এমএনএ প্রতিবেদক
ঢাকার উপকণ্ঠ কেরানীগঞ্জ-এর কদমতলীতে একটি গ্যাস লাইটার তৈরির কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (৪ এপ্রিল) দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে তিনজন নারী বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এ ঘটনায় ফায়ার সার্ভিস পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। সংস্থাটির অপারেশনস ও মেইনটেন্যান্স বিভাগের পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মাহমুদুল হাসানকে প্রধান করে গঠিত এ কমিটিকে সাত কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সূত্রে জানা গেছে, দুপুর ১টা ১৩ মিনিটে আগুন লাগার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার ও অগ্নিনির্বাপণ কাজ শুরু করে সংস্থাটির একাধিক ইউনিট। আগুনের তীব্রতা বিবেচনায় মোট সাতটি ইউনিট কাজ করে। প্রায় দেড় ঘণ্টার চেষ্টায় বেলা আড়াইটার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে এবং বিকেল পৌনে পাঁচটার দিকে সম্পূর্ণ নেভানো হয়।
আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পর ধ্বংসস্তূপ থেকে পাঁচজনের দগ্ধ মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মরদেহগুলো এতটাই পুড়ে গেছে যে অধিকাংশের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। এ পর্যন্ত একজনের পরিচয় নিশ্চিত করা গেছে—মিম আক্তার পাখি (১৮)।
পুলিশ জানায়, নিহতদের মধ্যে তিনজন নারী। বাকি মরদেহগুলোর পরিচয় শনাক্তে প্রযুক্তির সহায়তা নেওয়া হচ্ছে।
অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধ হয়ে অন্তত দুইজন হাসপাতালে ভর্তি আছেন। তাঁদের মধ্যে মো. জিসান (১৮) গুরুতর অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এর বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন; তার শরীরের প্রায় ২২ শতাংশ পুড়ে গেছে। অন্যদিকে, মো. আসিফ (১৪) জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট-এ চিকিৎসাধীন, যার শরীরের প্রায় ১৫ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে।
ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, অগ্নিকাণ্ডের কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানা যাবে। উদ্ধার অভিযান শেষে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ঘটনাটি শিল্পকারখানার নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
মোহাম্মদী নিউজ এজেন্সী নিউজ – ফিচার – ফটো নেটওয়ার্ক

