Don't Miss
Home / আজকের সংবাদ / এটিসির দু’রকম নির্দেশনায় বিভ্রান্ত হন পাইলট

এটিসির দু’রকম নির্দেশনায় বিভ্রান্ত হন পাইলট

এমএনএ রিপোর্ট : কাঠমান্ডুতে বাংলাদেশের এয়ারলাইন্স ইউএস-বাংলার প্লেন বিধ্বস্ত হওয়ার জন্য সেখানকার বিমানবন্দরের এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলই (এটিসি) দায়ী। তাদের দু’রকম নির্দেশনার ফলেই বিভ্রান্ত হন বিএস২১১ ফ্লাইটের পাইলট। শেষতক এটিসির এই মারাত্মক ভুলে প্লেনটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে ঝরে যায় ৪৯টি তাজা প্রাণ।
এটিসির সঙ্গে পাইলটের কথোপকথনের অডিও’র শেষ চার মিনিট বিশ্লেষণ করে এই খবর দিচ্ছে নেপালের সংবাদমাধ্যম। অডিওটি এরইমধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে ইউটিউবে। তা শুনে বৈমানিকরাও বলছেন, এটিসির নির্দেশনার ফলে প্লেনের ককপিট বিভ্রান্ত হয়েছে। ইউটিউবে ছড়িয়ে পড়া ওই অডিও শুনে অনেকেই মন্তব্য করছেন, এটা পুরোপুরি এটিসির ভুল। তাদের ভুলের এমন মারাত্মক মাশুল গুনতে হলো বাংলাদেশসহ সংশ্লিষ্টদের।
গতকাল সোমবার দুপুরে পার্বত্য শহর কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন আর্ন্তজাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের সময় প্লেনটি বিধ্বস্ত হয়। ঢাকা থেকে যাওয়া ৭৮ আসনের উড়োজাহাজটিতে চার ক্রুসহ মোট ৭১ আরোহী ছিলেন। এতে এখন পর্যন্ত ৪৯ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে নেপাল পুলিশ দপ্তর।
নেপাল টাইমসের প্রতিবেদনে পাইলটের সঙ্গে এটিসির কথোপকথনের শেষ চার মিনিট বিশ্লেষণ করে বলা হয়, পাইলট ও এটিসির আলাপে বিমানবন্দরের রানওয়ে ০২ (দক্ষিণ প্রান্ত) ও রানওয়ে ২০ (উত্তর প্রান্ত) নিয়ে বিভ্রান্তি (কনফিউশন) বোঝা গেছে। বিএস২১১ যখন এগিয়ে যাচ্ছিল, অন্য প্লেনের নেপালি পাইলটরা শুনতে পান, এটিসি থেকে ইউএস-বাংলার পাইলটকে হুঁশিয়ার করা হচ্ছে যে, তাকে কিছুটা বিভ্রান্ত মনে হচ্ছে এবং তার উচিত রাডার অনুসরণ করা ও বিপজ্জনক পথ থেকে সরে যাওয়া। সেসময় বিমানবন্দরের পাশের পাহাড়ও স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছিলো না।
এরই মধ্যে নিয়ন্ত্রণ টাওয়ারের সঙ্গে পাইলটদের কথোপকথনের একটি অডিও গতকাল সোমবার ইউটিউবে ছড়িয়ে পড়ে। সেই কথোপকথনে সংকেত নিয়ে ভুল-বোঝাবুঝির বিষয়টি স্পষ্ট বলে মনে করছেন অভিজ্ঞ পাইলটরা।
নেপালের সংবাদমাধ্যমগুলোকে প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেছেন, উড়োজাহাজটি খুব নিচু দিয়ে উড়ছিল এবং হঠাৎ তীক্ষ্ণ বাঁক নেয়। এরপর উড়োজাহাজটি অদৃশ্য হয়ে যায় এবং ধোঁয়া উঠতে দেখা যায়।
কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রানওয়ে একটি। রানওয়ের দক্ষিণ দিকের সংকেত জিরো টু (০২)। আর উত্তর দিকের রানওয়ের সংকেত টু জিরো (২০)। বিমানবন্দরের এয়ার ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ টাওয়ারের (এটিসি) সঙ্গে পাইলটের যে কথোপকথন শোনা যায়, উড়োজাহাজটিকে প্রথমে রানওয়ের জিরো টু অর্থাৎ দক্ষিণ দিক দিয়ে নামতে বলে টাওয়ার। এর কিছুক্ষণ পরেই সেটিকে উত্তর দিক থেকে নামতে বলা হয়। এরপর আবার বিমানটিকে সেদিকে যেতে মানা করা হয়। শেষ চার মিনিটের কথোপকথন শেষে টাওয়ার থেকে চিৎকার করে উড়োজাহাজটিকে ঘুরতে বলা হচ্ছিল।
বিমানবন্দর নিয়ন্ত্রণ টাওয়ারের সঙ্গে বেতার যোগাযোগের ক্ষেত্রে ইউএস-বাংলার সংকেত ছিল বিএস-২১১। টাওয়ার থেকে ডাকা হচ্ছিল বাংলা স্টার টু ওয়ানওয়ান নামে।
কথোপকথনের প্রথমে টাওয়ার থেকে বলা হয় ‘রানওয়ে জিরো টু ইজ ক্লিয়ারড’। অর্থাৎ দক্ষিণ রানওয়েতে বিমানটি নামতে পারে। এর মধ্যেই জিরো টুতে আরেকটি উড়োজাহাজকে নামতে সংকেত দেয় টাওয়ার। এরপরের কথোপকথনগুলো ছিল এ রকম
টাওয়ার : আপনারা রানওয়ে টু জিরোর (উত্তর) দিকে যাচ্ছেন।
পাইলট : হ্যাঁ, ম্যাডাম।
এর মধ্যেই পাইলটকে আবার হুঁশিয়ার করে বলা হয় যেন দক্ষিণের রানওয়েতে অবতরণ না করেন, কারণ আরেকটি প্লেন নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে। সেই উড়োজাহাজটিকে নামার জন্য চূড়ান্ত সংকেতও দেয় টাওয়ার।
পরের কথোপকথনটা ছিল এ রকম :
টাওয়ার : বাংলাস্টার টু ওয়ানওয়ান আমি আবারও বলছি। রানওয়ে টু জিরোর (উত্তর) দিকে না যেতে। বর্তমান অবস্থা বজায় রাখুন।
পাইলট : আমরা ডান দিকে বৃত্তাকার পথে ঘুরে আসছি। ডান দিকে ঘুরে ডান পথে রানওয়ের জিরো টুর (দক্ষিণে) দিকে যাচ্ছি।
টাওয়ার : ঠিক আছে, খুব ভালো। কিন্তু ল্যান্ড করবেন না। রানওয়ে জিরো টুতে ট্রাফিক চূড়ান্ত অবস্থায় আছে।
টাওয়ার : বর্তমান অবস্থা বজায় রাখতে পারেন।
কিছুক্ষণের মধ্যেই দুটি রানওয়ের মধ্যে কোনটিতে পাইলট নামতে চান সে বিষয়ে জানতে চায় টাওয়ার।
টাওয়ার : বাংলাস্টার টু ওয়ানওয়ান। কোন রানওয়েতে নামতে চান। জিরো টু অথবা টু জিরো।
পাইলট : আমরা টু জিরোতে (উত্তর রানওয়ে) নামতে চাই। (কথোপকথনের ১ মিনিট ২২ সেকেন্ড)
টাওয়ার : ঠিক আছে। রানওয়ে টু জিরো ল্যান্ডিংয়ের জন্য ক্লিয়ার। বাতাসের গতি ২৭০ ডিগ্রি ৬ নট।
পাইলট : জানলাম (কপিড)। ল্যান্ডিংয়ের জন্য ক্লিয়ার।
টাওয়ার : বাংলাস্টার আপনারা কি রানওয়ে দেখতে পাচ্ছেন, নিশ্চিত করুন।
পাইলট : নেগেটিভ স্যার
টাওয়ার : বাংলাস্টার টু ওয়ানওয়ান ডানে ঘুরুন…এখনো রানওয়ে দেখতে পাচ্ছেন না?
