Don't Miss
Home / হোম স্লাইডার / করোনা মহামারিতে সরকার ঘোষিত প্রণোদনায় ৭২ শতাংশ প্রতিষ্ঠানই বঞ্চিত
প্রণোদনা

করোনা মহামারিতে সরকার ঘোষিত প্রণোদনায় ৭২ শতাংশ প্রতিষ্ঠানই বঞ্চিত

এমএনএ অর্থনীতি ডেস্কঃ করোনার সংকট মোকাবিলায় সরকার-ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজের টাকা পেয়েছে মাত্র ১৯ শতাংশ প্রতিষ্ঠান। এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছে ৭২ শতাংশ প্রতিষ্ঠান। বাকি ৯ শতাংশ প্রতিষ্ঠানের মালিকেরা প্যাকেজ সম্পর্কে পর্যাপ্ত তথ্যই জানেন না।

শনিবার (৭ নভেম্বর) বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিংয়ের (সানেম) ‘কোভিড-১৯ ও ব্যবসায় আস্থা: অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের পথে’ শীর্ষক এক জরিপে এ চিত্র উঠে এসেছে। জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে ব্যবসা-বাণিজ্য কেমন ছিল, তা নিয়ে ৫০২টি প্রতিষ্ঠানের ওপর এ জরিপ করা হয়। এশিয়া ফাউন্ডেশনের সহায়তায় এ জরিপ করা হয়। এর আগে এপ্রিল-জুনের পরিস্থিতি নিয়ে এমন আরেকটি জরিপ করা হয়েছিল।

কোভিড-১৯ মহামারির প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের আস্থা ও প্রত্যাশার ওপরে সানেম ও দ্য এশিয়া ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত দ্বিতীয় পর্যায়ের জরিপের ফলাফল শনিবার (৭ নভেম্বর) তারিখে একটি ওয়েবিনারে উপস্থাপন করা হয়। এ বছরের জুলাই মাসে পরিচালিত এ জরিপের প্রথম পর্যায়ে ৩০৩টি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করেছে।

অক্টোবরে পরিচালিত এ জরিপের দ্বিতীয় পর্যায়ে ৫০২ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ওপরে এ জরিপটি পরিচালিত হয়েছে। “কোভিড নাইনটিন এন্ড বিজনেস কনফিডেন্স: টুওয়ার্ডস ইকোনমিক রিকোভারি” শীর্ষক এই ওয়েবিনারে জরিপের ফলাফল উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক এবং সানেমের নির্বাহী পরিচালক ড. সেলিম রায়হান।

বিশেষজ্ঞ আলোচক হিসেবে ওয়েবিনারে উপস্থিত ছিলেন পলিসি রিসার্চ ইন্সটিটিউট অফ বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর, এ. কে. খান টেলিকম লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবুল কাশেম খান, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ এর চেয়ারম্যান আসিফ ইব্রাহিম, সহজ লিমিটেডের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক মালিহা কাদির এবং পলিসি এক্সচেঞ্জ অফ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ড. এম মাসরুর রিয়াজ। ওয়েবিনারে দ্য এশিয়া ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে প্রতিনিধিত্ব করেন ফাউন্ডেশনের বাংলাদেশ প্রতিনিধি কাজী ফয়সাল বিন সিরাজ। প্রায় ৬০ জন গবেষক, অর্থনীতিবিদ, বিশেষজ্ঞ, ব্যবসায়ী, সাংবাদিক, উন্নয়ন কর্মী ও শিক্ষার্থী এই ওয়েবিনারে সংযুক্ত হন।

