এমএনএ আন্তর্জাতিক ডেস্ক : করোনার অন্যান্য ধরনের চেয়ে ওমিক্রন আরও বেশি সংক্রামক কিংবা তীব্রতর রোগের জন্য দায়ী কি না; বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) কাছে তা এখনো পরিষ্কার না।সংস্থাটি বলছে, প্রাথমিক উপাত্ত ধারণা দিচ্ছে যে করোনায় আক্রান্ত হয়ে দক্ষিণ আফ্রিকায় হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে। কিন্তু সম্ভবত ওমিক্রনের প্রকোপের চেয়েও সার্বিকভাবে করোনা আক্রান্ত বাড়ার কারণেই এমনটি হয়েছে।-খবর বিবিসি ও আল-জাজিরারকরোনার নতুন ধরন নিয়ন্ত্রণে ফ্লাইট নিষেধাজ্ঞা আরোপ না করে, বিজ্ঞানকে অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার আফ্রিকা অঞ্চলের প্রধান ম্যাটশিডিসো মোইতি।তিনি বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে ওমিক্রন ধরনের সংক্রমণ ধরা পড়ছে। কিন্তু আফ্রিকাকে নিশানা করে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপে বিভিন্ন দেশের পারস্পরিক নির্ভরতাকেই ক্ষতিগ্রস্ত করবে।
এদিকে দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে দুটি ফ্লাইটে নেদারল্যান্ডসের রাজধানী আমস্টারডামে যাওয়া ১৩ যাত্রী করোনার ওমিক্রন ধরনে আক্রান্ত হয়েছেন।গত শুক্রবার দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে নেদারল্যান্ডসে নামা দুটি ফ্লাইটের ৬০০ যাত্রীর মধ্যে ৬১ জনের করোনা পজিটিভ এসেছে। যাদের মধ্যে এই ১৩ জনের ওমিক্রন সংক্রমণ ধরা পড়েছে।দেশটিতে করোনার নতুন ধরন নিয়ে উদ্বেগের পাশাপাশি কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। নেদারল্যান্ডসে করোনা সংক্রমণ রেকর্ড ছুঁয়েছে। আতিথেয়তা ও সাংস্কৃতিক ভেন্যুগুলো আগেভাগে বন্ধ করে দেওয়াসহ বাড়িতে জমায়েত সীমিত করে দেওয়া হয়েছে।
ডাচ স্বাস্থ্যমন্ত্রী হুগো ডি জঙ্গে দক্ষিণ আফ্রিকা ফেরত মানুষজনকে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব কোভিড পরীক্ষা করার অনুরোধ জানিয়েছেন। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, নেদারল্যান্ডসে এমন শনাক্ত আরও অনেকেই থাকার বিষয়টি অচিন্তনীয় নয়।দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রথম করোনাভাইরাসের ওমিক্রন ধরন শনাক্ত হয়। এরপর তা বিশ্বের কয়েকটি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। সবশেষ যুক্তরাজ্য, জার্মানি, ইতালি এবং অস্ট্রেলিয়ায় নতুন ধরনটি শনাক্ত হয়েছে।এদিকে দক্ষিণ আফ্রিকার মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান অ্যাঞ্জেলিক কোয়েটজি বলেছেন, করোনার নতুন ধরন ওমিক্রনে আক্রান্ত হওয়া তার কয়েক ডজন রোগীর শরীরে মৃদু উপসর্গ দেখা গেছে। হাসপাতালে ভর্তি হয়ে কোনো ধরনের চিকিৎসা ছাড়াই তারা পুরোপুরি সুস্থ হয়ে ওঠেছেন।
মহামারি করোনার নতুন ধরনটি নিয়ে এর আগে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন। রোববার (২৯ নভেম্বর) ফরাসি বার্তা সংস্থা সংস্থা এএফপিকে বলেন, গেল ১০ দিনে তার কাছে প্রায় ৩০ জনের মতো রোগী এসেছিলেন। তারা সবাই করোনা পজিটিভ ছিলেন। কিন্তু এসব রোগীর উপসর্গ ছিল অপরিচিত।প্রিটোরিয়া থেকে তিনি বলেন, এই রোগীদের শরীরে অতিরিক্ত ক্লান্তি ভর করেছিল। যে কারণে তারা চিকিৎসকের শরণাপন্ন হয়েছেন। তরুণ রোগীদের ক্ষেত্রে যা একেবারে অদ্ভুত।রোগীদের অধিকাংশই ছিলেন পুরুষ, যাদের বয়স চল্লিশের নিচে। তাদের অর্ধেকের করোনার টিকা নেওয়া ছিল। অ্যাঞ্জেলিক কোয়েটজি বলেন, তাদের মংসপেশীতে হালকা ব্যথা, গলায় চুলকানি ও শুকনো কাশি ছিল। রোগীদের মাত্র অল্প-কয়েকজনের তাপমাত্রা কিছুটা বেশি ছিল।
তবে অন্য ধরনের চেয়ে এই মৃদু উপসর্গের ভিন্নতা রয়েছে। মহামারির অন্যান্য ধরনে আক্রান্ত হলে যেখানে তীব্র উপসর্গ দেখা দেয়।দক্ষিণ আফ্রিকার এই চিকিৎসক বলেন, এটি দুর্ভাগ্যজনক যে ওমিক্রনকে একাধিক মিউটেশনসহ বিপজ্জনক ভাইরাস হিসেবে প্রচারে বাড়াবাড়ি করা হয়েছে। যেখানে এ ভাইরাসের প্রকোপ সক্ষমতাও অজানা।নতুন এই ভ্যারিয়েন্ট এরইমধ্যে বিশ্বজুড়ে হুলুস্থুল ফেলে দিয়েছে; ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ভারতসহ বিভিন্ন দেশে সীমান্তে কড়াকড়ি আরোপ করেছে।গবেষকরা করোনাভাইরাসের এ ভ্যারিয়েন্টকে চিহ্নিত করছেন বি.১.১.৫২৯ নামে। তবে আলোচনার সুবিধার জন্য শুক্রবার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এর নাম দিয়েছে ওমিক্রন। একে ভ্যারিয়েন্ট অব কনসার্ন বা উদ্বেগজনক ভ্যারিয়েন্ট শ্রেণিতে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।
মোহাম্মদী নিউজ এজেন্সী নিউজ – ফিচার – ফটো নেটওয়ার্ক

