কানাডায় পুনঃনির্বাচিত হলেন জাস্টিন ট্রুডো
Posted by: News Desk
October 22, 2019
এমএনএ ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক : কানাডার ৪৩তম জাতীয় নির্বাচনে পুনঃনির্বাচিত হয়েছে প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর ক্ষমতাসীন লিবারেল পার্টি। ফলে টানা দ্বিতীয়বারের মতো সরকার গঠন করতে যাচ্ছে তারা। তবে নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় সংখ্যালঘু হিসেবে ক্ষমতায় যেতে হবে লিবারেল পার্টিকে।আর মাত্র ১২টি সিট পেলে একক সংখ্যাগরিষ্ট সরকার গঠন করতে পারতো তারা।
নির্বাচনে ট্রুডোর লিবারেল পার্টি ১৫৬ আসনে জয়লাভ করেছে। মোট ৩৩৮টি আসনের নির্বাচনে সরকার গঠনের জন্য তার দলকে কমপক্ষে ১৭০টি আসনে জয়লাভ করতে হতো। আর মাত্র ১৪ আসনের জন্য লিবারেল পার্টি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। ফলে দ্বিতীয় মেয়াদে ট্রুডোকে গুরুত্বপূর্ণ কোনো আইন পাস করতে বেশ বেগ পেতে হবে।
এই নির্বাচনে ট্রুডোর মূল প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল কনজারভেটিভ পার্টির অ্যান্ড্রু শের। নির্বাচনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে বলে ধারণা করা হলেও প্রথম থেকেই এগিয়ে ছিল লিবারেল পার্টি। ভোটের ফলাফল দেখে জানা যায় লিবারেল পার্টির প্রতিদ্বন্দ্বী কনজারভেটিভ পার্টি পেয়েছে ১২২ আসন। গতবারের নির্বাচনে তারা ৯৫ আসনে জয়ী হয়েছিল।
নির্বাচনের প্রাথমিক ফলাফলের পর মন্ট্রিলে আজ মঙ্গলবার এক প্রতিক্রিয়ায় জাস্টিন ট্রুডো বলেন, ‘এ বিজয় আপনাদের সবার। আপনারা এটা করে দেখিয়েছেন আমার বন্ধুরা। আপনাদের স্বাগত। আপনারা যে সম্মান আমাকে দিয়েছেন এবং যে দায়িত্ব দিয়েছেন, গত চার বছর যেভাবে দায়িত্ব পালন করেছি, আগামী দিনগুলোতে আরো ভালোভাবে আপনাদেরকে নিয়ে দায়িত্ব পালন করতে চাই। আরো সুন্দর ভবিষ্যতের জন্য আমরা সবাই একসাথে কাজ করব, আপনাদের সবাইকে আমার প্রাণঢালা অভিনন্দন এবং ধন্যবাদ।’
বিরোধী কনসারভেটিভ পার্টি ভোটের আগে ট্রুডোর বিরুদ্ধে বড় ধরনের দুটি কেলেঙ্কারির অভিযোগ আনে। ফলে নির্বাচনে ট্রুডোকে বেশ অস্বস্তিতে পড়তে হয়েছে।
চার বছর আগে সত্যিকারের পরিবর্তনের অঙ্গীকার নিয়ে বিশাল এক বিজয়ের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসেন জাস্টিন ট্রুডো। ২০১৫ সালে ট্রুডো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণের সময় তার মন্ত্রিসভায় নারী-পুরুষের সমান অংশগ্রহণের কারণে বিশ্বের সংবাদ মাধ্যমে শিরোনাম হয়েছিলেন। যা তার দলের প্রধান গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য বলে তিনি প্রমাণ করতে চেয়েছিলেন।
‘কারণ এটা ২০১৫ সাল’ স্মিত হেসে এমন মন্তব্য করেছিলেন প্রথমবারের মতো ক্ষমতায় আসা এই প্রধানমন্ত্রী। তার এই তিনটি শব্দ সে সময় সারা বিশ্বে বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছিল।
প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী এবং লিবারেল পার্টির সাবেক নেতা পিয়েরে ট্যুডোর সন্তান জাস্টিন ট্রুডো। বাবার দেখানো পথেই এগিয়ে যাচ্ছেন তিনি। সোমবার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে মন্ট্রিলে ভোট দেন ট্রুডো। গত চারদিন ধরে সারাদেশে নির্বাচনী প্রচারণায় বেশ গতিশীল দেখা গেছে তাকে। অপরদিকে নিজের নির্বাচনী জেলা সাস্কাটচেওয়ানে ভোট দেন শের।
কানাডার নির্বাচনে এবার মোট ৬টি রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করে। মন্ট্রিয়লে নিজের ভোট দেন ট্রুডো। এ বছর কোন দল এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি। গতবারের ক্ষমতাসীন দল লিবারেল পার্টি ‘সংখ্যালঘু সরকার’ গঠন করতে যাচ্ছে। নির্বাচনী সর্বশেষ পাওয়া খবরে এ পর্যন্ত লিবারেল পার্টি পেয়েছে ১৫৬ টি আসন, কনজারভেটিভ পার্টি ১২২ টি , কুবেকুয়া পার্টি ৩২টি, নিউ ডেমোক্রেটিক পার্টি ২৪ টি, গ্রিন পার্টি তিনটি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী একটি আসনে জয় লাভ করেছে।
আয়তনের দিক থেকে কানাডা ৯ হাজার ৯৮৫ মিলিয়ন কিলোমিটার হলেও জনসংখ্যা মাত্র ৩৭ মিলিয়ন। যার রয়েছে ১০ টি প্রভিন্স এবং ৩টি টেরিটরিজ। বহু সংস্কৃতির দেশ হিসেবে পরিচিত কানাডার হাউজ অব কমন্স সংসদের মোট আসন সংখ্যা ৩৩৮টি। এককভাবে কোন সরকার গঠন করলে প্রয়োজন ১৭২টি আসনের।
কানাডার ইমিগ্রেশন সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, প্রতি বছর প্রায় আড়াই লাখ অভিবাসনপ্রত্যাশী পাড়ি দেয় কানাডায়। কানাডার বিচারব্যবস্থা, নির্বাচনী প্রক্রিয়া, শিক্ষা ব্যবস্থা, চিকিৎসা, যোগাযোগ ব্যবস্থা, জীবনের নিরাপত্তা স্থিতিশীলতা ও শক্তিশালী ব্যাংকিং ব্যবস্থা একটি ব্যতিক্রমী গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে বিশ্বের সকলের কাছে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।
হলেন জাস্টিন ট্রুডো কানাডায় পুনঃনির্বাচিত 2019-10-22