জরিপের ফলাফল উপস্থাপনে ড. সেলিম রায়হান দ্বিতীয় পর্যায়ের জরিপ সম্পর্কে ধারণা দেন। তিনি জরিপ পদ্ধতিটিও বিস্তারিত ব্যাখ্যা করেন। বাংলাদেশের ৮টি বিভাগের ৩৭টি জেলার মোট ৫০২টি ক্ষুদ্র, ছোট, মাঝারি ও বড় ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান এই জরিপে অংশ নিয়েছে। এর মধ্যে ২৫২টি উৎপাদন খাতের এবং ২৫০টি সেবা খাতের প্রতিষ্ঠান অন্তর্ভুক্ত ছিল। অক্টোবরের ১৩ থেকে ২৫ তারিখের মধ্যে এই ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর শীর্ষ পদাধিকারীদের সাথে ফোনালাপের মাধ্যমে এই জরিপ পরিচালনা করা হয়।
জরিপে দেখা গেছে, বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের হার তুলনামূলকভাবে মাঝারি ও ছোট প্রতিষ্ঠানগুলোর চেয়ে বেশি এবং তৈরি পোশাক, টেক্সটাইল, ঔষধ, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, রেস্টুরেন্ট, পাইকারি ব্যবসা, আইসিটি ও আর্থিক খাতের প্রতিষ্ঠানগুলো অপেক্ষাকৃত দ্রুততার সাথে এই পুনরুদ্ধার অর্জনে সক্ষম হচ্ছে।

জরিপে অংশগ্রহণকারীদের তাদের প্রতিষ্ঠানের মুনাফা করার ক্ষমতা, বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান, আয়, ব্যবসার খরচ এবং বিক্রি বা রপ্তানি নিয়ে প্রশ্ন করা হয়। উত্তর ০-১০০র একটি মানদণ্ডে পরিমাপ করা হয়েছে, যেখানে ০ মানে খুব খারাপ, ২৫ মানে খারাপ, ৫০ মানে কোনো পরিবর্তন নেই, ৭৫ মানে ভালো এবং ১০০ মানে খুব ভালো।
জরিপের উত্তরের ওপর ভিত্তি করে সানেম তিনটি সূচকের মাধ্যমে তাদের গবেষণাপত্রটি উপস্থাপন করেছে —প্রেজেন্ট বিজনেস স্ট্যাটাস ইনডেক্স বা পিবিএসআই (বার্ষিক), প্রেজেন্ট বিজনেস স্ট্যাটাস ইনডেক্স বা পিবিএসআই (ত্রৈমাসিক) এবং বিজনেস কনফিডেন্স ইনডেক্স (পরবর্তী তিন মাস)। এর মধ্যে পিবিএসআই (বার্ষিক) এর মাধ্যমে গত বছরের জুলাই-সেপ্টেম্বরের সাথে এ বছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর পর্যায়ে ব্যবসার অবস্থার তুলনা করা হয়। পিবিএসআই (ত্রৈমাসিক) এই বছরের জুলাই- সেপ্টেম্বরের সাথে এই বছরের এপ্রিল- জুনের ব্যবসার অবস্থার তুলনা করা হয়।

অন্যদিকে, বিজনেস কনফিডেন্স ইনডেক্স বা বিসিআই এ বছরের জুলাই-সেপ্টেম্বরের তুলনায় অক্টোবর-ডিসেম্বেরর ব্যবসায় আস্থা তুলনা করে। প্রতিটি সূচকই ০-১০০র মধ্যে মূল্যায়ন করা হয়। এক্ষেত্রে, ৫০ এর বেশি মানে অবস্থার উন্নতি হচ্ছে, ৫০ এর নিচে মানে অবস্থার অবনতি হচ্ছে।

জরিপে দেখা যায়- এপ্রিল-জুন ২০২০ এর তুলনায় জুলাই-সেপ্টেম্বর ২০২০ এর সার্বিক ব্যবসা পরিস্থিতির বেশ কিছু ক্ষেত্রে দৃশ্যমান উন্নতি দেখা গিয়েছে যদিও ২০১৯ এর একই চতুর্ভাগের (জুলাই-সেপ্টেম্বর) তুলনায় সেটা ধীরগতির।

বিভিন্ন খাতের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের গতির মাঝে পার্থক্য দেখা গিয়েছে। তৈরি পোশাক, টেক্সটাইল, ঔষধ, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, খুচরা ব্যবসা, রেস্টুরেন্ট, আইসিটি ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রে যেখানে দ্রুতগতির পুনরূদ্ধার দেখা গিয়েছে সেখানে চামড়া, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং, পাইকারি ব্যবসা, পরিবহন ও আবাসিক খাতের পুনরুদ্ধার অপেক্ষাকৃত ধীরগতির।

