এমএনএ রিপোর্ট : টানা বর্ষণ শেষ হলেও নগরবাসীর দুর্ভোগ শেষ হয়নি। আজ শনিবার রাজধানীতে সামান্য বৃষ্টি হলেও লাগামছাড়া দামে কাঁচামরিচসহ বিভিন্ন সবজির গায়ে যেনো আগুণ লেগেছে। গত কয়েকদিনের টানা বর্ষণে রাজধানীর প্রতিটি কাঁচাবাজারে বেড়েছে শাকসবজির দাম।
রাজধানীর নিউমার্কেট সংলগ্ন বনলতা কাঁচাবাজারে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সবচেয়ে বেশি বেড়েছে কাঁচামরিচের দাম। গত সপ্তাহের চেয়ে কাঁচামরিচ ৬০ থেকে ৮০ টাকা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়াও অন্যান্য সবজির দাম কেজিপ্রতি ২০ থেকে ৩০ টাকা বেড়েছে।
নিউমার্কেটে বাজার করতে আসা সেলিনা হোসেন শেলীর কাছে সবজির বাজারদর সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘প্রত্যেকটি সবজির দাম বেড়েছে। বিশেষ করে কাঁচামরিচের দাম। গত সপ্তাহে কাঁচামরিচ কেজিপ্রতি ছিল ১২০ টাকা। এখন দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৮০ থেকে ২০০ টাকায়। কাঁচামরিচ একটি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, এর দাম এভাবে বাড়তে থাকলে খাবারে ঝালের পরিমাণ কমাতে বাধ্য হতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘কাঁচামরিচের পাশাপাশি ঝিঙা, বেগুন, পেঁপে ও টমেটোর দাম কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা বেড়েছে। মাত্র দুই সপ্তাহের ব্যবধানে কাঁচামরিচের দাম ৭০ থেকে ৮০ টাকা বাড়ল। দুই সপ্তাহ আগে প্রতিকেজি কাঁচামরিচের মূল্য ছিল ৮০ টাকা।’
বাজার ঘুরে বিভিন্ন সবজি বিক্রেতার সঙ্গে কথা বলে সেলিনা হোসেন শেলীর অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। সবজির দাম বাড়ার কারণ সম্পর্কে মোহাম্মদপুরের শিয়া মসজিদ কাঁচাবাজারের সবজিবিক্রেতা মোদাচ্ছের আলী বলেন, ‘বৃষ্টির কারণে রাস্তাঘাট সব বন্ধ ছিল, তাই পণ্য যথাসময়ে বাজারে আসছে না। কারওয়ান বাজার থেকে পাইকারিতে বেশি দামে সবজি কিনতে হচ্ছে। তাই এর প্রভাব খুচরা বাজারে এসে পড়েছে।’
একইভাবে মোহাম্মদপুর টাউন হল, হাতিরপুল, মগবাজার, কাপ্তান বাজার ও পলাশী বাজারসহ রাজধানীর বিভিন্ন খুচরা বাজারে সবজির দাম বেড়েছে। প্রতিকেজি পেঁপে ৪০ থেকে ৫০ টাকা, বেগুন ৭০ থেকে ৮০ টাকা, আলু ২৫ থেকে ৩০ টাকা, টমেটো ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা, ঝিঙা ৭০ থেকে ৮০ টাকা এবং মিষ্টি কুমড়া প্রতিপিস ৮০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এর পাশাপাশি বিভিন্ন শাকের দাম আঁটিতে ৫ থেকে ৬ টাকা বেড়েছে।
বাজার ঘুরে দেখা যায়, পালং শাক ও লালশাক প্রতিআঁটি ২০ টাকা, পুঁইশাক ৩০ টাকা এবং লাউশাক ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
কারওয়ান বাজারে সবজির পাইকারি বাজারে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, প্রায় সব সবজির দাম বেড়েছে। কাঁচামরিচ বিক্রেতা মোহাম্মদ হোসেন বলেন, ‘বৃষ্টিতে অনেক মরিচ নষ্ট হয়ে গেছে। সকাল থেকে কাঁচামরিচের সরবরাহ চাহিদার তুলনায় কম। তাই কাঁচামরিচের দাম বেশি। এই পাইকারি বাজারে আজ শনিবার সকালে প্রতিকেজি কাঁচামরিচ ১২০ থেকে ১৩০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কাঁচামরিচ আসতে থাকে এবং একইসঙ্গে দামও কমতে থাকে। দুপুরের দিকে কারওয়ান বাজারে প্রতিকেজি কাঁচামরিচ ১১০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। ব্যবসায়ীদের মতে, এ দাম কমার প্রভাব রবিবারের খুচরা বাজারে পড়বে।
কারওয়ান বাজারে পাইকারি সবজিবিক্রেতা মজিবর রহমান বলেন, ‘মানিকগঞ্জের সিংগাইর থেকে প্রতি দিন প্রায় তিন ট্রাক সবজি আসে। কিন্তু টানা বৃষ্টির কারণে অনেক সবজি নষ্ট হয়ে গেছে। তাই গত কয়েকদিন যাবত মাত্র এক ট্রাক সবজি আসছে। সরবরাহ কমে যাওয়ায় ফলে সবজির দাম বেড়ে গেছে।’
পাশেই পাইকারি মিষ্টি কুমড়া বিক্রি করছিলেন মিলন মিয়া। মিষ্টি কুমড়ার দাম জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘মিষ্টি কুমড়ার দাম প্রতিপিস ১০ টাকা বেড়েছে।’
এদিকে, ভারত থেকে আমদানি করা পেঁয়াজের দাম বেশি থাকায় দেশি পেঁয়াজের দামও বাড়িয়ে দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। এ কারণে সপ্তাহের ব্যবধানে সব ধরনের পেঁয়াজের দাম কেজিতে ৮ থেকে ১০ টাকা বেড়েছে। গত সপ্তাহে ভারতীয় পেঁয়াজের দাম ছিল কেজিপ্রতি ২৫ থেকে ৩০ টাকা। এখন তা বেড়ে হয়েছে ২৮ থেকে ৩৫ টাকা। দেশি পেঁয়াজের দাম ছিল ৩০ থেকে ৩৫ টাকা; আজ শনিবার তা ৪০ থেকে ৪২ টাকায় বিক্রি হয়েছে।
পেঁয়াজ আমদানিকারক ও শ্যামবাজারের কৃষিপণ্য ব্যবসায়ী সমিতির নেতা মো. আবদুল মাজেদ এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘এক মাস পরে ভারতে নতুন মৌসুমে পেঁয়াজ ওঠার কথা। কিন্তু বন্যার কারণে দেশটিতে অনেক এলাকায় পেঁয়াজ নষ্ট হয়েছে। এ কারণে ভারতে পেঁয়াজের দাম বেড়েছে। যার প্রভাব পড়েছে দেশের বাজারে।’ পাইকারিতে দেশি ও আমদানিকরা সব ধরনের পেঁয়াজের দর কেজিতে ৫ টাকা বেড়েছে বলে জানান তিনি।
অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মধ্যে ইলিশের ভরা মৌসুমে ইলিশের দাম গত সপ্তাহের মতোই আছে। ৫০০ গ্রামের কম ওজনের ইলিশ ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা ও ৭০০ থেকে ৮০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ৭০০ থেকে ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এক কেজি ওজনের প্রতিটি ইলিশ এক হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। চাল, ডাল, তেল, ডিম, মাংসসহ অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম গত সপ্তাহের মতো একই আছে।
মোহাম্মদী নিউজ এজেন্সী নিউজ – ফিচার – ফটো নেটওয়ার্ক

