প্রতিকূলতা কাটিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু কর পলিসি সব সময়ই এই শিল্পকে ভুগিয়ে থাকে। এই অবস্থা কাটানোর জন্য সরকারের ৫ বছরের জন্য কর পলিসি নির্ধারণ করা দরকার। এতে ব্যবসায়ীরা সে অনুযায়ী ব্যবসার পরিকল্পনা করতে পারবেন।
ইএবি সভাপতি আব্দুস সলাম মুর্শেদী বলেন, বাংলাদেশের রপ্তানি বাজারের হৎপিণ্ড হলো প্যাকেজিং সেক্টর। এই সেক্টর ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প। সাধারণত নারী ও তরুণ উদ্যোক্তারা এই সেক্টরে বিনিয়োগ করে থাকেন। তাই এদের টিকিয়ে রাখতে এই খাতে রিফাইন্যান্সিংয়ের সুযোগ দিতে হবে। এতে এই খাত এগিয়ে যাবে। রপ্তানিও বাড়বে। বর্তমানে এই সেক্টরের মোট রফতানি এক বিলিয়ন ডলারেরও বেশি। অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন গার্মেন্টস এক্সেসোরিজ প্যাকেজিং ম্যানুফেচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএপিএমইএ) সভাপতি আব্দুল কাদের খান, আস্ক ট্রেড অ্যান্ড এক্সিবিশন প্রাইভেট লিমিটেডের প্রধান নন্দ গোপাল প্রমুখ।
গার্মেন্টেক-২০১৮ তে তৈরি পোশাকের মেশিনারি, ইয়ার্ন অ্যান্ড ফেব্রিকস, গার্মেন্টস এক্সেসোরিজ অ্যান্ড প্যাকেজিং ও প্রিন্টিং মেশিনারি প্রদর্শন করা হচ্ছে। প্রদর্শনীতে বাংলাদেশ, ভারত, চীন, দক্ষিণ কোরিয়া, তুরস্ক, ভিয়েতনাম, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, শ্রীলঙ্কা, ইতালি, জার্মানি, সিঙ্গাপুর, জাপান, তাইওয়ান, সুইজারল্যান্ড, ফিনল্যান্ড, সুইডেন, থাইল্যান্ড, কলম্বিয়া, মালয়শিয়া, কানাডা, স্পেন, ফ্রান্স ও হংকংয়ের ৪৫০টি প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে।
অর্থমন্ত্রী দেশে থাকবে না ক্ষমতায় গেলে আরেকবার দারিদ্র্য 2018-01-24