এপ্রিল-জুনের তুলনার জুলাই-সেপ্টেম্বরের বিসিআই সূচকের কিছু ক্ষেত্রে উন্নতির ধারা দেখালেও সামগ্রিকভাবে এই সূচকের অবস্থান এখনো নিচের দিকেই। ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের বিভাগীয় স্তরে উন্নতির সূচক দেখালেও চামড়া শিল্পে ব্যবসায় আস্থার সূচক এখনো ৫০ এর নিচে যেখানে বাকি খাতগুলোর অবস্থান ৫০ থেকে ৬০ এর মাঝে।

জরিপে অংশগ্রহণকৃত ৭২ শতাংশ প্রতিষ্ঠান এখনো কোন প্রণোদনা প্যাকেজ পায়নি। এই জরিপের প্রথম পর্যায়ে প্রণোদনা প্যাকেজ না পাওয়ার পেছনে মূলত যে কারণগুলো দায়ী ছিল যেমন কিছু খাতের জন্য প্রণোদনা প্যাকেজ বিদ্যমান না থাকা, অপেক্ষাকৃত লম্বা প্রক্রিয়া ও দীর্ঘসূত্রিতা, ব্যাংক সংক্রান্ত সেবা ও পর্যাপ্ত তথ্যের অভাব সেগুলোতে দ্বিতীয় পর্যায়েও কোন উন্নতি দেখা যায়নি।

প্রণোদনা প্যাকেজ পাওয়ার হার অনেক কম। জরিপের ৩০১টি অতিক্ষুদ্র ও ক্ষুদ্র ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে মাত্র ৮ শতাংশ প্রতিষ্ঠান প্রণোদনা প্যাকেজের সুবিধা পেয়েছে যেখানে জরিপের ১৫৭টি বড় প্রতিষ্ঠানের মধ্য প্রণোদনা প্যাকেজ পাওয়ার হার ৪১ শতাংশ। ৪৪টি মাঝারি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ২০% প্রণোদনা প্যাকেজ পেয়েছে।

জরিপের প্রথম পর্যায়ের মতোই ব্যবসা সংক্রান্ত খরচ হ্রাসের ক্ষেত্রে কোন বড় ধরণের উন্নতি দেখা যায়নি বরং জরিপের দ্বিতীয় পর্যায়ে এসে ব্যবসা সংক্রান্ত খরচ বৃদ্ধি পেয়েছে। দুর্নীতি, দুর্বল ট্রেড লজিস্টিক, অসঙ্গতিপূর্ণ কর ব্যবস্থা, ব্যবসায় অর্থায়নের অভাব, স্বাস্থ্যখাতে কোভিড-১৯ জনিত দুর্বল ব্যবস্থাপনাই এর পিছনে মূলত দায়ী।

জরিপের ৭১ শতাংশ প্রতিষ্ঠান মনে করছে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের পথে আছে, যেখানে ৬ শতাংশ ব্যবসায়ী ভাবছে এই পুনরুদ্ধার হবে শক্তিশালী। অন্যদিকে মাঝারি ও দুর্বল পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়ার পথে আছে বাংলাদেশ, এরকম ভাবছেন যথাক্রমে ৫৭ শতাংশ ও ৩৭ শতাংশ ব্যবসায়ী।

ড. রায়হান গবেষণাপত্রের উপস্থাপনে বলেন, প্রণোদনা প্যাকেজ এর কার্যকরী বাস্তবায়ন ও সঠিক মূল্যায়ন ব্যবস্থা সামগ্রিক অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। দ্বিতীয় পর্যায়ের জরিপে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে দেখা গিয়েছে মাত্র ১৯% প্রতিষ্ঠান প্রণোদনা প্যাকেজ এর সাহায্য নিয়েছে যা প্রথম পর্যায়ে জরিপে অংশ নেয়া প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে প্রায় ১৪ শতাংশ কম। অন্যদিকে প্রথমবারের ৫৫% প্রতিষ্ঠান যেখানে সাহায্য নেয় নি, সেখানে এবার এর সংখ্যা প্রায় ৭২%।

