অর্থনৈতিক প্রতিবেদক
কম রাজস্ব আহরণ এবং ব্যাংকিং খাতের সংস্কার ধীরগতির কারণে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) থেকে বাংলাদেশের ঋণের কিস্তি প্রাপ্তি নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। প্রায় ১ দশমিক ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের এই কিস্তি পাওয়ার বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে ঋণ ছাড় নিশ্চিত করতে আইএমএফের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রেখেছে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে সংস্থাটি অতিরিক্ত শর্তযুক্ত নতুন একটি ঋণ কর্মসূচি নিয়েও আলোচনা শুরুর প্রস্তাব দিয়েছে।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) ওয়াশিংটন ডিসি-তে আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংক-এর চলমান বসন্তকালীন বৈঠকে এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। এতে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অংশ নেবেন। বৈঠক শেষে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাবেন অর্থমন্ত্রী।
বর্তমানে ৫ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারের চলমান ঋণ কর্মসূচির আওতায় চলতি অর্থবছরের জুনের মধ্যে ১ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার পাওয়ার আশা করছে বাংলাদেশ। কিন্তু সংস্কার কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আইএমএফের উদ্বেগের কারণে এই অর্থ ছাড় অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। সংস্থাটি স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় সংস্কার দ্রুত বাস্তবায়ন না হলে ভবিষ্যৎ অর্থ ছাড় নির্ভর করবে না।
বসন্তকালীন বৈঠকে আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশকে জানিয়েছে, কাঙ্ক্ষিত সহায়তা পেতে হলে রাজস্ব আহরণ বাড়ানো এবং ব্যাংকিং খাতে কাঠামোগত সংস্কার জোরদার করতে হবে। যদিও অর্থমন্ত্রীর দাবি, আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থাগুলো বাংলাদেশের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব বজায় রেখেছে।
এদিকে, আইএমএফের এশিয়া ও প্যাসিফিক অঞ্চলের পরিচালক কৃষ্ণা শ্রীনিবাসন জানিয়েছেন, বাংলাদেশ সংস্কার কার্যক্রম কতটা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করছে, সেটিই ভবিষ্যৎ অর্থ ছাড়ের মূল নির্ধারক হবে।
সম্প্রতি সংসদে পাস হওয়া ব্যাংক রেজল্যুশন আইনে ১৮ক ধারা যুক্ত করে সমস্যাগ্রস্ত ব্যাংকের পুরনো মালিকদের পুনরায় ফিরে আসার সুযোগ দেওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আইএমএফ। এছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত ব্যাংকের আমানতকারীদের ক্ষতিপূরণ দিতে সরকারি বাজেটের অর্থ ব্যবহারের পরিকল্পনাও সমালোচনা করেছে সংস্থাটি। তাদের মতে, এ ধরনের ক্ষেত্রে ডিপোজিট ইন্স্যুরেন্স স্কিম বা বিকল্প প্রক্রিয়া ব্যবহার করা উচিত।
আইএমএফের কঠোর অবস্থানের প্রেক্ষিতে ওয়াশিংটনে অবস্থানরত বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল তুলনামূলক সহজ শর্তে অতিরিক্ত অর্থায়নের সম্ভাবনা নিয়েও বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে আলোচনা চালাচ্ছে।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে তৎকালীন শেখ হাসিনা সরকারের সময় আইএমএফের সঙ্গে ৪ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলারের ঋণচুক্তি করে বাংলাদেশ। পরে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে ঋণের পরিমাণ আরও ৮০০ মিলিয়ন ডলার বাড়িয়ে মোট ৫ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করা হয়। এর মধ্যে ইতোমধ্যে ৩ দশমিক ৬৪ বিলিয়ন ডলার ছাড় করেছে আইএমএফ।
গত ডিসেম্বরে একটি কিস্তি ছাড় হওয়ার কথা থাকলেও রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে আলোচনা না হওয়ার কারণে তা স্থগিত রাখা হয়। ওই কিস্তি এবং জুন মাসের কিস্তি মিলিয়ে মোট ১ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার জুনেই পাওয়ার আশা করেছিল বাংলাদেশ, যা এখন অনিশ্চয়তার মুখে।
এছাড়া ওয়াশিংটনে অবস্থানকালে অর্থমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুরের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। সেখানে দুই দেশের বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।
সব মিলিয়ে, আইএমএফের ঋণ কিস্তি পেতে বাংলাদেশের জন্য এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে দ্রুত ও কার্যকর অর্থনৈতিক সংস্কার বাস্তবায়ন।
মোহাম্মদী নিউজ এজেন্সী নিউজ – ফিচার – ফটো নেটওয়ার্ক

