Don't Miss
Home / হোম স্লাইডার / উচ্চ পণ্যমূল্যে জীবন আরও কঠিন
উচ্চ পণ্যমূল্যে

উচ্চ পণ্যমূল্যে জীবন আরও কঠিন

এমএনএ শিল্প ও বাণিজ্য ডেস্ক : ভোগ্যপণ্যের বাজারে ঢুকলেই ক্রেতার মন খারাপ হয়ে যাচ্ছে। কী কিনবে, যে পণ্যরই দাম জিজ্ঞেস করা হচ্ছে দাম আকাশছোঁয়া। আমনের ভরা মৌসুম চলছে, তবুও চালের দাম নতুন করে বেড়েছে কেজিতে বেড়েছে ২ থেকে ৩ টাকা। চিকন চাল এক কেজি কিনতে গুনতে হচ্ছে ৭৫ থেকে ৮০ টাকা। মোটা এক কেজি চালের দাম এখন ৫৪ থেকে ৫৫ টাকা। ভোজ্য তেল, ডাল, চিনি, মুরগি, ডিম, মাছ, মাংস থেকে শুরু করে সব প্রকার পণ্যের মূল্য আকাশছোঁয়া। নতুন করে আবার দাম বেড়েছে পেঁয়াজের। সবজির ভরা মৌসুমেও দাম চড়া। সুতরাং উচ্চ পণ্য মূল্য দেশের মানুষের জীবন আরও কঠিন করে তুলেছে। বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, মানুষের আয় বাড়ছে না, অথচ পণ্য মূল্য যে হারে বাড়ছে তাতে সংসারের চাকা ঘোরানো দায় হয়ে পড়েছে। পণ্য মূল্য কমাতে সরকারের তেমন কোনো উদ্যোগ নেই বলে জানিয়েছেন কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি গোলাম রহমান। তা ছাড়া কঠোর মনিটরিংয়ের অভাবেও ব্যবসায়ীরা আরও বেপরোয় হয়ে উঠছেন বলে জানিয়েছেন তিনি। সময়ের আলোকে গোলাম রহমান বলেন, এমনিতেই জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি, পরিবহন ভাড়া বৃদ্ধির চাপে আছে দেশের সাধারণ মানুষ। এর মধ্যে আবার যোগ হয়েছে বাড়িভাড়া বৃদ্ধির উৎপাত। বাজারে গিয়েও স্বস্তি পাচ্ছেন না ক্রেতারা। এমন কোনো পণ্য নেই যার দাম বাড়েনি। সবদিক মিলে জীবনযাত্রার ব্যয় অনেক বেড়ে গেছে। করোনাকালে এমনিতেই দেশের মানুষের আয় কমেছে, অনেক মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছে। এই কর্মহীন ও আয় কমে যাওয়া মানুষগুলোর এখন টিকে থাকা অনেক কঠিন হয়ে পড়েছে।’ তিনি আরও বলেন, নিত্যপণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকার বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিতে পারে। এর মধ্যে প্রথম পদক্ষেপ হবে, যেসব পণ্যের দাম অত্যধিক বেড়েছে সেগুলোর শুল্ক কমিয়ে দেওয়া। দ্বিতীয়ত, টিসিবির মাধ্যমে আরও ব্যাপক হারে কম দামে পণ্য বিক্রি করা। তৃতীয়ত, বাজারে মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার করা।’ বাজার ঘুরে দেখা গেছে, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে যেন আগুন লেগেছে। চালের দাম বেড়েছে মাসখানেক আগেই। আমনের ভরা মৌসুমেও কমার কোনো লক্ষণ তো নেই, উল্টো আরও বাড়ল। নতুন করে কেজিপ্রতি পাঁচ টাকা বেড়েছে মসুর ডালের দাম। সপ্তাহখানেক আগে বেড়েছে আলু ও পেঁয়াজের দাম। এ অবস্থায় ডাল-ভাত আর আলুর ভর্তা খাওয়াও অনেকের জন্য কষ্টকর হয়ে যাচ্ছে। খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, সপ্তাহের ব্যবধানে পাইকারি বাজারে কোনো না কোনো পণ্যের দাম বেড়েছে। তাই খুচরাতেও বাড়তি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। বাজারে বেড়েছে ব্রয়লার মুরগির দাম। কেজিপ্রতি ১০ টাকা বেড়ে দাম উঠেছে ১৭০ টাকায়। বেড়েছে সোনালি জাতের মুরগির দামও। গত সপ্তাহে ২৬০ টাকার মধ্যে পাওয়া গেলেও গতকাল আকারভেদে ২৮০ থেকে ৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। মুরগির পাশাপাশি বেড়েছে ডিমের দামও। ফার্মের লাল ডিমের দাম ডজনে ১০ টাকা বেড়ে হয়েছে ১১০ টাকা। আর দেশি মুরগির ডিমে হালিতে বেড়েছে ১০ টাকা। ৫০ টাকা হালির দেশি ডিম এখন ৬০ টাকা। রাজধানীর কয়েকটি চালের খুচরা বাজার ঘুরে দেখা যায়, চালের বাজার আগের মতোই চড়া। অথচ সরকারি হিসেবে আমন ধান ৮০ থেকে ৮৫ শতাংশ কাটা হয়ে গেছে। সরু চাল নাজির শাইল মানভেদে ৭৫ থেকে ৮০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। বর্তমানে বিআর-২৮ ও গুটি স্বর্ণা প্রতিকেজি ৫০ থেকে ৫৪ টাকা, মিনিকেট প্রতিকেজি ৬৫ থেকে ৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। খুচরা ব্যবসায়ীরা বলছেন, মিল পর্যায়ে দাম বাড়ার