জরিপে অংশগ্রহণকারীদের কাছ থেকে গতবারের মতোই দেশের ব্যবসার পরিস্থিতি সংক্রান্ত সূচকগুলো সম্পর্কেও প্রশ্ন করা হয়েছে যেখানেও তেমন কোন ইতিবাচক চিত্রই নজরে আসেনি। জরিপের অংশগ্রহণকারীরা বাণিজ্যের কাঠামোগত সমস্যা (বন্দর এবং কাস্টমস), অপ্রতুল সরকারি সাহায্য, কর ব্যবস্থায় সমস্যা, আর্থিক সেবা প্রাপ্তিতে সমস্যা, ব্যবসা বা সম্পত্তি রেজিস্ট্রেশনে জটিলতা, পরিবহনের অবস্থা, দক্ষ শ্রমিকের অভাব এবং বিদ্যুত সংযোগ প্রাপ্তিতে সমস্যা-কে ব্যবসায় বাধা হিসেবে যেখানে চিহ্নিত করা হয়েছিল প্রথম পর্যায়ে, জরিপের দ্বিতীয় পর্যায়ে এসেও পরিবর্তন আসেনি এসব চিত্রে।

ড. রায়হান বলেন এসকল ক্ষেত্রে সংস্কার অত্যন্ত দরকারি। এছাড়াও এবারের গবেষণায় যে বিষয়টি নজরে এসেছে সেটি হচ্ছে ব্যবসা সংক্রান্ত খরচের পরিমাণ বৃদ্ধি। পিবিসিআই সূচকে গতবছরের সাথে এ বছরের তুলনায় দেখা গিয়েছে, সবক্ষেত্রেই কিছু উন্নতি দেখা গেলেও ব্যবসা সংক্রান্ত খরচে সেটি বিপরীত চিত্র প্রদর্শন করছে।

প্যানেল আলোচনায়, ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, এই জরিপের যে ফলাফল উঠে এসেছে সেটি আমাদের করোনার কারণে পরিবর্তিত বাজার ব্যবস্থার নীতি প্রণয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তিনি উল্লেখ করেন, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের অর্থায়নের ক্ষেত্রে ব্যাংকের ভূমিকার পরিবর্তন জরুরি। একইসাথে দ্বিতীয় পর্যায়ের প্রণোদনা প্যাকেজ প্রদানের প্রয়োজনীয়তার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

ড. মনসুর বলেন, দ্বিতীয় পর্যায়ের প্রণোদনা হতে হবে সুনির্দিষ্ট খাত ভিত্তিক, যেখানে অগ্রাধিকার দিতে হবে ক্ষুদ্র ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানদের।

তিনি বলেন, ব্যাংকের অর্থায়নের ক্ষেত্রে বর্তমানে তারল্য সংকট নেই কিন্তু বিভিন্ন জরিপের থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী মাত্র ৫০ শতাংশ প্রণোদনা প্যাকেজের টাকা বাজারে ছাড়া হয়েছে। তিনি আরও জানান, বাংলাদেশ পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়ায় ভারতসহ অন্যান্য অনেক দেশের থেকে ভালো করলেও তা সরকারের বর্তমান প্রত্যাশিত প্রবৃদ্ধির তুলনায় যথেষ্ট নয়।

আলোচনায় পরবর্তীতে আবুল কাশেম খান তুলে ধরেন ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের বর্তমান প্রতিকূল অবস্থা এবং একই সাথে এই ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো কেন প্রণোদনা প্যাকেজের সর্বোচ্চ সুবিধা নিতে পারছে না সে ব্যাপারে তিনি প্রশ্ন করেন। বিশেষত প্রয়োজনের সময় প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যাংক থেকে অর্থ সাহায্য নিতে পেরেছে কিনা এবং এই প্রতিষ্ঠানগুলোর দাবি সম্পর্কে নীতি নির্ধারকেরা যথেষ্ট পরিমাণ অবগত কিনা সে ব্যাপারে প্রশ্ন রেখেছেন। তিনি প্রণোদনা প্যাকজের বাস্তবায়ন পর্যালোচনা এবং প্রণোদনা প্যাকেজের বর্ধিতায়নের দাবি জানান। বিশেষত ক্ষুদ্র ও মাঝারি প্রতিষ্ঠানগুলোর ট্রেড লাইসেন্স প্রাপ্তিতে পদ্ধতিগত জটিলতা ও দীর্ঘসূত্রিতা দূর করার আহবান জানান।