পাইলট : হ্যাঁ, পাচ্ছি…ল্যান্ডিংয়ের জন্য অনুমতি চাচ্ছি। (রিকোয়েস্টিং ক্লিয়ার টু ল্যান্ড স্যার।)
টাওয়ার : হ্যাঁ, অনুমতি দেওয়া হলো। (২ মিনিট ২২ সেকেন্ড)
এদিকে তখন ১০ কিলোমিটার দূরে থাকা সেনাবাহিনীর একটি প্লেনকে এটিসি আবার ঠিক উল্টোটিই বলছিল, ‘বাংলাদেশের প্লেনটির জন্য রানওয়ে ২০ চূড়ান্ত।’
এতক্ষণ রানওয়ের উত্তর অংশে নামার কথোপকথন চলছিল। উত্তর অংশে নামার অনুমতি পাওয়ার ঠিক এক মিনিটের মাথাতেই পাইলট আবার দক্ষিণ (জিরো টু) রানওয়েতে অবতরণ করতে যাচ্ছেন বলে জানালেন। টাওয়ারও অনুমোদন দিল। এ সময়ই আবার পাইলট টাওয়ারকে জিজ্ঞেসও করলেন তাঁদের অবতরণের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে কি না? জিরো টুতে অনুমোদন দেওয়ার ঠিক ৫০ সেকেন্ড পরে টাওয়ার চিৎকার করে ডান দিকে ঘুরতে বলে। এর কিছুক্ষণ পরেই রানওয়ে বন্ধের ঘোষণা আসে।
শেষ কথোপকথনটা ছিল এ রকম :
পাইলট : বাংলাস্টার টু ওয়ান ওয়ান রানওয়ে জিরো টুতে (দক্ষিণ) ল্যান্ডিং করতে যাচ্ছে। (ল্যান্ডিং অন জিরো টু। বাংলাস্টার টুওয়ান ওয়ান।)
টাওয়ার : রানওয়ে জিরো টু (দক্ষিণ) ল্যান্ডিংয়ের জন্য ঠিক আছে। (রজার, রানওয়ে জিরো টু ক্লিয়ার টু ল্যান্ড বাংলাস্টার টু ওয়ান ওয়ান)
এরপরে টাওয়ার অন্য বিষয়ে কিছু কথা বলে। কিছু কথা হয় টাওয়ারের ভেতরে নেপালি ভাষায়। এ সময় টাওয়ার থেকে ইউএস-বাংলাকে বলা হয়, আপনারা কি বর্তমান অবস্থা বজায় রাখতে পারবেন?
পাইলট : ……..স্যার আমরা কি নামতে পারি (…স্যার আর উই ক্লিয়ার টু ল্যান্ড?)
টাওয়ার : বাংলাস্টার টু ওয়ান ওয়ান আমি আবারও বলছি ঘুরুন। (বাংলাস্টার টুওয়ান ওয়ান আইসে অ্যাগেইন, টার্ন…)
এর মধ্যে কিছু গোলোযোগের মতো শোনা যায়। কয়েক মিনিটের মধ্যে টাওয়ার আবার সক্রিয় হয়ে রানওয়ে বন্ধের ঘোষণা দেয়।
এরপর কিছুক্ষণ নীরব থাকে সব, ফের এটিসি থেকে অগ্নিসংকেত বাজতে শুরু করে। তার অর্থ, প্লেনটি বিধ্বস্ত হয়েছে এবং অগ্নিনির্বাপণী সংকেত চালু হয়েছে। এরপর একজন নেপালি পাইলট প্রশ্ন করেন রানওয়ে বন্ধ কি-না, তখন এটিসির তরফ থেকে বলা হয়, ‘রানওয়ে বন্ধ’।
সন্ধ্যায় রাজধানীর বারিধারায় ইউএস-বাংলার কার্যালয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফিং করে এটিসির ভুল নির্দেশনার ব্যাপারে সন্দেহ প্রকাশ করেন এয়ারলাইন্সটির সিইও ইমরান আসিফও। এ সন্দেহের বিষয়ে বিবিসি, আল জাজিরা, চ্যানেল নিউজ এশিয়াসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমও খবর প্রকাশ করেছে।
ইউএস-বাংলার সিইও বলেন, বিমানবন্দরের এটিসি টাওয়ার সঙ্গে পাইলটের কথোপকথনের অডিও পেয়েছি। এই রেকর্ডবার্তা শুনলে আপনারা বুঝতে পারবেন, আমাদের ধারণা এটিসি টাওয়ারের ভুল নির্দেশনার কারণে প্লেন বিধ্বস্ত হয়েছে।
অভিযোগ করা হচ্ছে কি-না, এমন প্রশ্ন করা হলে ইমরান আসিফ বলেন, আমরা অভিযোগ করছি না, সন্দেহ করছি। বিমানবন্দরের কোন দিক দিয়ে রানওয়েতে ফ্লাইটটি অবতরণ করবে, সে বিষয়ে কোনো ভুল বার্তা দেওয়া হয়েছে। অডিওটি ইতিমধ্যে অনলাইনে পাওয়া যাচ্ছে।
