বিশেষ প্রতিবেদন
তদবির ও প্রশাসনিক জটিলতা কমিয়ে স্বচ্ছ ও দ্রুত নিয়োগ নিশ্চিত করতে ৮৩ বছর পুরোনো ‘পুলিশ রেগুলেশন্স অব বেঙ্গল (পিআরবি)’ সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ। প্রায় ৪ হাজার সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) নিয়োগকে সামনে রেখে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, যাতে আধুনিক অপরাধ দমনে দক্ষ জনবল গড়ে তোলা যায় এবং অনলাইন জিডি ও মামলা তদন্ত কার্যক্রম আরও গতিশীল করা সম্ভব হয়।
পুলিশ সদর দপ্তর ইতোমধ্যে ১৯৪৩ সালের এই প্রবিধানের সংশ্লিষ্ট ধারা সংশোধনের প্রস্তাবনা তৈরি করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, বর্তমান নিয়োগ ব্যবস্থায় দীর্ঘসূত্রতা ছাড়াও রাজনৈতিক তদবির, ভিআইপি সুপারিশ এবং ‘ডিও লেটার’ মোকাবিলা করতে গিয়ে নানা প্রশাসনিক জটিলতার সৃষ্টি হয়। ফলে নিয়োগ প্রক্রিয়া বিলম্বিত হয় এবং স্বচ্ছতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়।
পুলিশ সদর দপ্তরের লিগ্যাল অ্যাফেয়ার্স শাখার অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ জিয়াউর রহমান জানিয়েছেন, এসআই পদে সরাসরি নিয়োগের পথ সহজ করতে পিআরবি’র সংশোধনী খসড়া মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। এটি অনুমোদিত হলে দ্রুত ও স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে।
একই সঙ্গে ডিআইজি পদমর্যাদার আরেক কর্মকর্তা জানান, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী পুলিশকে আরও জনবান্ধব ও যুগোপযোগী বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আনা হচ্ছে। ইতোমধ্যে শূন্যপদ পূরণ ও নতুন পদে নিয়োগ কার্যক্রম শুরু হয়েছে, যার অংশ হিসেবে ৪ হাজার এসআই নিয়োগ প্রক্রিয়াও চলমান।
প্রস্তাবিত সংশোধনী অনুযায়ী, প্রতি বছর একবার এসআই পদের শূন্যপদ পূরণ করা হবে। এর মধ্যে ৫০ শতাংশ সরাসরি নিয়োগ এবং বাকি ৫০ শতাংশ সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) থেকে পদোন্নতির মাধ্যমে পূরণ করা হবে। প্রতি বছরের আগস্টে সম্ভাব্য শূন্যপদের তথ্য সংগ্রহ করবেন পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি), এবং সরাসরি নিয়োগের পদগুলো জনসংখ্যা অনুযায়ী জেলাভিত্তিক বণ্টন করা হবে। প্রয়োজনে সরকার এই অনুপাত পরিবর্তন করতে পারবে।
পুলিশের প্রস্তাবে আরও বলা হয়েছে, আধুনিক প্রযুক্তির বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে সাইবার অপরাধ উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ব্যক্তিগত তথ্য চুরি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ছড়ানো, আর্থিক প্রতিষ্ঠানে হ্যাকিংসহ নানা ধরনের অপরাধ জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। ২০১৬ সালে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ঘটনাও এই ঝুঁকির একটি বড় উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
বর্তমানে বিভিন্ন ইউনিট সাইবার অপরাধ দমনে কাজ করলেও তা পর্যাপ্ত নয়, বিশেষ করে জেলা ও থানা পর্যায়ে সেবার ঘাটতি রয়েছে। অনলাইনে জিডি ও মামলা গ্রহণের ব্যবস্থা চালু হলেও দক্ষ জনবলের অভাবে তদন্ত কার্যক্রম সঠিকভাবে পরিচালনা করা যাচ্ছে না।
খসড়ায় বলা হয়েছে, সাব-ইন্সপেক্টর পদটি থানাভিত্তিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, তদন্ত, অপরাধী শনাক্তকরণ এবং জনসেবায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে সীমিত সংখ্যক এসআই দিয়ে বিশাল কর্মপরিধি সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে দক্ষ, প্রশিক্ষিত ও প্রযুক্তিবান্ধব জনবল নিয়োগ এখন সময়ের দাবি।
এই প্রেক্ষাপটে, সততা, দক্ষতা, পেশাদারিত্ব ও যোগ্যতার ভিত্তিতে সরাসরি এসআই নিয়োগ বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে। এতে পুলিশ বাহিনী আরও জবাবদিহিমূলক, কার্যকর ও জনবান্ধব হয়ে উঠবে বলে আশা করা হচ্ছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপসচিব (পুলিশ-২ শাখা) ফরিদা খানম জানিয়েছেন, এ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব এসেছে বলে তিনি জেনেছেন। তবে বর্তমানে ছুটিতে থাকায় ফাইলের সর্বশেষ অবস্থা যাচাই করে পরে বিস্তারিত জানাতে পারবেন বলে উল্লেখ করেন।
মোহাম্মদী নিউজ এজেন্সী নিউজ – ফিচার – ফটো নেটওয়ার্ক

