Don't Miss
Home / আজকের সংবাদ / কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার–এ ভাষাশহীদদের প্রতি সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা

কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার–এ ভাষাশহীদদের প্রতি সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা

এমএনএ প্রতিবেদক

অমর একুশে ফেব্রুয়ারি ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের প্রথম প্রহরে রাত ১২টা ১ মিনিটে রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন শুরু হয়। রাতভর চলা এই শ্রদ্ধা নিবেদন সাহ্‌রির আগপর্যন্ত অব্যাহত থাকে। সাহ্‌রি শেষে শনিবার সকাল সাড়ে ছয়টায় প্রভাতফেরির মাধ্যমে সর্বস্তরের মানুষের ঢল নামে শহীদ মিনারে।

খালি পায়ে সারিবদ্ধভাবে ফুল হাতে শহীদ মিনারের বেদিতে শ্রদ্ধা জানান বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। অনেকেই একুশের প্রতীক সাদা–কালো পোশাক পরিধান করে উপস্থিত হন। দিনভর ফুলে ফুলে ভরে ওঠে শহীদ মিনারের বেদি। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে বিভিন্ন ভাষার বর্ণমালা হাতে নিয়েও অনেকে অংশ নেন শ্রদ্ধা নিবেদনে।

রাজধানীর মোহাম্মদপুর থেকে বাবা কাউসার আহমেদের সঙ্গে পাঁচ বছর বয়সী রাইয়ান কাউসার শহীদ মিনারে আসে। রাইয়ান জানায়, ভাষাশহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে সে একটি গোলাপ ও একটি রজনীগন্ধা অর্পণ করেছে। একইভাবে পাঁচ বছর বয়সী মীর মানাফ কপালে ও হাতে জাতীয় পতাকা নিয়ে উপস্থিত হয়। সে জানায়, একুশে ফেব্রুয়ারিতে শহীদ মিনারে ফুল দিতে পেরে সে আনন্দিত।

মানাফের বাবা মীর মাশুক বলেন, ভাষার জন্য আত্মত্যাগের ইতিহাস ছেলেকে জানাতে তিনি তাকে শহীদ মিনারে নিয়ে এসেছেন। স্কুলে একুশের তাৎপর্য জানার পর ছেলে বাংলা বর্ণমালা লেখা জামা চেয়েছিল বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

প্রভাতফেরিতে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সরকারি ও বেসরকারি সংস্থা, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠন অংশ নেয়। শ্রদ্ধা নিবেদনকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি, জাতীয়তাবাদী তাঁতীদল কেন্দ্রীয় কমিটি, বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র, বিএনপি ঢাকা মহানগর দক্ষিণ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সলিমুল্লাহ মুসলিম হল, জগন্নাথ হল, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদল, বাসদ (মার্ক্সবাদী) ও সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টসহ আরও অনেকে।

এ ছাড়া বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিত্বও ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। তাঁদের মধ্যে ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নিয়াজ আহমেদ খান, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুস সালাম, জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম, সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন ও সংসদ সদস্য হাবিবুর রশিদ প্রমুখ।

শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতায় দিনভর মুখর ছিল কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ। ভাষার জন্য আত্মত্যাগী শহীদদের স্মরণে নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে পালিত হয় মহান একুশে ফেব্রুয়ারি ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস।

x

Check Also

দীর্ঘ ২৫ বছরেও শেষ হয়নি রমনা বটমূলের বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে হামলা মামলার বিচার

বিশেষ প্রতিবেদন বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপনে যখন সারাদেশে আনন্দ-উচ্ছ্বাস বিরাজ করছে, তখনও অনেকের মনে ফিরে ...