আবেদ সুলতান নামের পাইলট বিমান বাহিনীর সাবেক অফিসার জানিয়ে ইউএস-বাংলার সিইও বলেন, তিনি জীবিত রয়েছেন। তার পাঁচ হাজার ঘণ্টার ফ্লায়িং অভিজ্ঞতা রয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় আমাদের মনে হচ্ছে, যান্ত্রিক কোনো ত্রুটি নয়, বৈমানিকেরও কোনো গাফেলতি ছিল না, এটিসির কোনো গাফেলতি ছিল।
ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের মহাব্যবস্থাপক রাজকুমার ছেত্রীর বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, বিধ্বস্ত হওয়ার আগ পর্যন্ত উড়োজাহাজটির পাইলট নিয়ন্ত্রণকক্ষকে জানিয়েছিলেন, কোনো সমস্যা নেই। তবে পাইলট উড়োজাহাজটিকে বিমানবন্দরের উত্তর-পূর্ব দিক থেকে অবতরণ করাতে চাচ্ছিলেন।
রাজকুমার ছেত্রী বলেন, বিমানবন্দরে নামার অনুমতি পাওয়ার পর উড়োজাহাজটির পাইলট বলেন, তিনি উত্তর দিকে নামতে চান। তখন নিয়ন্ত্রণকক্ষ থেকে জানতে চাওয়া হয়, কোনো সমস্যা আছে কি না। এর জবাবে পাইলট জানান, কোনো সমস্যা নেই। অবতরণের আগে দুবার আকাশে চক্কর দেয় উড়োজাহাজটি। তিনি বলেন, এরপর অবতরণে অসংগতি দেখে নিয়ন্ত্রণকক্ষ থেকে পাইলটকে জানিয়ে দেওয়া হয়, উড়োজাহাজটি ঠিকভাবে অবতরণ করছে না। কিন্তু এ কথার কোনো জবাব পাইলটের কাছ থেকে পাওয়া যায়নি।
রাজকুমার ছেত্রী বলেন, উড়োজাহাজটি নিয়ন্ত্রণকক্ষের নির্দেশনা ঠিকভাবে অনুসরণ করেনি। একপর্যায়ে সেটি বিমানবন্দরের দেয়ালের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে মাটিতে আছড়ে পড়ে এবং সঙ্গে সঙ্গে আগুন ধরে যায়।
যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানায়, ‘ইউএস-বাংলার সিইও ইমরান আসিফ বলেছেন, এটিসি থেকে ভুল নির্দেশনা ছিল, আমাদের পাইলটের কোনো ভুল ছিল না। ৫ হাজার ঘণ্টা ফ্লাই করার অভিজ্ঞতা সম্পন্ন তিনি। এটিসিই অবতরণের সময় তালগোল পাকিয়ে ফেলেছে।’
এদিকে, দুর্ঘটনায় বেঁচে যাওয়া বসন্ত বোহরা নামে একটি ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্যুরসের যাত্রীও টুইট করে বলেছেন, প্লেনটি ঢাকা থেকে নির্বিঘ্নে উড্ডয়ন করলেও কাঠমান্ডুতে নামার সময়ই কিছু একটা ঘটনার শিকার হয়। তারপর দুর্ঘটনার কবলে পড়ে।
অন্যদিকে, দুর্ঘটনায় হতাহতদের শোকাহত স্বজনদের নেপাল নিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছে ইউএস-বাংলা। এয়ারলাইন্সটি বলেছে, তাদের ব্যবস্থাপনায় হতাহতদের স্বজনদের নেপালে নিয়ে যাওয়া হবে, যেন নিহত প্রিয়জনকে শনাক্ত বা আহত প্রিয়জনের পাশে গিয়ে দাঁড়াতে পারেন তারা।
বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একের পর এক দুর্ঘটনার কারণে নেপালের ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরটির নিরাপত্তা নিয়ে প্রায়ই আলোচনা হয়। ১৯৭২ সাল থেকে এ পর্যন্ত ৭০টির বেশি দুর্ঘটনা ঘটেছে। এসব দুর্ঘটনায় ৬৫০ জনের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। সর্বশেষ দুর্ঘটনার শিকার হলো ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের উড়োজাহাজটি।
x

Check Also

টানা ৫ ঘণ্টার বেশি গাড়ি চালানো যাবে না, সতর্ক করল বিআরটিএ

এমএনএ প্রতিবেদক একটানা দীর্ঘ সময় গণপরিবহণ চালানোর ফলে চালকদের ক্লান্তি, ঝিমুনি ও ঘুমের প্রবণতা বাড়ছে, ...