এমএনএ রিপোর্ট : বিধি মোতাবেক গত বছরের আয়-ব্যয়ের হিসাবে আজ মঙ্গলবার দুপুরে নির্বাচন কমিশনে জমা দিয়েছে দেশের দুই বৃহৎ রাজনৈতিক দল। জমা দেয়া বিবরণীর তথ্য মোতাবেক আ’ লীগের তহবিলে উদ্বৃত্ত এবং বিএনপির তহবিলে ঘাটতি রয়েছে।
সারা বছর ব্যয়ের পর ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের তহবিলে উদ্বৃত্ত আছে ৩ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। অন্যদিকে, আওয়ামী লীগের প্রধান রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির তহবিলে কোনো উদ্বৃত্ত নেই। উল্টো দলটির আয়ের চেয়ে ১৪ লাখ টাকা বেশি ব্যয় হয়েছে। অর্থাৎ, বিএনপির তহবিলে ঘাটতি ১৪ লাখ টাকার।
নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল হিসেবে প্রতি বছরই সব দলকে আয়-ব্যয়ের নিরীক্ষিত হিসাব ইসিতে জমা দিতে হয়।
আওয়ামী লীগের দেওয়া হিসাব পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, ২০১৫ সালে ক্ষমতাসীন দলটি আয় করেছে ৭ কোটি ১১ লাখ ৬১ হাজার ৩৭৫ টাকা। এ সময় দলটির ব্যয় হয়েছে ৩ কোটি ৭২ লাখ ৮১ হাজার ৪৬৯ টাকা। অর্থাৎ, ব্যয়ের পর তহবিলে উদ্বৃত্ত আছে প্রায় ৩ কোটি ৩৮ লাখ টাকা।
নির্বাচন কমিশন সচিব মো. সিরাজুল ইসলামের কাছে দলের কোষাধ্যক্ষ এইচ এন আশিকুর রহমান ও দপ্তর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ এই নিরীক্ষা প্রতিবেদন জমা দেন।
২০১৪ সালের আয়-ব্যীয়ের যে হিসাব আওয়ামী লীগ দিয়েছিল, তাতে ৯ কোটি ৫ লাখ ৪৫ হাজার ৬৪৩ টাকা আয়ের বিপরীতে ৩ কোটি ৪৪ লাখ ৪০ হাজার ৮২১ টাকা ব্যয় দেখানো হয়েছিল। সে হিসেবে গতবছর ক্ষমতাসীন দলটির আয় কমলেও ব্যয় কিছুটা বেড়েছে।
পরে দপ্তর সম্পাদক আবদুস সোবহান সাংবাদিকদের বলেন, এবার আয়ের চেয়ে ব্যয় কম হয়েছে। দলের সদস্য সংগ্রহ, মাসিক চাঁদা, উপনির্বাচন, অনুদান, মনোনয়নপত্র, বিক্রি, প্রকাশনা খাতে আয় হয়েছে। কর্মচারীর বেতন, অনুষ্ঠান, সভা, প্রকাশনা, ত্রাণসহ নানা খাতে ব্যয় হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ২০ কোটি ৩৯ লাখ ৩৯ হাজার ১১৭ টাকা জমা নিয়ে বছর শুরু করে আওয়ামী লীগ ২০১৫ সাল শেষ করেছে ২৩ কোটি ৮৭ লাখ ১৯ হাজার ২৩ টাকা নিয়ে।
আয়-ব্যয়ের এই হিসাব নিজস্ব উদ্যোগে ইন্টারনেটেও প্রকাশ করা হবে বলে জানান গোলাপ।
বিএনপির প্রতিবেদন জমা দেন দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এ কে এম আমিনুল হক ও যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল।
কমিশন সচিবের কাছে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর আমিনুল হক সাংবাদিকদের বলেন, ২০১৫ সালে বিএনপির ১ কোটি ৭৩ লাখ ৩ হাজার ৩৬৫ টাকা আয়ের বিপরীতে ব্যয় হয়েছে এক কোটি ৮৭ লাখ ২৯ হাজার ৬৪৯ টাকা।
বছরের শুরুতে দলের হাতে ছিল ২ কোটি ৮৪ লাখ ৮৮ হাজার ৭৪৫ টাকা। সমাপনী ব্যালেন্স ছিল ২ কোটি ৭০ লাখ ৬২ হাজার ৪৬১ টাকা।
২০১৪ সালে বিএনপি দুই কোটি ৮৭ লাখ ৪৮ হাজার ৫৭৪ টাকা আয়ের বিপরীতে তিন কোটি ৫৩ লাখ তিন হাজার ৫৯০ টাকা ব্যয় দেখিয়েছিল। তার আগের দুই বছরও বিএনপি তাদের আর্থিক হিসাবে ঘাটতি দেখিয়েছিল।
এবারের ১৪ লাখ ২৬ হাজার ২৮৪ টাকার ঘাটতি আগের হিসাবের সঙ্গে সামঞ্জস্য করে নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
মোহাম্মদী নিউজ এজেন্সী নিউজ – ফিচার – ফটো নেটওয়ার্ক

