Don't Miss
Home / আজকের সংবাদ / উত্তর কোরিয়ার ফের ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ

উত্তর কোরিয়ার ফের ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ

এমএনএ ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক : উত্তর কোরিয়া ফের ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করেছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর জানিয়েছে, স্থানীয় সময় গতকাল শুক্রবার পৌনে ১১ টার দিকে এই ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করে তারা।

উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন দাবি করেছেন, আন্তঃমহাদেশীয় পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালানোর পর পিয়ংইয়ং এটা নিশ্চিত হয়েছে যে যুক্তরাষ্ট্রের যে কোনো স্থানে এখন উত্তর কোরিয়া হামলা করতে সক্ষম।

আজ শনিবার দেশটির রাষ্ট্র পরিচালিত গণমাধ্যমের খবরে এমনটা দাবি করা হয়েছে। প্রথম আইসিবিএম পরীক্ষা চালানোর দু’সপ্তাহের মাথায় উত্তর কোরিয়ার পক্ষ থেকে এ ধরনের মন্তব্য এলো।

তবে সফল উৎক্ষেপণের পর এক বিবৃতিতে উত্তর কোরিয়া জানাচ্ছে, নতুন এই ক্ষেপণাস্ত্রের মাধ্যমে তারা সমগ্র যুক্তরাষ্ট্র জুড়ে হামলা চালাতে প্রস্তুত। ওই বার্তায় নিভৃতকামী কমিউনিস্ট দেশ উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন বলেছেন, ‘সমগ্র যুক্তরাষ্ট্রই এখন আমাদের ক্ষেপণাস্ত্রের আওতায় চলে এসেছে। চাইলে আমরা যেকোনো সময় দেশটিতে হামলা চালাতে পারি।’

ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা সফল হয়েছে দাবি করে এর সঙ্গে সম্পৃক্ত সবার প্রশংসা করেন কিম।

এদিকে উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষাকে ঝুঁকিপূর্ণ ও বিদজ্জনক বলে আখ্যায়িত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি এও দাবি করেন যে উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা ব্যর্থ হয়েছে।

এক বিবৃতিতে ট্রাম্প বলেন, এ ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা উত্তর কোরিয়াকে এক ঘরে করে দেবে। তাছাড়া দেশটিকে অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল করে দেবে এবং দেশটির জনগণকে অন্যান্য সুবিধা থেকে বঞ্চিত করবে।

তিনি জানান, তার সরকার যুক্তরাষ্ট্রকে এ ধরনের হামলা থেকে রক্ষা করবে।

সম্প্রতি আরোপ করা মার্কিন নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ফের এই ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের ঘটনা ঘটলো। জাপান এবং দক্ষিণ কোরিয়াও এর সত্যতা স্বীকার করেছে।

গতকাল উত্তরাঞ্চলীয় জ্যাঙাং প্রদেশ থেকে এ ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করে উত্তর কোরিয়া। জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো অ্যাবে জানিয়েছেন, তিনি উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের কথা শুনেছেন এবং সেটি পূর্ব উপকূলীয় সাগরে খুব সম্ভবত জাপানের অর্থনৈতিক এলাকায় গিয়ে পড়েছে।

জাপানের চীফ ক্যাবিনেট সেক্রেটারি ইউশিহিদে সুগা জানিয়েছেন, ক্ষেপণাস্ত্রটি ৪৫ মিনিটের মতো পথ অতিক্রম করে এবং জাপানের অর্থনৈতিক অঞ্চলে গিয়ে পড়ে। এতে কোনো বিমান বা যানবাহনের ক্ষতি হয়নি।

পেন্টাগন জানিয়েছে, তারা এখন ক্ষেপণাস্ত্রটি কী প্রকৃতির তা জানার চেষ্টা করছেন। দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্রটি আইসিবিএম প্রকৃতির হবে।

উত্তর কোরিয়া বলছে, তাদের আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র বা আইসিবিএম ৪৭ মিনিট আকাশে ওড়ে এবং ৩ হাজার ৭২৪ কিলোমিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম হয়। রকেটটির মডেল ছিল হওসং-১৪। ক্ষেপণাস্ত্রটি উত্তর জাপানের কাছে সমুদ্রে পতিত হয় বলে জানানো হয়েছে।

এর আগে গত ৩ জুলাইও একই মডেলের একটি ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালায় উত্তর কোরিয়া।

উত্তর কোরিয়ার সর্বশেষ ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার প্রতিক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র এবং দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী ভূমি থেকে ভূমিতে উৎক্ষেপণযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে মহড়া চালিয়েছে।

এদিকে বেশ কয়েকটি পরীক্ষা সত্ত্বেও বিশেষজ্ঞদের ধারণা, উত্তর কোরিয়া এখনো দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রে পারমাণবিক বোমা যুক্ত করার মত সক্ষমতা অর্জন করতে পারেনি। তারা বলছেন, উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র নির্ভুলভাবে টার্গেটে আঘাত করতে পারে না।

অনেকেই আবার মনে করেন, যে হারে পিয়ংইয়ং এগিয়ে যাচ্ছে, তাতে আগামী ৫ থেকে ১০ বছরের মধ্যে তারা যুক্তরাষ্ট্রে আঘাত হানতে সক্ষম এমন পারমাণবিক ওয়ারহেডযুক্ত ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করতে পারবে।

x

Check Also

ব্যাংক রেজুলেশন আইন ২০২৬ দুর্নীতি সহায়ক, লুটেরাদের পুনর্বাসন আত্মঘাতী: টিআইবি

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক সদ্য পাস হওয়া ব্যাংক রেজুলেশন আইন, ২০২৬ নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনার ...