এমএনএ স্পোর্টস ডেস্ক : অধিনায়ক বিরাট কোহলির সেঞ্চুরিতে পঞ্চম ও শেষ ওয়ানডেতে স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৮ উইকেটে হারিয়েছে সফরকারী ভারত। ফলে পাঁচ ম্যাচে সিরিজ ৩-১ ব্যবধানে জিতে নিলো টিম ইন্ডিয়া। এই নিয়ে ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে টানা সাতটি ওয়ানডে সিরিজ জিতলো ভারত। ২০০৬ সালে ভারতের বিপক্ষে সর্বশেষ ওয়ানডে সিরিজ জিতেছিলো ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
জ্যামাইকায় সিরিজের পঞ্চম ও শেষ ম্যাচে টস জিতে প্রথমে ব্যাটিং বেছে নেয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। উদ্বোধণী জুটিতে ৩৯ রানের শুরুতে ৯ রান অবদান রেখে ফিরে যান ওপেনার এভিন লুইস।
এরপর ৩৭ রানের জুটি গড়েন আরেক দুই ভাই ওপেনার কাইল হোপ ও সাই হোপ। ৪৬ রানে থাকা কাইলকে ফিরিয়ে ভারতকে খেলায় ফেরান পেসার উমেশ যাদব। নিজের পরের ডেলিভারিতে আবারো উইকেট নেন উমেশ। রোস্টন চেজকে শুন্য হাতে বিদায় দেন তিনি।
৭৬ রানে ৩ উইকেট হারানো ওয়েস্ট ইন্ডিজকে সামনে এগিয়ে নেয়ার সাহস দেখান সাই হোপ ও জেসন মোহাম্মদ। ধীরলয়ে খেলে ৩৯ রান যোগ করেন তারা। এতে রান তোলার গতিও কমে যায় ক্যারিবীয়দের। তাই মোহাম্মদ ১৬ রান মোহাম্মদ বিদায় নিলে ব্যাটিং প্রমোশন নিয়ে উইকেট আসেন অধিনায়ক জেসন হোল্ডার।
আগের ম্যাচে ২৭ রানে ৫ উইকেট নিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে দুর্দান্ত জয় এনে দেয়া হোল্ডার দ্রুত রান তুলতে থাকেন। ৪টি চার ও ১টি ছক্কায় ভারতীয় বোলারদের লাইন-লেন্থহীন করে দেন হোল্ডার।
কিন্তু দ্বিতীয় স্পেলে বল হাতে নিয়ে জ্বলে উঠেন ভারতের পেসার মোহাম্মদ সামি। টানা তিন ওভারে ৩ উইকেট তুলে নিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে বেকাদায় ফেলে দেন তিনি। ওয়ানডে ক্যারিয়ারে তৃতীয় হাফ-সেঞ্চুরির স্বাদ নিয়ে সাই ৯৮ বলে ৫১, হোল্ডার ৩৪ বলে ৩৬ ও অ্যাশলে নার্স শুন্য রান করে সামির শিকার হন।
নিজের তৃতীয় স্পেলে আরো একটি উইকেট নিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ২শ’র নীচে গুটিয়ে দেয়া পথ তৈরি করে ফেলেন সামি। কিন্তু শেষদিকে রোভম্যান পাওয়েলের ৩২ বলে ৩১ রানের সুবাদে ৯ উইকেটে ২০৫ রানের সংগ্রহ পায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ৪৮ রানে ৪ উইকেট নিয়ে ভারতের সফল বোলার সামি। আরেক পেসার উমেশ ৩ উইকেট নেন ৫৩ রানে।
জয়ের জন্য ২০৬ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে প্রথম ওভারেই ধাক্কা খায় ভারত। ৪ রান করে ফিরে যান ওপেনার শিখর ধাওয়ান। শুরুর ধাক্কাটা শক্ত হাতে সামাল দেন আরেক ওপেনার ইনফর্ম আজিঙ্কা রাহানে ও অধিনায়ক কোহলি। দেখেশুনে খেলে ওভারপ্রতি প্রায় সাড়ে চার করে রান তুলেন বিচ্ছিন্ন হন দু’জনে। ৫টি চারে ৫১ বলে ৩৯ রান করেন রাহানে।
রাহানের বিদায়ে ক্রিজে কোহলির সঙ্গী হন দিনেশ কার্তিক। শেষ পর্যন্ত এই জুটিই ৭৯ বল হাতে রেখে ম্যাচ ও সিরিজ জয় নিশ্চিত করেন। ১০৮ বলে মোকাবেলা করে অবিচ্ছিন্ন ১২২ রান যোগ করেন কোহলি ও কার্তিক।
ওয়ানডে ক্যারিয়ারে ২৮তম সেঞ্চুরির স্বাদ নিয়ে ১১১ রানে অপরাজিত ছিলেন কোহলি। তার ১১৫ বলের ইনিংসে ১২টি চার ও ২টি ছক্কা ছিলো। টার্গেট তাড়া করতে নেমে এই নিয়ে ১৮বার সেঞ্চুরি করলেন কোহলি। এতে ভেঙে গেলো ভারতের মাস্টার ব্লাস্টার ব্যাটসম্যান শচীন টেন্ডুলকারের রেকর্ড। টার্গেট তাড়া করতে নেমে ১৭টি সেঞ্চুরি করে এতোদিন রেকর্ডের মালিক ছিলেন টেন্ডুলকার। তাই টেন্ডুলকারকে পেছনে ফেলে আরো একটি রেকর্ড গড়লেন কোহলি।
অন্যপ্রান্তে ভারতের জার্সি গায়ে ২০১৩ সালের পর অষ্টম হাফ-সেঞ্চুরি তুলে ৫টি চারের সহায়তায় ৫২ বলে ৫০ রানে অপরাজিত ছিলেন কার্তিক। ম্যাচ সেরা হয়েছেন কোহলি। সিরিজ সেরা হন রাহানে। পুরো সিরিজে ৩৩৬ রান করেছেন রাহানে।
ওয়ানডে সিরিজ শেষে এবার একমাত্র টুয়েন্টি-টুয়েন্টি ম্যাচে আগামী ৯ জুলাই জ্যামাইকায় মুখোমুখি হবে ভারত ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
ওয়েস্ট ইন্ডিজ : ৫০ ওভারে ২০৫/৯ (লুইস ৯, কাইল হোপ ৪৬, শাই হোপ ৫১, চেইস ০, মোহাম্মদ ১৬, হোল্ডার ৩৬, পাওয়েল ৩১, নার্স ০, বিশু ৬, জোসেফ ৩*, উইলিয়ামস ০*; শামি /৪৮, উমেশ ৩/৫৩, পান্ডিয়া ১/২৭, জাদেজা ০/২৭, কুলদীপ ০/৩৬, কেদার ১/১৩)
ভারত : ৩৬.৫ ওভারে ২০৬/২ (রাহানে ৩৯, ধাওয়ান ৪, কোহলি ১১১*, কার্তিক ৫০*; জোসেফ ১/৩৯, হোল্ডার ০/৩৫, বিশু ১/৪২, উইলিয়ামস ০/৪০, নার্স ০/৩৪, পাওয়েল ০/৬, চেইস ০/৯)
ফল : ভারত ৮ উইকেটে জয়ী
সিরিজ : ৩-১ ব্যবধানে ভারত জয়ী
ম্যান অব দ্য ম্যাচ : বিরাট কোহলি।
মোহাম্মদী নিউজ এজেন্সী নিউজ – ফিচার – ফটো নেটওয়ার্ক