কারণে খুচরা বাজারেও বেড়েছে। আর মিল মালিকরা বলছেন, ধানের দাম বেড়েছে। বেড়েছে পরিবহন খরচ। কৃষি বিপণন অধিদফতরের তথ্য বলছে, গত মাসের তুলনায় মিনিকেট চালের দাম কেজি প্রতি এক টাকা ৬৭ পয়সা বেড়েছে। অন্যান্য চালের দাম আগের মতোই রয়েছে। বাজারে বড় দানার মসুর ডাল প্রতিকেজি বিক্রি হচ্ছে ৯০ টাকা। গত সপ্তাহে বিক্রি হয়েছিল ৮৫ টাকায়। দাম তুলনামূলক কম হওয়ায় নিম্ন আয়ের অনেক মানুষ এই ডালের ওপর নির্ভরশীল। এর আগে গত বছর মে-জুনের দিকে করোনার সময় আমদানি-রফতানি ব্যাহত হওয়ায় এই মানের ডালের কেজি ৯০ টাকা ছাড়িয়ে গিয়েছিল। গত বছরের শেষদিকে দাম কমলেও চলতি বছরের মাঝামাঝি থেকে আবার বাড়তে থাকে। ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) হিসেবে, গত বছর এই সময় এই মানের ডালের দাম ছিল ৬৫ থেকে ৭০ টাকা কেজি। সে হিসাবে কেজিপ্রতি দাম বেড়েছে ২৫ শতাংশের বেশি। বেড়েছে ছোট দানার মসুর ডালের দামও। ১০০ থেকে ১১০ টাকা কেজির ডাল এখন ১০৫ থেকে ১১০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। চলতি সপ্তাহে কেজিপ্রতি পাঁচ টাকা করে বেড়েছে আটার দামও। প্যাকেটজাত আটা বিক্রি হচ্ছে ৪৫ থেকে ৫০ টাকা কেজি। সপ্তাহখানেক আগে ছিল ৪০ থেকে ৪৫ টাকা কেজি। দুই কেজির প্যাকেটের গায়ের দাম ৯০ টাকা হলেও অনেক দোকানি পাঁচ টাকা ছাড়ে বিক্রি করছেন। খোলা আটার দাম অবশ্য সপ্তাহ দুয়েক আগে থেকেই বাড়ছে। আগে ৩৪ থেকে ৩৫ টাকা কেজি থাকলেও এখন ৩৫ থেকে ৩৮ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। দুই কেজি প্যাকেটের ময়দার দাম পাঁচ টাকা বেড়ে ৯৫ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ভোজ্য তেল সয়াবিন কেজি বিক্রি হচ্ছে আগের বাড়তি দাম ১৫২ থেকে ১৫৫ টাকায়। খোলা পাম তেল বিক্রি হচ্ছে ১৩৮ থেকে ১৪২ টাকায়। এক বছরের ব্যবধানে সয়াবিন তেলের দাম বেড়েছে সাতবার। প্রতি লিটারে সয়াবিন তেলের দাম বেড়েছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা। বেড়েছে পাম তেলের দামও। মসলা, হলুদ এবং মরিচের গুঁড়ার ছোট প্যাকেটগুলোতে চার-পাঁচ টাকা করে দাম বাড়িয়েছে কোম্পানিগুলো। চিনি আগের মতোই ৭৫ থেকে ৭৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বাজারে পেঁয়াজের এখন পাঁচটি ক্যাটাগরি হয়েছে। দেশি ছোট পেঁয়াজ কেজিপ্রতি ৬০ টাকা, মাঝারি আকারের ৭০ টাকা ও বাছাই করা বড় পেঁয়াজ ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া পাবনার পেঁয়াজ খ্যাত দেশি আদি জাতের পেঁয়াজের কেজি ৯০ টাকা। আমদানি করা ভারতীয় পেঁয়াজের দাম তুলনামূলক কম, ৫০ টাকা কেজি। আদা ও রসুনের দাম গত সপ্তাহের মতোই রয়েছে। চায়না আদা ১২০ টাকা, দেশি ও ভারতীয় ১০০ টাকা কেজি। চায়না রসুন ১৬০ থেকে ১৬৫ টাকা ও দেশি রসুন ৬০ থেকে ৮০ টাকা কেজি। শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে সব ধরনের সবজি তুলনামূলক বেশি দামেই বিক্রি হতে দেখা গেছে। শীত চলে এলেও এখনও সব ধরনের সবজির চড়া বাড়তি থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ক্রেতারা। বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বরবটি প্রতিকেজি বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকায়, করলা ৮০ টাকা, শিম ৫০ টাকা, নতুন আলু ৪০ টাকা, ফুলকপি প্রতি পিচ ৪০, পেঁয়াজের ফুল (ফুলকা) প্রতি আটি ২০ টাকা, বেগুন প্রতিকেজি ৫০ থেকে ৬০ টাকা, লাউ প্রতি পিস ৫০ টাকা, মুলা প্রতিকেজি ৩০ থেকে ৪০ টাকা, কাঁচা পেঁপে প্রতিকেজি ৩০ টাকা, বাঁধাকপি প্রতি পিস ৪০ টাকা, গাজর প্রতিকেজি ৫০ টাকা, ক্ষীরা প্রতিকেজি ৪০ থেকে ৫০ টাকা, টমেটো প্রতিকেজি ৬০ টাকা আর কাঁচামরিচ প্রতিকেজি ৬০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

x

Check Also

আমদানির কারণে আমনের দরপতনে বোরো নিয়েও শঙ্কা, ন্যায্যমূল্য না পাওয়ার আশঙ্কায় কৃষক

বিশেষ প্রতিনিধি বিদেশ থেকে চাল আমদানির কারণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মৌসুম শেষে আমন ধানের দামে ...