উপজেলায় চতুর্থ ধাপের ভোটগ্রহণ শেষ, চলছে গণনা
Posted by: News Desk
March 31, 2019
এমএনএ রিপোর্ট : পঞ্চম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চতুর্থ ধাপের ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে। ভোটগ্রহণ স্থগিত, কেন্দ্র দখল, গোলাগুলি, ককটেল বিস্ফোরণ ও জাল ভোট দেওয়াসহ নানা অনিয়মের মধ্য দিয়ে ভোটগ্রহণ শেষে এখন চলছে গণনা।
আজ রবিবার সকাল ৮টা থেকে দেশের ১০৭ উপজেলায় এ ভোটগ্রহণ শুরু হয়। এটি বিরতিহীনভাবে চলে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। বিএনপি-জামায়াত জোটসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দল ও জোট বর্জন করায় এ নির্বাচনও অনেকটা একতরফা হচ্ছে। এতে ভোটার উপস্থিতি ছিল অত্যন্ত কম।
তবে এর মধ্যেও সংঘর্ষ, কেন্দ্র দখল করে সিল মেরে বাক্স ভরিয়ে ফেলার ঘটনা ঘটেছে। এমনকি অনিয়মের অভিযোগে প্রিজাইডিং ও সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তাকে আটকের ঘটনাও ঘটেছে।
নির্বাচন কমিশনের (ইসি) তথ্যানুযায়ী, চতুর্থ ধাপের নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ৩৫১ জন, ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৫৩৩ জন ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৪০৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ১০৭ উপজেলায় মোট ভোটার দুই কোটি ৭৩ লাখ ৭ হাজার ৩৪১ জন। ভোটকেন্দ্র ১০ হাজার ৩৮৯টি এবং কক্ষ ৬৭ হাজার ৯৭৯টি।
চতুর্থ ধাপে ১২২টি উপজেলার নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়েছিল। এর মধ্যে পাঁচটি উপজেলার সবগুলো পদের প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ায় ওই উপজেলাগুলোতে কোনও ভোটগ্রহণের প্রয়োজন হয়নি। এ ধাপে ৩৯ জন চেয়ারম্যানসহ ৮৮ জন প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। ভাইস চেয়ারম্যান পদে ২২ উপজেলা এবং নারী ভাইস চেয়ারম্যান পদে ২৭ উপজেলায় একক প্রার্থী জয়লাভ করেছেন। চারটি উপজেলায় আদালতের নির্দেশে ও দুটি উপজেলায় নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তে ভোটগ্রহণ স্থগিত হয়। এছাড়া তৃতীয় ধাপের ছয়টি উপজেলার ভোট স্থানান্তর করে এ ধাপে আনা হয়।
চতুর্থ ধাপের ৮টি জেলার ১৫ উপজেলার সব পদের প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। উপজেলাগুলো হলো– ভোলা সদর, মনপুরা ও চরফ্যাশন; যশোরের শার্শা; ময়মনসিংহের গফরগাঁও; ঢাকার সাভার, কেরানীগঞ্জ; কুমিল্লার লাকসাম, নাঙ্গলকোট, মনোহরগঞ্জ, দেবীদ্বার, চৌদ্দগ্রাম; নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা ও ফেনীর পরশুরাম।
চতুর্থ ধাপে ছয়টি উপজেলার ভোট আগেই স্থগিত করা হয়। এর মধ্যে আদালতের আদেশে খুলনার ডুমুরিয়া, ফেনীর ছাগলনাইয়া, ময়মনসিংহের ত্রিশাল ও কুমিল্লার বরুড়া এবং অনিয়মের কারণে ইসি নিজেই নোয়াখালীর কবিরহাট ও পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ার ভোট স্থগিত করে। নির্বাচনে ছয় উপজেলায় ইভিএম ব্যবহার করা হয়েছে। উপজেলাগুলো হলো- বাগেরহাট সদর, ফেনী সদর, মুন্সীগঞ্জ সদর, ময়মনসিংহ সদর ও পটুয়াখালী সদর।
যেসব উপজেলায় ভোট হয়েছে
চতুর্থ ধাপে নিম্ন লিখিত উপজেলাগুলোতে ভোট হয়েছে। যথা: পটুয়াখালী সদর, দশমিনা, গলাচিপা, কলাপাড়া, মির্জাগঞ্জ, দুমকী ও বাউফল; ভোলা জেলার দৌলতখান, তজুমুদ্দিন ও লালমোহন; বরগুনা জেলার সদর, আমতলী, বেতাগী, বামনা ও পাথরঘাটা; পিরোজপুর জেলার সদর, ইন্দুরকানী, কাউখালী, ভান্ডারিয়া, নেছারাবাদ ও নাজিরপুর; যশোর জেলার সদর, বাঘারপাড়া, ঝিকরগাছা, চৌগাছা, অভয়নগর, মনিরামপুর ও কেশবপুর; খুলনা জেলার দিঘলিয়া, কয়রা, দাকোপ, পাইকগাছা, রূপসা, তেরখাদা, ফুলতলা ও বটিয়াঘাটা; বাগেরহাট জেলার সদর, মোংলা, রামপাল, মোরেলগঞ্জ, কচুয়া, শরণখোলা, চিতলমারী, ফকিরহাট ও মোল্লাহাট; ময়মনসিংহ জেলার সদর, হালুয়াঘাট, ধোবাউড়া, ফুলপুর, ঈশ্বরগঞ্জ, ফুলবাড়িয়া, গৌরীপুর, নান্দাইল, মুক্তাগাছা ও ভালুকা; মুন্সিগঞ্জ জেলার সদর, সিরাজদিখান, লৌহজং, শ্রীনগর, গজারিয়া ও টংগীবাড়ী; নারায়ণগঞ্জ জেলার আড়াইহাজার, সোনারগাঁও ও রূপগঞ্জ; ঢাকা জেলার ধামরাই, দোহার ও নবাবগঞ্জ; টাঙ্গাইল জেলার সদর, ধনবাড়ী, মধুপুর, মির্জাপুর, দেলদুয়ার, নাগরপুর, ঘাটাইল, ভূঞাপুর, কালিহাতী, গোপালপুর, বাসাইল ও সখীপুর, নরসিংদী জেলার নরসিংদী সদর; কুমিল্লা জেলার তিতাস, চান্দিনা, মুরাদনগর, বুড়িচং, ব্রাহ্মণপাড়া, মেঘনা ও হোমনা; নোয়াখালী জেলার বেগমগঞ্জ, সেনবাগ, সোনাইমুড়ী, সুবর্ণচর ও চাটখিল; ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সদর, সরাইল, আখাউড়া, আশুগঞ্জ, নাসিরাবাদ ও নবীনগর; ফেনী জেলার সদর, ফুলগাজী, সোনাগাজী ও দাগনভুঞা; চট্টগ্রামের লোহাগাড়া, কক্সবাজার সদর; দিনাজপুর সদর; কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী এবং গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ।
ইতোমধ্যে প্রথম ধাপে ১০ মার্চ ৭৮ উপজেলায়, দ্বিতীয় ধাপে ১৮ মার্চ ১১৬ উপজেলায়, তৃতীয় ধাপে ১১৭ উপজেলায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
ভোটগ্রহণ শেষ চলছে গণনা উপজেলায় চতুর্থ ধাপের 2019-03-31