এমএনএ জাতীয় ডেস্ক : দেশে করোনা সংক্রমণে প্রতিদিনই বাড়ছে মৃত্যুর মিছিল। করোনাভাইরাসের নতুন ধরন ওমিক্রনের উপধরন আরও বেশি সংক্রামক হতে পারে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। এ অবস্থায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বিকল্প নেই বলেও সতর্ক করেছে সংস্থাটি। বুধবার প্রাণঘাতী এ ভাইরাসে আরও ৩৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এক দিনে এর চেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছিল গত বছরের ১৯ সেপ্টেম্বর। সেদিন মৃত্যু হয়েছিল ৪৩ জনের। এর আগের দিন মারা যান ৩১ জন। অর্থাৎ টানা চার দিন ধরে দেশে করোনায় ৩০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হলো। আর নতুন করে শনাক্ত হয়েছেন ১২ হাজার ১৯৩ জন। এর মধ্যে ঢাকা বিভাগের বাসিন্দা সাত হাজার ৩৭৫ জন, যা মোট আক্রান্তের ৬০ শতাংশের বেশি। এর আগের দিন শনাক্ত হন ১৩ হাজার ১৫৪ জন। এ ছাড়া পরীক্ষা বিবেচনায় রোগী শনাক্তের হার ২৭ দশমিক ৪৩ শতাংশ। আগের দিন এই হার ছিল ২৯ দশমিক ১৭ শতাংশ।
বুধবার স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে পাঠানো করোনা বিষয়ক নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
গত বছরের মাঝামাঝি করোনার ডেলটা ধরনের দাপটে দেশে করোনায় মৃত্যু, শনাক্ত ও শনাক্তের হার বেড়েছিল। তবে আগস্টে দেশব্যাপী করোনার গণটিকা দেওয়ার পর সংক্রমণ কমতে থাকে। গত ডিসেম্বরের প্রথম দিকেও দেশে করোনা শনাক্ত ১ শতাংশের ঘরেই ছিল। তবে গত মাসের দ্বিতীয়ার্ধে এসে সংক্রমণের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যায়। বর্তমানে দেশে করোনার অতি সংক্রামক ধরন অমিক্রনের দাপট চলছে।
স্বাস্থ্য অধিদফতর জানায়, দেশে করোনায় মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৮ হাজার ৪৬১ জনে। আর এ পর্যন্ত মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৮ লাখ ২৪ হাজার ১৮০ জনে। গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে সুস্থ হয়েছেন ৪ হাজার ২০৩ জন। এ পর্যন্ত মোট সুস্থ হয়েছেন ১৫ লাখ ৭৫ হাজার ১৩৭ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৮৬৭টি ল্যাবে ২৪ ঘণ্টায় নমুনা সংগ্রহ হয়েছে ৪৪ হাজার ৩০৮টি এবং নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ৪৪ হাজার ৪৫১টি। এ পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষা হয়েছে এক কোটি ২৫ লাখ ৬৮ হাজার ২২৬টি।
দেশে এ পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষা বিবেচনায় শনাক্তের হার ১৪ দশমিক ৫১ শতাংশ এবং শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৮৬ দশমিক ৩৫ শতাংশ এবং শনাক্ত বিবেচনায় মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৫৬ শতাংশ। গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত ৩৬ জনের মধ্যে ১৭ জন পুরুষ ও ১৯ জন নারী। এর মধ্যে ঢাকা বিভাগে মারা গেছেন ১৩, চট্টগ্রামে ৫, রাজশাহীতে ৬, খুলনায় ৭, বরিশালে ৩ এবং সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগের একজন করে রয়েছেন। তবে রংপুর বিভাগে কোনো মৃত্যু নেই। আর বয়স বিবেচনায় এক থেকে ১০ বছরের মধ্যে ১, ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে ২, ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে ৪, ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে ৭, ৬১ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে ৯, ৭১ থেকে ৮০ বছরের মধ্যে ৯ এবং ৮১ থেকে ৯০ বছরের মধ্যে রয়েছেন ৪ জন।