আসিফ ইব্রাহীম তার বক্তব্যে করোনার সময়ে সার্বিক অর্থনীতির ডিজিটালাইজেশনের ওপর গুএউত্ব দেন। পাশাপাশি ট্রেড লাইসেন্সের প্রয়োজনীয়তার ব্যাপারে পূর্বের বক্তাদের বক্তব্যের সাথে সমর্থন প্রদান করেন। ক্ষুদ্র ও মাঝারি প্রতিষ্ঠানের ওপর পরিপূর্ণ তথ্যভান্ডার তৈরির আহবান জানান তিনি। এ বিষয়ে এসএমই ফাউন্ডেশনসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে অগ্রণী ভূমিকা রাখতে হবে বলে তুইনি মনে করেন।

সহজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মালিহা এম কাদির জানান স্টার্টআপ খাত পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়ায় রয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন করোনার দ্বিতীয় ঢেউ শুরু না হলে আগামী ডিসেম্বর নাগাদ এ খাত অনেকখানি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরবে। করোনার সময়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অর্থনীতির বিভিন্ন খাতের যে ডিজিটাইজেশন হয়েছে, সে তুলনায় এ সময়ে বাংলাদেশের অর্থনীতির বিভিন্ন খাতের ডিজিটাইজেশন তেমন হয় নি বলে মনে করেন তিনি। স্টার্টআপের জন্য কোন প্রণোদনা সহযোগিতা ছিল না বলেও তিনি উল্লেখ করেন। করোনার সময়ে স্টার্টআপগুলি ভেঞ্চার ক্যাপিটালের ক্ষেত্রেও সমস্যা মোকাবিলা করছে বলে তিনি জানান।

ড. এম মাসরুর রিয়াজন এই দুর্যোগকালীন সময়েও বিভিন্ন ভাবে যে সমস্ত উদ্যোগ নেয়া হয়েছে যেমন অর্থায়নের ক্ষেত্রে আধুনিকীকরণ, ক্রেডিট গ্যারান্টি স্কিমের প্রচলন এবং বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেন ব্যবস্থার ক্ষেত্রে উদ্যোগ গ্রহণ ইত্যাদির জন্য সরকারকে সাধুবাদ জানান। ড. রিয়াজ গ্রামীন অর্থনীতিকে আরও সচল করার প্রতি গুরুত্ব দেন। এ ক্ষেত্রে গ্রামীণ অর্থনীতিতে সরকারি ব্যয় বৃদ্ধি এবং গ্রামের ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পে নীতি সহায়তা প্রদানের কথা বলেন। একইসাথে বিভিন্ন খাতের ছোট প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য ব্যবসার নিয়ম কানুন সহজ করার ওপর তিনি গুরুত্ব দেন। বৈদেশিক বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সরকারকে চিরাচরিত পর্যায়ের বাইরে এসে নতুন কিছু পরিকল্পনা এবং কৌশলের অবলম্বন নেয়া উচিত বলে তিনি মনে করেন।

কাজী ফয়সাল বিন সিরাজ বলেন, বাংলাদেশের উদ্যোক্তারা যে অদম্য তার প্রমাণ আরেকবার পাওয়া গিয়েছে করোনাকালীন সময়ে তাদের টিকে থাকার মানসিকতার ওপর। বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের এ উদ্যমী মনোভাব করোনার প্রতিঘাত মোকাবেলায় বাংলাদেশকে অনেকখানি সহযোগিতা করেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

x

Check Also

বাজেটে ব্যবসায়ীদের ওপর বাড়তি চাপ আসছে না: বাণিজ্যমন্ত্রী

এমএনএ প্রতিবেদক আসন্ন ২০২৬–২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে দেশের ব্যবসায়ীদের ওপর কোনো অতিরিক্ত চাপ বা নেতিবাচক ...