অনেক ঘটনা ও নাটকীয়তার পর পচা, পোকাযুক্ত, খাবার অনুপযোগী বাকি ২১ হাজার টন গম নিয়ে মংলা বন্দর ত্যাগ করেছে জাহাজ। তবে খালাস হওয়া সাড়ে ৩১ হাজার টন পচা গম কোথায়? আর এই গমের ভাগ্যে কী ঘটেছে সেটাই প্রশ্ন।
বহুল আলোচিত পচা গমের চালান নিয়ে আসা জাহাজ এমভি পিনটেল অবশেষে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ফ্রান্সের উদ্দেশে যাত্রা করেছে। জাহাজটির এই ফিরে যাওয়ার মধ্য দিয়ে প্রমাণিত হল পচা গমের চালানের ঘটনার সত্যতা। এর সঙ্গে আরও যা প্রমাণিত হল তা হচ্ছে পচা গমের বিপদের বিষয়টি। জাহাজটি চট্টগ্রাম ও মংলা বন্দরের উদ্দেশে প্রায় ৫২ হাজার ৫শ’ টন গম নিয়ে এসেছিল গত বছর এপ্রিলে। এপ্রিলের মাঝামাঝি চট্টগ্রাম বন্দরে ভিড়ে সেখানে ৩১ হাজার ৫শ’ টন গম খালাস করে। এরপর ২২ অক্টোবর ভিড়ে মংলা বন্দরে।
বর্তমানে দেশে উৎপাদিত উদ্বৃত্ত চাল বিদেশেও রফতানি হচ্ছে। অথচ বিদেশ থেকে পচা গম কেনার আয়োজন জন্ম দিয়েছে নানা প্রশ্নের। এই পোকাযুক্ত, পচা, খাবার অনুপযোগী গম আমদানির সিদ্ধান্ত যে ‘উর্বর মস্তিষ্ক’ প্রসূত, সেই উর্বর মস্তিষ্কে খালাস হওয়া গম ‘সার’ হিসেবে ব্যবহার করা গেলে হয়তো জাতি ভবিষ্যতে তাদের এমন ন্যক্কারজনক দুর্নীতি থেকে মুক্ত হতো! কিন্তু সেটি যেহেতু সম্ভব নয়, সেহেতু বাংলাদেশে খালাস হওয়া এই গমের কী পরিণতি ঘটেছে, সেটাই চিন্তার বিষয়। খাদ্য বিভাগ পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর এ গম খাওয়ার অনুপযোগী হিসেবে খালাস না করার সিদ্ধান্ত দেয়ার পরও খালাস হওয়া সাড়ে ৩১ হাজার টন গম কোথায় ও কীভাবে আছে, তারা তা জানে না বলে জানিয়েছে।
আমরা জানি, সরকারি কেনাকাটায় স্বার্থাম্বেষী মহলের স্বার্থ থাকে। সেই স্বার্থ উদ্ধারের জন্য কেনাকাটাকারীরা সরকারকেও বিপদে ফেলতে যেমন কুণ্ঠিত বোধ করে না, তেমনি জনগণকেও বিপদে ফেলা তাদের হাতে খোলামকুচির বিষয় মাত্র। কোনো সন্দেহ নেই, এই খাওয়ার অনুপযোগী, পচা, নষ্ট, পোকাযুক্ত গম এখন কোনো না কোনো পদ্ধতিতে জনগণের ঘাড়েই গছিয়ে দেয়ার চেষ্টা চালাবে ওই চক্রটি। সেটা ভালো গমের সঙ্গে মিলিয়ে আটা তৈরি করেই হোক কিংবা রুটি তৈরি করে। আর বলাই বাহুল্য, তা ক্রয় করবে ক্রয়ক্ষমতায় দুর্বল গরিব মানুষরা এবং তারা আক্রান্ত হবে রোগ-ব্যাধিতে। তাতে ওই পচা গম ক্রয় উদ্যোগের নেপথ্যের মানুষদের কিছুই যায় আসবে না। কারণ পচা গম খেয়ে কার কী ক্ষতি হল, তা নিয়ে তারা কখনও মাথা ঘামায় না।
আমরা গভীর উদ্বেগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানাই, জনস্বার্থে জরুরিভাবে চট্টগ্রাম বন্দরে খালাস করা সাড়ে ৩১ হাজার টন পচা গম কোথায় কার জিম্মায় আছে সেটা অনুসন্ধান করে বের করুন। একই সঙ্গে যারা এই খাওয়ার অনুপযুক্ত গম আমদানির নেপথ্যে থেকে গম খালাসের ঘটনা ঘটিয়ে সরকার ও রাষ্ট্রকে বিপদের মুখে ঠেলে দিয়েছে, তাদের শনাক্ত করে কঠোর শাস্তি প্রদানের ব্যবস্থা করুন। সমাজে মিশে থাকা এ দুর্নীতিবাজদের প্রশ্রয় দিলে সবাই বিপন্ন হবে।
-সম্পাদক
মোহাম্মদী নিউজ এজেন্সী নিউজ – ফিচার – ফটো নেটওয়ার্ক



