Don't Miss
Home / ভ্রমণ ও পরিবহন / কাটছে না অকটেন-পেট্রোল সরবরাহে টানাপোড়েন, ভোগান্তিতে যানবাহন চালক, রাইড শেয়ারিং কর্মীরা

কাটছে না অকটেন-পেট্রোল সরবরাহে টানাপোড়েন, ভোগান্তিতে যানবাহন চালক, রাইড শেয়ারিং কর্মীরা

বিশেষ প্রতিবেদক

রাজধানী ঢাকায় জ্বালানি তেল বিশেষ করে অকটেন ও পেট্রোল সরবরাহে টানাপোড়েনের কারণে কয়েকদিন ধরে তীব্র ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ যানবাহন চালক ও রাইড শেয়ারিং কর্মীরা। দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও অনেকেই তেল না পেয়ে খালি হাতে ফিরছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে পাম্পগুলোতে দেখা দিয়েছে অস্বাভাবিক ভিড়, দীর্ঘ যানজট এবং বিশৃঙ্খলা।

সরেজমিনে দেখা যায়, রাজধানীর বাড্ডা, রামপুরা, মগবাজার, মতিঝিল, নীলক্ষেত ও রমনা এলাকার অধিকাংশ ফিলিং স্টেশনে ভোর থেকেই যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হচ্ছে। অনেক পাম্পে “তেল নেই” বা “স্টক শেষ” লেখা সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে রাখা হচ্ছে, তবুও চালকরা পরবর্তী সরবরাহের আশায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করছেন।

বাড্ডার “মক্কা ফিলিং স্টেশন”-এ ৯ ঘণ্টা অপেক্ষার পরও তেল না পেয়ে ফিরে যেতে বাধ্য হন জাহিদুর রহমান নামে এক মোটরসাইকেল ব্যবহারকারী। তিনি জানান, সকালে ৮টায় লাইনে দাঁড়িয়ে দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পর বিকেলের দিকে জানতে পারেন পাম্পে অকটেন ও পেট্রোল শেষ। তার ভাষায়, “লাইনের শেষ প্রান্তে পৌঁছানোর পরই বলা হলো তেল নেই—এটা সবচেয়ে কষ্টকর অভিজ্ঞতা।”

অনেক চালক জানান, তারা পুরো দিনটি মোটরসাইকেল বা গাড়ির ওপর বসেই কাটিয়েছেন, খাবার ও বিশ্রামও সেখানেই সারতে হয়েছে।

ঢাকার রাইড শেয়ারিং চালকরাও সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এই পরিস্থিতিতে। মৎস্য ভবন এলাকার রমনা ফিলিং স্টেশনে রাত ৯টা থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা আব্দুর রাজ্জাক বলেন, জ্বালানি না পেলে তার আয়ের পথ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। তিনি জানান, “একদিকে সংসার চালাতে তেল দরকার, অন্যদিকে তেল পেতে সারারাত অপেক্ষা করতে হচ্ছে।”

অনেক চালক অভিযোগ করেছেন, একবার তেল পেতে তাদের ৬ থেকে ১৪ ঘণ্টা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হচ্ছে, ফলে দিনের আয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।

বিভিন্ন পাম্পে গিয়ে দেখা যায়, গাড়ির লাইন অনেক জায়গায় ১ থেকে ২ কিলোমিটার পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে উত্তর বাড্ডা ও নতুন বাজার এলাকার কিছু পাম্পে যানবাহনের সারি প্রধান সড়ক পর্যন্ত বিস্তৃত হয়ে মারাত্মক যানজট তৈরি করছে।

চালক হামিদুর রহমান বলেন, তিনি রাতে লাইনে দাঁড়িয়ে সকালে তেল পান এবং এরপর অফিস ও পারিবারিক কাজ শুরু করেন। তার ভাষায়, “এটি এখন আমাদের নিত্যদিনের বাস্তবতা হয়ে দাঁড়িয়েছে।”

পাম্প মালিকদের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, মূল সমস্যা সরবরাহ ব্যবস্থায়। ডিপো থেকে প্রয়োজন অনুযায়ী জ্বালানি না আসায় তারা চাহিদা মেটাতে পারছেন না।

বাড্ডার এক পাম্প মালিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, আগে যে পরিমাণ জ্বালানি পাওয়া যেত, বর্তমানে তার তুলনায় অনেক কম আসছে। ফলে কিছু সময়ের মধ্যেই স্টক শেষ হয়ে যাচ্ছে এবং গ্রাহকদের চাপ সামলানো কঠিন হয়ে পড়ছে।

তবে তারা আরও অভিযোগ করেন, অতিরিক্ত ব্যক্তিগতভাবে জ্বালানি মজুত করা এবং অনিয়মও পরিস্থিতিকে আরও জটিল করছে।

সাধারণ চালকদের বড় একটি অভিযোগ হলো “ভিআইপি সুবিধা”। তাদের দাবি, কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি বা বিশেষ পরিচয়ের মানুষ লাইনে না দাঁড়িয়েই দ্রুত তেল নিয়ে চলে যাচ্ছেন।

মগবাজার এলাকার এক বাইকার রাব্বি বলেন, সাধারণ মানুষ ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকলেও কিছু মানুষ অতিরিক্ত অর্থ প্রদান বা পরিচয় ব্যবহার করে দ্রুত সেবা পাচ্ছেন। এর ফলে লাইনে থাকা অন্যান্য চালকদের মধ্যে ক্ষোভ ও উত্তেজনা তৈরি হচ্ছে, যা অনেক ক্ষেত্রে বাগবিতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনাও ঘটাচ্ছে।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) জানিয়েছে, দেশে জ্বালানি সংকট নেই এবং সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। সংস্থাটি আগামী রোববার থেকে অকটেন সরবরাহ প্রায় ২৫ শতাংশ বাড়ানোর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে।

বিপিসির তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের তুলনায় চলতি বছর অকটেন সরবরাহ সামান্য বেড়েছে, তবে এপ্রিল মাসে দৈনিক সরবরাহে কিছুটা হ্রাস দেখা গেছে, যা বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

তীব্র গরম, দীর্ঘ অপেক্ষা এবং অনিশ্চিত সরবরাহের কারণে রাজধানীর সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। অনেকেই জানান, তারা প্রয়োজন ছাড়া বাইক বা গাড়ি বের করা বন্ধ করে দিয়েছেন।

সজীব আহমেদ নামে এক বাইকার বলেন, গত কয়েকদিনে একাধিকবার ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও তেল পাননি। তার ভাষায়, “সরকার বলছে সংকট নেই, কিন্তু বাস্তবে প্রতিটি পাম্পেই লাইন। এই অবস্থার শেষ কোথায়, জানা নেই।”

সরবরাহ বাড়ানোর আশ্বাস থাকলেও মাঠপর্যায়ে পরিস্থিতি এখনো স্বাভাবিক হয়নি। রাজধানীর অধিকাংশ পাম্পেই যানবাহনের দীর্ঘ সারি এবং তেল না পাওয়ার অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।

বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সরবরাহ ব্যবস্থাপনা, নজরদারি এবং বিতরণ প্রক্রিয়ায় সমন্বয় না হলে এই ভোগান্তি আরও দীর্ঘায়িত হতে পারে।

x

Check Also

গণভোটের রায় অস্বীকার করার মধ্য দিয়েই নতুন ফ্যাসিবাদের সূচনা হয়েছে: জামায়াত আমীর

এমএনএ প্রতিবেদক জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, গণভোটের রায় অস্বীকার ...