আন্তর্জাতিক ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযান ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ সমাপ্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ তথ্য জানিয়েছে।
মঙ্গলবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে রুবিও বলেন, “অপারেশন এপিক ফিউরি সমাপ্ত। আমরা এই অভিযানের লক্ষ্য অর্জন করেছি।” তিনি আরও জানান, ইরানের সঙ্গে সংঘাতের আক্রমণাত্মক ধাপ আপাতত শেষ হয়েছে এবং এখন কূটনৈতিক সমাধানের দিকেই জোর দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।
রুবিওর ভাষ্য অনুযায়ী, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে আগ্রহী। এই সম্ভাব্য চুক্তির অংশ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি সচল করার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত ইরান আলোচনার পথে সাড়া দেয়নি।
এদিকে ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে সমঝোতায় অগ্রগতি হওয়ায় হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিরাপদ করতে চালু করা ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হবে। যদিও ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ আগের মতোই বহাল থাকবে।
মার্কিন কর্মকর্তারা জানান, উপসাগরীয় অঞ্চলে আটকে থাকা তেলবাহী জাহাজগুলোকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যেই সোমবার থেকে এই অভিযান শুরু হয়েছিল। যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি প্রায় অচল হয়ে পড়ায় বিশ্বব্যাপী প্রায় ২০ শতাংশ তেল সরবরাহে বিঘ্ন ঘটে এবং জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়।
ট্রাম্পের সাম্প্রতিক ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামে নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা গেছে; ব্যারেলপ্রতি দাম ১০০ ডলারের নিচে নেমে এসেছে।
অন্যদিকে, পুরো পরিস্থিতি নিয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি ইরান। যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা স্পষ্ট করে বলেছেন, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ইরানের হাতে যেতে দেওয়া হবে না।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের বিরুদ্ধে এই সামরিক অভিযান শুরু করে। পরে একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা এখনো পুরোপুরি প্রশমিত হয়নি।
মোহাম্মদী নিউজ এজেন্সী নিউজ – ফিচার – ফটো নেটওয়ার্ক