দেশে এখন পর্যন্ত মোট পুরুষ মারা গেলেন ১৮ হাজার ১৭৩ জন, যার শতকরা হার ৬৩ দশমিক ৮৫ শতাংশ। আর নারী মারা গেছেন ১০ হাজার ২৮৮ জন, যার শতকরা হার ৩৬ দশমিক ১৫ শতাংশ।
এদিকে, বুধবার দুপুরে দেশের করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতি নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদফতরের নিয়মিত ভার্চুয়াল বুলেটিনে সংস্থাটির মুখপাত্র অধ্যাপক ডা. নাজমুল ইসলাম বলেন, ওমিক্রনের নতুন যে ভ্যারিয়েন্ট দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে এসেছে, তারও একটি সাব-ভ্যারিয়েন্ট বিশ্বের ৫৭টি দেশে শনাক্ত হয়েছে। বিভিন্ন গবেষণাকে উদ্ধৃত করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ইতোমধ্যে জানিয়েছে, এই সাব-ভ্যারিয়েন্টটি কিন্তু আগের তুলনায় বেশি সংক্রামক হতে পারে। আর বেশি সংক্রামক হলে ক্ষতি করার সম্ভাবনাও বেড়ে যায়।
তিনি বলেন, বয়স অনুপাতে মৃত্যুর দিকে যদি আমরা দেখি, সবচেয়ে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে ৬১ বছর থেকে ৭০ বছর পর্যন্ত। বিভাগভিত্তিক সবচেয়ে বেশি মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে ঢাকা বিভাগে। এ বিভাগে ১২ হাজার ৪৫১ জনের মৃত্যু হয়েছে। শতকরা হিসাবে সেটি প্রায় ৪৩ দশমিক ৮০ শতাংশের বেশি।
ডা. নাজমুল আরও বলেন, করোনায় আক্রান্ত হয়ে যারা মারা গেছেন, তাদের ভেতরে কারা ভ্যাকসিন পেয়েছেন এবং কারা পাননি সে সম্পর্ক খুঁজে বের করার চেষ্টা অনেকদিন ধরেই চলছে। ১ থেকে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত মোট যে মৃত্যু আমরা দেখেছি, তাতে প্রায় ৭৩ শতাংশ মানুষ ভ্যাকসিন গ্রহণ করেননি এবং মৃত্যুবরণ করেছেন। বাকিরা ভ্যাকসিন পেয়েছেন। প্রথম ডোজের ভ্যাকসিন পেয়েছিলেন ১৮ জন এবং দ্বিতীয় ডোজের ভ্যাকসিন পেয়েছেন ৬১ জন।
দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে রোগী বাড়ছে উল্লেখ করে স্বাস্থ্য অধিদফতরের মুখপাত্র বলেন, হাসপাতালগুলোতে রোগীর সংখ্যা বাড়তে শুরু করেছে। আর রোগীর সংখ্যা যখনই বাড়ে, আইসিইউ, এইচডিইউ এবং অক্সিজেন সরবরাহের ওপরও চাপ সৃষ্টি হয়। আমরা প্রস্তুত আছি। ইতোমধ্যে ১১৯টি হাসপাতালে সেন্ট্রাল অক্সিজেন লাইন স্থাপিত হয়েছে। ২৯ হাজারেরও বেশি অক্সিজেন সিলিন্ডার, ২ হাজারের বেশি হাইফ্লো ন্যাজাল ক্যানুলা এবং ২ হাজার ৩০০টিরও বেশি অক্সিজেন কনসাল্টেটর রোগীদের সেবায় নিয়োজিত আছে। নাজমুল ইসলাম বলেন, আত্মতুষ্টির কোনো সুযোগ নেই। রোগীর সংখ্যা কোনোভাবেই যাতে না বাড়ে সেজন্য স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাসহ দায়িত্বপূর্ণ আচরণ করতে হবে।
মোহাম্মদী নিউজ এজেন্সী নিউজ – ফিচার – ফটো নেটওয়ার্ক

