Don't Miss
Home / অর্থনীতি / করোনা মোকাবিলায় বাংলাদেশে বরাদ্দ এশিয়ার দেশগুলোর তুলনায় কম
করোনা ভাইরাসের

করোনা মোকাবিলায় বাংলাদেশে বরাদ্দ এশিয়ার দেশগুলোর তুলনায় কম

এমএনএ অর্থনীতি ডেস্কঃ করোনা ভাইরাসের প্রভাবে চলতি বছর এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে শ্রমজীবীদের কর্মহীন হওয়ার তালিকা বেশ লম্বা হয়েছে। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছর এ অঞ্চলের দেশগুলোতে কর্মহীন হয়েছে ৮ কোটি ১০ লাখ মানুষ। অন্যদিকে যারা কাজের মধ্যে রয়েছে, কর্মঘণ্টা কমে যাওয়াসহ সার্বিকভাবে আয় কমে যাওয়ায় এই অঞ্চলের ঐসব শ্রমিকেরও প্রায় আড়াই কোটি দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে গেছে।

শ্রমবাজার তথা অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে বাংলাদেশ সরকার যে সহায়তা দিয়েছে তা এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের অন্যান্য দেশগুলোর তুলনায় অপ্রতুল বলেও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। এ অঞ্চলের দেশগুলোর নিজ নিজ জিডিপির বিবেচনায় এ হিসাব করা হয়েছে। তাতে দেখা গেছে, এ অঞ্চলের ৩৬টি দেশ ও অঞ্চলের বিবেচনায় বাংলাদেশের করোনা মোকাবিলার সরকারি সহায়তা তলানিতে। বাংলাদেশে এই সহায়তা জিডিপির চার শতাংশের নিচে। এ অঞ্চলের দেশগুলো যে সহায়তা দিয়েছে, তা গড় ছিল জিডিপির প্রায় ১৪ শতাংশ। এ তালিকায় বাংলাদেশের পেছনে রয়েছে কেবল আফগানিস্তান, মালদ্বীপ, ব্রুনাই দারুসসালাম, শ্রীলঙ্কা, সলোমন দ্বীপপুঞ্জ, লাওস ও মিয়ানমার। বাদবাকি সব দেশই জিডিপির হিসাবে বাংলাদেশের চেয়ে বেশি সহায়তা দিয়েছে। নেপাল, ফিলিপাইন, পাকিস্তান কম্বোডিয়া, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়াও বাংলাদেশের চাইতে বেশি হারে সহায়তা দিয়েছে।

‘এশিয়া প্যাসিফিক এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল আউটলুক ২০২০ : নেভিগোটিং দ্য ক্রাইসিস টুওয়ার্ডস আ হিউম্যান সেন্ট্রেড ফিউচার অব ওয়ার্ক’ শীর্ষক ঐ প্রতিবেদন গতকাল বিশ্বব্যাপী একযোগে প্রকাশ করা হয়। প্রতিবেদন প্রকাশের প্রাক্কালে গতকাল ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন আইএলওর এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় আঞ্চলিক অফিসের চিফ ইকোনমিক ইউনিটের প্রতিনিধি সারা এলডার ও চিফ ইকোনমিস্ট ক্রিস্টিন ভিগেলান।

প্রতিবেদনে বলা হয়, এই অঞ্চলের দেশগুলোতে চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল থেকে জুন) কর্মঘণ্টা কমে যায় ১৫ দশমিক ২ শতাংশ এবং তৃতীয় প্রান্তিকে কমে প্রায় ১১ শতাংশ। সবমিলিয়ে এটি বেশি আঘাত করেছে অপেক্ষাকৃত তরুণ ও নারী শ্রমজীজীদের উপর। ফলে বেকারত্বের হার গত বছরের ৪ দশমিক ৪ শতাংশ থেকে চলতি বছর ৫ দশমিক ৭ শতাংশের ঠেকতে পারে। এছাড়া প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি বছরের প্রথম তিন প্রান্তিকে (জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর) সার্বিকভাবে শ্রম আয় ১০ শতাংশ কমেছে, যা এই অঞ্চলের দেশগুলোর জিডিপির (মোট দেশজ উত্পাদন) ৩ শতাংশের সমপরিমাণ ক্ষতি।

অবশ্য প্রতিবেদনে বাংলাদেশে কী পরিমাণ শ্রমিক কর্মহীন কিংবা দরিদ্রের তালিকায় যুক্ত হয়েছে—তার সুস্পষ্ট তথ্য-উপাত্ত দেওয়া হয়নি। তবে প্রতিবেদন বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত বছরের অক্টোবরে এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর যে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ছিল তার তুলনায় চলতি বছরের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির প্রাক্কলনে বাংলাদেশের অবস্থা এশিয়ার দেশগুলোর তুলনায় অপেক্ষাকৃত ভালো। এশিয়ার সবগুলো দেশের প্রবৃদ্ধি ব্যাপকভাবে কমার প্রাক্কলন হলেও গত বছরের চেয়ে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি তেমন কমবে না।

প্রতিবেদনে বলা হয়, এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে গত এক দশকে বাংলাদেশ সবচেয়ে পিছিয়ে রয়েছে। ২০০১ থেকে ২০০৯ সালের তুলনায় পরবর্তী দশকে বাংলাদেশে শ্রমিকের উত্পাদনশীলতা না বেড়ে উলটো কমেছে।

x

Check Also

বাজেটে ব্যবসায়ীদের ওপর বাড়তি চাপ আসছে না: বাণিজ্যমন্ত্রী

এমএনএ প্রতিবেদক আসন্ন ২০২৬–২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে দেশের ব্যবসায়ীদের ওপর কোনো অতিরিক্ত চাপ বা নেতিবাচক ...