Don't Miss
Home / আজকের সংবাদ / ইরানের খারগ দ্বীপে মার্কিন বিমান হামলার দাবি ট্রাম্পের

ইরানের খারগ দ্বীপে মার্কিন বিমান হামলার দাবি ট্রাম্পের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ইরানের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ খারগ দ্বীপ-এ মার্কিন সামরিক বাহিনী ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শনিবার ভোরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি জানান, প্রয়োজনে দ্বীপটির তেল স্থাপনাগুলোকেও লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে—বিশেষ করে যদি হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলে বাধা সৃষ্টি করা হয়।

ট্রাম্প দাবি করেন, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বাহিনীর ইতিহাসে অন্যতম শক্তিশালী বোমা হামলা চালিয়েছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, খারগ দ্বীপে থাকা সব সামরিক লক্ষ্যবস্তু সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করা হয়েছে।

তবে আপাতত দ্বীপটির তেল অবকাঠামো ধ্বংস না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, যদি ইরান বা অন্য কেউ হরমুজ প্রণালি দিয়ে অবাধ ও নিরাপদ জাহাজ চলাচলে বাধা দেয়, তাহলে তেল স্থাপনাগুলোর ওপর হামলার সিদ্ধান্ত দ্রুত পুনর্বিবেচনা করা হবে।

ইরান ও ইসরায়েল-এর চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে এতদিন এই দ্বীপটি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সতর্ক অবস্থানে ছিল। তবে ট্রাম্প প্রশাসনের কয়েকজন কর্মকর্তা আগেই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, কৌশলগত এই দ্বীপ দখলের পরিকল্পনাও তাদের বিবেচনায় রয়েছে।

ইরানের মূল ভূখণ্ড থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত খারগ দ্বীপ দেশটির তেল রপ্তানির প্রধান কেন্দ্র। আর্থিক প্রতিষ্ঠান জেপিমর্গান চেজ-এর সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, ইরানের মোট অপরিশোধিত তেল রপ্তানির প্রায় ৯০ শতাংশই এই দ্বীপের মাধ্যমে হয়। আয়তনে নিউইয়র্কের ম্যানহাটন এলাকার প্রায় এক-তৃতীয়াংশের সমান এই দ্বীপে বড় ধরনের হামলার প্রভাব বিশ্ব জ্বালানি বাজারেও পড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

এদিকে ইরানের হামলার কারণে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। বিশ্বে পরিবাহিত মোট অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালি দিয়ে যাতায়াত করে। ফলে চলমান সংকট উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্যান্য দেশের তেল অবকাঠামোতেও প্রভাব ফেলছে।

যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি তেলের বাড়তি দাম নিয়ন্ত্রণে ইতোমধ্যে চাপের মুখে রয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানিয়েছেন, খুব শিগগিরই মার্কিন নৌবাহিনী হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী তেলবাহী ট্যাংকারগুলোকে নিরাপত্তা দিয়ে এগিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করবে।

উল্লেখ্য, ষাট ও সত্তরের দশকে ইরানের তেল শিল্প দ্রুত সম্প্রসারিত হওয়ার সময় খারগ দ্বীপের গুরুত্ব বাড়ে। সে সময় দেশের উপকূলীয় অধিকাংশ স্থানে সুপারট্যাঙ্কার ভেড়ানোর মতো গভীরতা না থাকায় এই দ্বীপটি ধীরে ধীরে ইরানের তেল বাণিজ্যের প্রধান কেন্দ্র হিসেবে গড়ে ওঠে।

x

Check Also

জ্বালানী সক্ষমতা বাড়াতে ইস্টার্ন রিফাইনারির দ্বিতীয় ইউনিটে আইডিবির ঋণ খুঁজছে সরকার

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক দেশের একমাত্র সরকারি জ্বালানি তেল পরিশোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড (ইআরএল)–এর দ্বিতীয় ইউনিট নির্মাণে ...