ইভিএম ব্যবহারের বিধান রেখে বিধিমালা চূড়ান্ত
Posted by: News Desk
November 4, 2018
এমএনএ রিপোর্ট : ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহারের বিধান রেখে বিধিমালা চূড়ান্ত করেছে নির্বাচন কমিশন। আজ রবিবার বিকাল ৩টায় আগারগাঁও নির্বাচন ভবনে এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
বৈঠকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নুরুল হুদা, নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার, মো. রফিকুল ইসলাম, কবিতা খানম ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শাহাদৎ হোসেন চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় ইসির বৈঠক শেষে ইসি সচিব হেলালুদ্দীন বলেছিলেন, গতকাল শনিবার ইভিএম ব্যবহারের বিধিমালা নিয়েও বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়। আজ রবিবার বেলা ৩টায় সভা আবার বসবে। ওই বৈঠকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে সার্বিক বিষয়ে।
মুলতবি করা বৈঠক শেষে আরেকটি বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। ওই বৈঠকে জাতীয় নির্বাচনের তফসিল কবে হবে সে ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হবে বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ইভিএম চালুর আট বছর পর প্রথমবারের মতো সংসদ নির্বাচনে এ প্রযুক্তি ব্যবহার হবে। ২০১০ সালের জুন মাসে স্বল্প পরিসরে চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচনে ইভিএম চালু হয়।
২০১৫ সালের এসে ওই ইভিএম বন্ধ হয়ে যায়।পরে নতুন ইভিএম তৈরি করে ইসি। ২০১৬ সালে রংপুর সিটি নির্বাচনে তা চালু হয়। এর দুবছরের মাথায় সংসদে এ যন্ত্র ব্যবহারের পথ করতে আইন সংশোধনের পর বিধিমালাও চূড়ান্ত হল রোববার।
’জাতীয় সংসদ নির্বাচন ইভিএম বিধিমালা ২০১৮’ এ রিটার্নিং অফিসার, প্রিজাইডিং অফিসার, ভোট গণনা, ফল একীভূতকরণসহ নানা বিষয়ে নির্দেশনা রয়েছে।
নির্বাচন কমিশন বলছে, আইনি ভিত্তি পাওয়ার পর স্বল্প পরিসরে এ প্রযুক্তি ব্যবহার হবে। আগামী নির্বাচনে কয়টি কেন্দ্রে তা ব্যবহার করা হবে তা কমিশন চূড়ান্ত করবে। দ্বৈবচয়ন পদ্ধতিতে এসব কেন্দ্র বাছাই করা হবে বলে ইতোমধ্যে জানিয়েছেন সিইসি।
এ সপ্তাহের মধ্যে একাদশ সংসদ নির্বাচনর তফসিল ঘোষণার কথা রয়েছে। জাতির উদ্দেশে সিইসি যে ভাষণ দেবেন, তাতে ভোটের তারিখ ও ইভিএম নিয়ে বিস্তারিত থাকবে বলে ইসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
ইসি সূত্রমতে, একাদশ সংসদ নির্বাচনে ৩০০ সংসদীয় আসনে সম্ভাব্য ভোটকক্ষ ধরা হয়েছে ২ লাখ ২০ হাজার। সব আসনে ইভিএমে ভোট নিতে হলে ২ লাখ ৬৪ হাজার ইভিএম প্রয়োজন হবে (প্রত্যেক কেন্দ্রে একটি করে অতিরিক্ত ইভিএমসহ)। আর যদি ১৫০টি আসনে ইভিএম ব্যবহার করতে হয়, তাহলে ১ লাখ ৩২ হাজার ইভিএম প্রয়োজন হবে।
উল্লেখ্য, বড় পরিসরে ইভিএম ব্যবহার করার অভিজ্ঞতা ইসির নেই। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, এর আগে ইসির সিদ্ধান্ত ছিল যেকোনো একটি পৌরসভার সবগুলো কেন্দ্রে ইভিএমে ভোট গ্রহণ করা হবে। এরপর সক্ষমতা বাড়ানোর মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে ইভিএমের ব্যবহার বাড়ানো হবে। কিন্তু বর্তমান কমিশনের অধীনে এখন পর্যন্ত কোনো পৌরসভা বা ইউনিয়ন পরিষদেও পুরোপুরি ইভিএমে ভোট হয়নি।
এই অবস্থায় জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো সবচেয়ে বড় পরিসরে ইভিএম ব্যবহার করার পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। যদিও ইসির কাছে এত বিস্তৃত আকারে ইভিএম ব্যবহার করার মতো দক্ষ জনবল নেই।
এ বছর অনুষ্ঠিত পাঁচটি সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে কয়েকটি করে কেন্দ্রে ইভিএম ব্যবহার করা হয়। তা করতে গিয়েই ইসির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বেগ পেতে হয়েছে। পাঁচটি সিটির মধ্যে বরিশালে সবচেয়ে বেশি, ১১টি কেন্দ্রে ইভিএম ব্যবহার করা হয়। এখানে ইসির ৩৬ জন কর্মকর্তা দুই দিন ভোট গ্রহণ কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ দেন। এ ছাড়া ইভিএম প্রদর্শন, ভোটিং শিক্ষা ও জনসচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে মোট ৯৯ জন কর্মকর্তা তিন দিন ধরে কাজ করেন। প্রতিটি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ কর্মকর্তার বাইরে অন্তত তিনজন করে কারিগরি কর্মকর্তা রাখতে হয়েছে। তারপরও কয়েকটি জায়গায় কারিগরি ত্রুটির কারণে ভোট গ্রহণে সমস্যা হয়েছে। অনেক ভোটার এতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেননি।
বিধান রেখে চূড়ান্ত বিধিমালা ইভিএম ব্যবহারের 2018-11-04