ক্ষোভে ফুসছে ইরাক, রণক্ষেত্র বাগদাদ, নিহত ৫
Posted by: News Desk
November 24, 2019
এমএনএ ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক : ক্ষোভে ফুসছে ইরাকের জনগণ। কর্মসংস্থানের সংকট, নিম্নমানের সরকারি পরিষেবা এবং দুর্নীতির অভিযোগ তুলে আজ রবিবারও রাজধানী বাগদাদের রাজপথে বিক্ষোভে নামেন দেশটির সাধারণ মানুষ। ইরাকে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে রবিবার ৫ জন বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন।
আন্দোলনের তৃতীয় দফায় সপ্তাহজুড়ে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে অস্থিরতা বিরাজমান আছে। আজ রবিবার ভোররাত থেকে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে রাজধানী বাগদাদসহ দক্ষিণের শহরগুলোতে আহত হয়েছেন শত শত আন্দোলনকারী। পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রের বরাত দিয়ে এই তথ্য দিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থা রয়টার্স।
পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, আজ রবিবার ভোররাতে বিক্ষোভকারীরা বাগদাদের তিনটি ব্রীজ দখল করে বিক্ষোভ করতে থাকে। এসময় নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা তাদের দিকে কাঁদুনে গ্যাস ও গুলি ছোঁড়ে। এতে তিনজন বিক্ষোভকারীর মৃত্যু ঘটে। এছাড়া গুলি ও টিয়ার গ্যাসের ক্যানিস্টারের আঘাতে ৫০ জনেরও বেশি আহত হয়েছেন।
এদিকে একইদিন দুপুরের দিকে ইরাকের প্রধান সমুদ্র বন্দর আল কাসরের কাছে বাসরায় পুলিশ বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করার জন্য গুলি চালালে দুজন নিহত হন। এ ঘটনায় অন্তত ৭০ জন আহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে, গুলিবিদ্ধ হয়েই ওই ৫ জন বিক্ষোভকারী নিহত মৃত্যুবরণ করেছে। এছাড়া আহতদের অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাই মৃতের সংখ্যা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
ইরাক সরকার গত বৃহস্পতিবার আন্দোলনকারীদের দমন করার জন্য এবং বন্দরগুলোতে তাদের প্রবেশ বন্ধ করার জন্য বন্দরগুলোর প্রবেশপথ বন্ধ করে দেয়। এর প্রতিবাদেই গত শুক্রবার থেকে দেশটিতে সরকারবিরোধী আন্দোলনের তৃতীয় দফা শুরু হয়।
এমন অস্থিরতার মধ্যেই দেশটিতে আকস্মিক সফরে গেছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স। ইরাকের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ফোনালাপের পর পেন্স জানান, চলমান সংকট কাটিয়ে উঠতে যথাযথ পদক্ষেপ নিয়েছে বাগদাদ।
আন্দোলন দমাতে নিরাপত্তা বাহিনী টিয়ার শেল, রাবার বুলেট ছুঁড়লে এতে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। ক্ষোভে শহরের দোকানপাট ও সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ব্যাপক তাণ্ডব চালায় বিক্ষোভকারীরা। উভয়পক্ষের সংঘর্ষে বাগদাদের রাজপথ পরিণত হয় রণক্ষেত্রে। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, বিনা উস্কানিতে তাদের উপর গুলি চালিয়েছে পুলিশ।
তারা বলছে, কোন কারণ ছাড়াই গুলি চালাচ্ছে সরকারী বাহিনী। তবে, আমাদের কাছে কোন অস্ত্র নেই। অধিকারের দাবিতে আন্দোলন করে আসছি আমরা।
আমাদের আন্দোলন শান্তিপূর্ণ। চাকরি নেই, উপার্জনেরও কোন পথ খুঁজে পাচ্ছি না। জীবনের কোন নিরাপত্তা নেই। এভাবে একটা দেশ কিভাবে চলবে।
এমন সংকটের মধ্যেই ইরাকের আনবার প্রদেশের আল-আসাদ বিমান ঘাঁটিতে আকস্মিক সফরে যান মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স। দেশটিতে অবস্থানরত মার্কিন সেনাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তিনি। এছাড়া, ইরাকের চলমান সরকারবিরোধী আন্দোলনের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী আদেল আব্দেল মাহদি। সঙ্গে ফোনালাপের পর মাইক পেন্স জানান, সংকট কাটিয়ে উঠতে দ্রুত চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে ইরাক সরকার।
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স বলেন, ইরাকে সম্প্রতি সহিংস পরিস্থিতির বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ফোনে আলোচনা হয়েছে। তিনি আমাকে আশ্বস্ত করেছেন যে, সহিংসতা কাটিয়ে উঠতে তার সরকার শান্তিপূর্ণ উপায়ে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে সাধারণ মানুষের সুরক্ষা ও তাদের দাবির বিষয়ে ইরাক সরকার সব সময় সচেতন রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট মাহদি।
ইরাকে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভে এ পর্যন্ত নিহত হয়েছেন অন্তত ৩৩৫ জন। গত অক্টোবরেই সরকারি বাহিনীর গুলিতে অন্তত ৩৩০ জন আন্দোলনকারী মৃত্যুবরণ করেছেন সরকার বিরোধী এই আন্দোলনে।
নিহত ৫ ইরাক রণক্ষেত্র ক্ষোভে ফুসছে বাগদাদ 2019-11-24